সেন্সর বোর্ডে আটকে সলমনের ‘মাতৃভূমি’, নেপথ্যে চিন? | Salman khan maatrubhumi movie cbfc clearance issue china controversy
বলিউড সুপারস্টার সলমন খানের আগামী ছবি ‘মাতৃভূমি’ (Maatrubhumi) নিয়ে জট যেন কিছুতেই কাটছে না। একের পর এক ধাক্কায় ছবিটির ভবিষ্যৎ এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে। সাম্প্রতিক এক রিপোর্ট অনুযায়ী, সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (CBFC) বা ভারতের সেন্সর বোর্ড ছবিটির ছাড়পত্র (Clearance Certificate) সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে। তবে এই শংসাপত্র সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে ছবির নির্মাতা বা প্রযোজকদের পক্ষ থেকে এখনও কোনও সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, এই ছবিটির আদি নাম ছিল ‘ব্যাটল অব গালওয়ান’ (Battle of Galwan)। চলতি বছরের এপ্রিল মাসেই ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সেই সময় ছবির মুক্তি পিছিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ছবিটির নাম পরিবর্তন, বেশ কিছু দৃশ্যের পুনর্নির্মাণ (Reshoot) এবং এবার সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র আটকে যাওয়ার খবর সামনে আসায় ছবিটি ঘিরে ধোঁয়াশা আরও বাড়ল। নির্মাতারা এখনও নতুন কোনও মুক্তির তারিখ ঘোষণা করেননি।
আটকে গেল কেন? নেপথ্যে কি ‘চীন’ বিতর্ক?
সূত্রের খবর অনুযায়ী, সিবিএফসি ‘মাতৃভূমি’র সার্টিফিকেশন আপাতত হোল্ড বা স্থগিত করে রেখেছে। যদিও এই বিষয়ে টিম সলমন সম্পূর্ণ নীরব। তবে বলিপাড়ার ভেতরের খবর, ছবিটির নাম বদল এবং বেশ কিছু অংশ নতুন করে শুটিং করার পেছনে একটি বড় কারণ ছিল। গুঞ্জন উঠেছিল, ছবিতে ‘চীন’ (China) শব্দটি ব্যবহার না করার জন্য নির্মাতাদের ওপর এক প্রকার নির্দেশ ছিল। যদিও এই খবরেরও কোনও অফিশিয়াল সিলমোহর মেলেনি।
পূর্বে শোনা গিয়েছিল, এপ্রিলের পর আগামী আগস্ট মাসে স্বাধীনতা দিবসের সপ্তাহে ছবিটি বড় পর্দায় আসতে পারে। কিন্তু নতুন করে সেন্সর জটে পড়ায় আগস্টে মুক্তি আদেও সম্ভব কি না, তা নিয়ে খোদ সলমন-ভক্তরাই সংশয়ে রয়েছেন।
কী বলছেন পরিচালক অপূর্ব লাখিয়া?
ছবিটি পরিচালনা করেছেন ‘জঞ্জির’ ও ‘শুটআউট অ্যাট লোখান্ডওয়ালা’ খ্যাত পরিচালক অপূর্ব লাখিয়া। ছবিতে সলমন খানের পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে চিত্রাঙ্গদা সিং-কে।
ছবিটির নাম বদল নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক প্রসঙ্গে পরিচালক অপূর্ব লাখিয়া আগেই জানিয়েছিলেন, “সলমন স্যারের ভক্তদের কাছে এই নাম বদলটা হঠাৎ মনে হতে পারে, কিন্তু এটা রাতারাতি নেওয়া কোনও সিদ্ধান্ত ছিল না। একদম শুরু থেকেই আমরা দুটি নাম রেজিস্টার করে রেখেছিলাম— ‘ব্যাটল অব গালওয়ান’ এবং ‘মাতৃভূমি’। ছবিটা তৈরি করার সময় আমরা উপলব্ধি করি যে এটি শুধু একটা যুদ্ধের গল্প নয়। এর গভীরে লুকিয়ে রয়েছে মানবিকতা, সহানুভূতি এবং আমাদের দেশের সৈনিকদের এক নীরব লড়াইয়ের কাহিনী।”
পরিচালক আরও যোগ করেন, “‘মাতৃভূমি: মে ওয়ার রেস্ট ইন পিস’ (Maatrubhumi: May War Rest in Peace)—এই নামটি গল্পের আবেগ ও আত্মত্যাগকে অনেক বেশি সততার সঙ্গে ফুটিয়ে তোলে। সংঘাতের মাঝেও কীভাবে মানবিকতাকে বাঁচিয়ে রাখা যায়, তা-ই দেখাবে এই ছবি। ছবিতে এই নামের একটি গানও রয়েছে, যা দর্শকরা অত্যন্ত পছন্দ করেছেন। তাই সব মিলিয়ে এই নামটাই আমাদের সবচেয়ে উপযুক্ত মনে হয়েছে।”
এখন দেখার, সেন্সর বোর্ডের এই ‘লাল ফিতে’র ফাঁস কাটিয়ে সলমন খানের ‘মাতৃভূমি’ কবে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আলো দেখে।