ECI on TMC Split: নির্বাচন কমিশনের সামনে রয়েছে তিনটি ধাপ, কীভাবে বেছে নেওয়া হবে 'আসল তৃণমূল'? | Mamata Banerjee Or Ritabrata Banerjee Election Commission of India to Decide Who is Actual TMC, 3 Steps will be Deciding Factors - 24 Ghanta Bangla News
Home

ECI on TMC Split: নির্বাচন কমিশনের সামনে রয়েছে তিনটি ধাপ, কীভাবে বেছে নেওয়া হবে ‘আসল তৃণমূল’? | Mamata Banerjee Or Ritabrata Banerjee Election Commission of India to Decide Who is Actual TMC, 3 Steps will be Deciding Factors

Spread the love

নয়া দিল্লি: কে আসল, কে নকল। তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) নিয়ে এটাই এখন প্রশ্ন। একদিকে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-পন্থীরা। অন্যদিকে রয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee)-নেতৃত্বে বিক্ষুব্ধ শিবির, যারা বিধানসভা নির্বাচনের পরই দল থেকে আলাদা হয়েছেন এবং নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করছেন। এবার এই আসল তৃণমূল কে, তার-ই বিচার করবে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আগামী সোমবার, ৬ জুলাই পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে দুই শিবিরকে। তাদের ওই দিনে বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে যাবতীয় প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট বা নথি জমা দিতে হবে। তারপরে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) কী করবে?  কমিশনের সামনে রয়েছে তিনটি ধাপ। এই তিনটি ধাপেই নির্ধারণ করা হবে, কে আসল তৃণমূল কংগ্রেস। 

  প্রথম ধাপ-

৬ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টা অবধি সময় দেওয়া হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শিবিরকেই। তাদের এই সময়ের মধ্যে যে ডকুমেন্টগুলি জমা দিতে হবে, তা হল সংগঠনের কর্তৃত্ব, নেতৃত্ব বাছাই করার কর্তৃত্ব এবং অথারাইজড সিগনেটরি করার ক্ষমতা কার কাছে আছে, তা জানাতে হবে। দল সংক্রান্ত সমস্ত নথিই জমা দিতে হবে।

অথারাইজড সিগনেটরি কী?

জাতীয় নির্বাচন কমিশনে জানাতে হয় যে কোন ব্যক্তির স্বাক্ষর বৈধ। কোনও রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত বা আবেদন করার ক্ষেত্রে একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তি থাকেন, যাকে এই অধিকার দেওয়া হয়। এই সই করবেন, সেটা জানাতে হয় কমিশনকে। তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হবে, ওই ডেসিগনেটেড ব্যক্তি বা অথারাইজড সিগনেটরি (Authorized Signatory) কোন শিবিরে আছেন।

দ্বিতীয় ধাপ-

এর পরের ধাপ হল হিয়ারিং (Hearing)। তৃণমূল কংগ্রেসের দুই পক্ষকে আলাদা করে হিয়ারিংয়ে ডাকা হবে। একাধিকবার হিয়ারিংয়ের জন্য ডাকা হতে পারে। দুই পক্ষই তাদের আইনজীবীদের নিয়ে যেতে পারেন এই হিয়ারিংয়ে। কমিশনের সামনে তারা নিজেদের বক্তব্য জানাবে। প্রমাণ করার চেষ্টা করবে যে তারাই আসল তৃণমূল।

তৃতীয় ধাপ-

এটিই শেষ ধাপ। যাবতীয় নথি পর্যালোচনা করে এবং দুই পক্ষের বয়ান শোনার পর জাতীয় নির্বাচন কমিশন তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে যে আসল তৃণমূল কংগ্রেস কারা।

উল্লেখ্য, এই গোটা প্রক্রিয়া চলাকালীন তৃণমূল কংগ্রেসের জোড়াফুল প্রতীক ও নাম ফ্রিজ করে দেওয়া হবে। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে দুই পক্ষকে একটি করে অস্থায়ী সিম্বল ও নাম দেওয়া হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত কোন পক্ষ বৈধ, তা নির্ধারণ হচ্ছে।

শিবসেনা-এনসিপির ক্ষেত্রে যা হয়েছিল-

তৃণমূল কংগ্রেসের এই ভাঙনের আগে জাতীয় রাজনীতি আরও দুটি বড় রাজনৈতিক দলে ভাঙন দেখেছিল। ২০২৩ সালে শিবসেনা ভেঙে দুই খণ্ড হয়ে যায়। তৈরি হয় শিবসেনা ও শিবসেনা (ইউবিটি)। একইভাবে শরদ পওয়ারের এনসিপি-ও ভেঙে দুই টুকরো হয়। শরদ পওয়ারের এনসিপি ও অজিত পওয়ারের এনসিপি তৈরি হয়। দুই ক্ষেত্রেই অর্থাৎ শিবসেনা ও এনসিপির ভাঙনের ক্ষেত্রে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল দুই শিবির। তখনও তাদের প্রতীক ও নাম ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছিল।

তবে শিবসেনা ও এনসিপি ভাঙনের মধ্যে মূল একটি পার্থক্য রয়েছে। শিবসেনার ক্ষেত্রে অভিযোগ ছিল, সাংগঠনিক কাঠামো স্পষ্ট নয়। সঠিক সময়ে সাংগঠনিক নির্বাচন হয়নি, কাগজপত্র সঠিক ছিল না। এনসিপির ক্ষেত্রে সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে কোনও প্রশ্ন ছিল না। তখন নির্বাচন কমিশন কোন পক্ষে সাংসদ, বিধায়ক ও সাংগঠনিক নেতারা রয়েছেন, সেই বিচারে আসল-নকলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষেত্রেও একইভাবে বিধায়ক, সাংসদের সংখ্যার বিচারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কে আসল তৃণমূল।

এরপরে তৃণমূল কংগ্রেসের যে কোনও শিবির সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারে। সেক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

শিবসেনা-এনসিপির থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙন আলাদা কোথায়?

তিন দলই ভাঙনের মুখে পড়েছে। তবে তৃণমূলের সঙ্গে সবথেকে বড় পার্থক্য হল এরা (ঋতব্রত শিবির) শুধুমাত্র পরিষদীয় দলের প্রেক্ষিতে আবেদন করেছে। যদিও সূত্রের খবর, এরা জেলা পরিষদ ও অন্যান্য সংগঠনের কথাও উল্লেখ করেছে কমিশনের কাছে।

শিবসেনার ভাঙনের সময় দুটি মামলা হয়েছিল। একটি স্পিকারের বিরুদ্ধে। আরেকটি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে, যার শুনানি এখনও চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *