সুগারু অভিযান কালনার জলকন্যা সায়নীর, লাইভ স্ট্রিমিংয়ের ব্যবস্থা প্রশাসনের
এই সময়, কালনা: ঐতিহাসিক মুহূর্তের সন্ধিক্ষণই বলা চলে। আজ, শনিবার সেই মুহূর্তের অপেক্ষায় কালনার সঙ্গে গোটা পূর্ব বর্ধমান জেলাও। কালনার মেয়ে সায়নী দাস জাপানের সুগারু চ্যানেল পার হলেই ভারতের প্রথম মহিলা সাঁতারু হিসেবে সপ্তসিন্ধু জয়ের শিরোপা উঠবে তাঁর মাথায়।
সেই আনন্দ যাতে সবাই ভাগ করে নিতে পারেন, তার জন্য লাইভ স্ট্রিমিংয়ের ব্যবস্থা করেছে পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন। জেলাশাসক শ্বেতা আগরওয়ালের নির্দেশে জেলার বিভিন্ন স্কুলে তা দেখানোর ব্যবস্থাও হয়েছে। সায়নীর ফেসবুক লাইভ প্রোজেক্টরের মাধ্যমে দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। কালনার পুরশ্রী হলে শনিবার সকাল ১০টা থেকে তা দেখানো হবে সাধারণ মানুষকে। বর্ধমান শহরেও তিনটি এলইডি স্ক্রিনের মাধ্যমে দেখানো হবে সায়নীর সুগারু পার হওয়ার সরাসরি সম্প্রচার। সেখানে লাইভ স্ট্রিমিংয়ের সঙ্গে সায়নীর ইন্ট্রোডাক্টারি ভিডিয়ো দেখানোর কথা বলা হয়েছে।
জাপানের সুগারু চ্যানেল জয়ের লক্ষ্যে ভারতীয় সময় শুক্রবার মধ্যরাত ১২.৪১ মিনিটে (জাপানের সময় অনুযায়ী শনিবার ভোর ৪.১১ মিনিট) নামছেন সায়নী। ইতিমধ্যে সায়নীর সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হয়েছে ইংলিশ চ্যানেল, ক্যাটালিনা চ্যানেল, মলোকাই চ্যানেল , কুক প্রণালী, নর্থ চ্যানেল, জিব্রাল্টার প্রণালী জয়ের পালক। রাতে স্টার্টিং পয়েন্ট হনসুর কোদোমারি পোর্ট পৌঁছে নির্ধারিত সময়ে জলে নামবেন সায়নী। সোজাসুজি দূরত্ব সরকারি ভাবে ১৯.৫ কিমি হলেও তীব্র জলস্রোত এড়াতে চ্যানেল পার হওয়ার জন্য ঘুরপথে সায়নীকে প্রায় ১৫ ঘণ্টা সাঁতরাতে হবে ৫০ কিমি দূরত্ব অতিক্রম করতে।
কালনা শহরের হিন্দু বালিকা বিদ্যালয়ে প্রোজেক্টরের মাধ্যমে দেখানো হবে লাইভ স্ট্রিমিং। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফাল্গুনী মল্লিক বলেন, ‘কালনার জলকন্যা আমাদের গর্ব। সমস্ত মেয়েদের অনুপ্রেরণা। শনিবার বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সঙ্গে আমরাও দেখব ওর সপ্তসিন্ধু জয়।’ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী প্রজ্ঞাপারমিতা দত্ত বলছে, ‘কালনার মেয়ে হিসাবে আমরাও গর্বিত। সায়নীর সপ্তসিন্ধু জয় আমাদের অনুপ্রাণিত করবে।’
সায়নী ইন্ট্রোডাক্টারি ভিডিয়োয় সকলের আশীর্বাদ প্রার্থনা করেছেন, যাতে প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসাবে তিনি সাতসমুদ্র জয়ের খেতাব জিততে পারেন।