যদি ভাত বেড়ে দেয় রোবট?
সুপর্ণ মুখোপাধ্যায়
রোবট কি মানুষের মতো সব কাজ করতে পারে? এই প্রশ্নটা বহু দিনের এ নিয়ে চর্চাও নেহাত কম হয়নি। মানুষের বিকল্প হিসেবে রোবটের ব্যবহারও সারা বিশ্বে বাড়ছে। কোথাও রোবট ককটেল পানীয় তৈরি করছে। কোথাও আবার মানুষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ম্যারাথন দৌড়চ্ছে। কেউ আবার অবলীলায় ইস্ত্রি করা জামাকাপড় ভাঁজ করে ফেলছে। রোবটের বিপণন বা বিজ্ঞাপনে যাই বলা হোক না কেন মানুষের মতো দেখতে রোবট যার পোশাকি নাম হিউম্যানয়েড কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই মানুষের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। সম্প্রতি বোস্টনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রোবটিক্স সামিট’। এতে সারা বিশ্বের বেশ কিছু হিউম্যানয়েড প্রদর্শিত হয়েছিল। সেখান থেকে যে যে তথ্য উঠে এসেছে, তাতে স্পষ্ট, এখনও রোবট মানুষের সঙ্গে সবক্ষেত্রে পাল্লা দিতে প্রস্তুত নয়।
এই সামিটে হিউম্যানয়েডের একাধিক ব্রোশিয়ারে যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিল, তার অনেকটাই মেলেনি। এলন মাস্ক তাঁর ‘অপটিমাস’ প্রোটোটাইপের প্রদর্শন করেছেন এই সামিটে। দেখা যাচ্ছে সেটি ছোট ছোট পা-ফেলে জগিং করছে। এ ছাড়াও ‘ফিগার এআই’-এর তৈরি তৃতীয় প্রজন্মের রোবট ‘ফিগার ০৩’ ঘর পরিপাটি করে রাখছে। ঘর পরিষ্কার করার কাজেও সেটি সিদ্ধহস্ত। এর পাশাপাশি চিনের ‘অ্যাজিবট’ এবং ‘ম্যাট্রিক্স রোবোটিক্স’ দাবি করেছে যে, তাদের রোবটগুলো অতিথিদের আপ্যায়ন করতে পারে। কফি মেশিন থেকে কফি দিতে পারে। অতিথিদের বাড়ির চারপাশ ঘুরিয়ে দেখাতে পারে। তবে রোবট তৈরি করা বেশিরভাগ সংস্থাই জানাচ্ছে, যে সব হিউম্যানয়েড রয়েছে, সেগুলির বেশির ভাগই দূর-নিয়ন্ত্রিত, সেগুলোর কাজ করার নির্দিষ্ট একটা ক্ষেত্র নির্ধারণ করা আছে মাত্র। এর চেয়ে বেশি কোনও কাজ এরা করতে পারে না। এবং সর্বোপরি এগুলি ছোট ছোট কাজ করার জন্যই তৈরি। উদাহরণ হিসেবে ‘নিও’ রোবটটির কথাই ধরা যাক। গত অক্টোবরে ‘১এক্স’ কোম্পানি জাঁকজমকের সঙ্গে এটি বাজারে এনেছিল। সংস্থা বিজ্ঞাপনে জানিয়েছিল, এই রোবট বাড়ির সব কাজ করতে পারে। তবে দেখা যাচ্ছে এটি পরিচালনা করছেন একজন মানুষই।
এর থেকে প্রশ্ন উঠছে, রোবট কি আদৌ মানুষের বিকল্প কোনও দিনই হয়ে উঠতে পারবে না? এর উত্তরে রোবট প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলো জানাচ্ছে, প্রযুক্তি যে ভাবে এগোচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যে ভাবে বিকাশ হচ্ছে, তাতে রোবট কিন্তু এগোচ্ছে। তবে সেই এগিয়ে যাওয়াটা মানুষের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো কি না, তা নিয়ে নানা মত রয়েছে। একদল বিশেষজ্ঞ বলছেন, এটা সময়ের অপেক্ষা মাত্র। অন্য এক দল বলছে, রোবট এখনও এতটাও এগোয়নি, যে আর যাই হোক মানুষের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে।
তবে সারা বিশ্বে রোবট তৈরির কাজ কিন্তু পিছিয়ে নেই। হুন্ডাইয়ে বোস্টন ডায়নামিক্সের ‘অ্যাটলাস’, কিংবা বিএমডব্লিউ-র একটি কারখানায় হেক্সাগন রোবোটিক্সের ‘ইয়ন’-এর পরীক্ষামূলক ব্যবহার চলছে। তবে এখনও এই রোবটগুলি চূড়ান্ত রূপ পায়নি।
সব মিলিয়ে রোবট এবং মানুষের মধ্যে লড়াইটা কিন্তু চলছেই। কে কখন এগিয়ে যাবে, সেটা সময়ই বলবে।