চিন-পাকিস্তান সীমান্তে নজর! সেনার হাতে আসছে ‘কে-৯ বজ্র’ ও ‘কামিকাজে’ ড্রোন
নয়াদিল্লি: দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী এবং আধুনিক করে তোলার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রের সরকার। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে আয়োজিত…
নয়াদিল্লি: দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী এবং আধুনিক করে তোলার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রের সরকার। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে আয়োজিত ‘ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল’ (DAC)-এর বৈঠকে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হল। চিন ও পাকিস্তান সীমান্তে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের কথা মাথায় রেখে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণের ওপর জোর দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। (India Defence Acquisition Council Approval)
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, সেনাবাহিনীর জন্য একাধিক অত্যাধুনিক প্রযুক্তির অস্ত্রের সংস্থান করার দিকে নজর দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-
কে-৯ বজ্র (K-9 Vajra): পাহাড়ি এলাকা ও মরুভূমিতে কার্যকর, এমন প্রায় ৩০০টি অতিরিক্ত সেলফ-প্রপেলড হাউইটজার কেনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভারতীয় মাটিতে তৈরি এই হাউইটজার বাহিনীর গোলন্দাজ শক্তিকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে তুলবে।
কামিকাজে ড্রোন (Loitering Munitions): আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর এই আত্মঘাতী ড্রোনের ওপর ভরসা রাখছে ভারতীয় সেনা। এই ড্রোন লক্ষ্যবস্তুর উপরে অনেকটা সময় আকাশে ভেসে থেকে নির্দিষ্ট সময়ে নির্ভুল হামলা চালাতে সক্ষম।
ভার্বা ম্যানপ্যাডস (Verba MANPADS): আকাশপথে শত্রুঘাঁটি বা ড্রোন মোকাবিলায় রাশিয়ার প্রযুক্তিতে তৈরি এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এয়ার ডিফেন্স কোরকে আরও মজবুত করবে।
অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল: ডিআরডিও-র নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রায় ২,৩০০টি অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল এবং ১০০টি লঞ্চার সংগ্রহের পথে হাঁটছে সরকার।
পাশাপাশি, বায়ুসেনার রাফাল ও তেজস যুদ্ধবিমানের জন্য ৬০০টি ‘হ্যামার’ (HAMMER) প্রিসিশন-গাইডেড মিউনিশন সংগ্রহের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক টর্পেডো ও ডুবোজাহাজ বিরোধী সরঞ্জাম সংগ্রহের প্রক্রিয়াও শুরু হচ্ছে।
সন্ত্রাসে রাশ, স্বনির্ভর ভারত
উল্লেখ্য, এটিই প্রথম ডিএসি বৈঠক যেখানে নতুন সামরিক নেতৃত্ব, চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) জেনারেল অনিল চৌহান, সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কে ত্রিপাঠি এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং একইসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, এই বিশাল বরাদ্দ শুধু অস্ত্র কেনার জন্যই নয়, বরং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের আকস্মিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় ও আধুনিক যুদ্ধ কৌশলে ভারতীয় ফৌজকে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে রাখবে এই পদক্ষেপ। এদিন ‘অ্যাকসেপ্টেন্স অফ নেসেসিটি’ (AoN) প্রদানের মাধ্যমে কেনাকাটার প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। এরপরই শুরু হবে টেন্ডার ও চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া।