খামেনির মৃত্যুতে আরও ভাল করে শোক প্রকাশ করা উচিত! মোদীকে শিষ্টাচার শেখালেন শশী - 24 Ghanta Bangla News
Home

খামেনির মৃত্যুতে আরও ভাল করে শোক প্রকাশ করা উচিত! মোদীকে শিষ্টাচার শেখালেন শশী

Spread the love

নয়াদিল্লি: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলি খামেনির (Shashi Tharoor)অন্ত্যেষ্টি অনুষ্ঠান নিয়ে ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। কংগ্রেস নেতা শশী থারুর বলেছেন, এমন…

নয়াদিল্লি: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলি খামেনির (Shashi Tharoor)অন্ত্যেষ্টি অনুষ্ঠান নিয়ে ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। কংগ্রেস নেতা শশী থারুর বলেছেন, এমন একজন প্রবীণ ও গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক নেতার মৃত্যুতে সাধারণত আরও উঁচু মাত্রায় শোকপ্রকাশ করা উচিত ছিল। তাঁর এই মন্তব্য দেশের বিদেশ নীতি ও কূটনৈতিক শিষ্টাচার নিয়ে আলোচনা শুরু করে দিয়েছে।

থারুর বলেন, “সাধারণত যখন এমন একজন শীর্ষ নেতা, যিনি দেশের প্রধান আধ্যাত্মিক নেতা, পরলোকগমন করেন, তখন আরও উন্নত মানের শোকবার্তা প্রকাশ করা যেতে পারত এবং করা উচিত ছিল।” তিনি উল্লেখ করেন যে, পরে অবশ্য একটি প্রতিনিধি দল পাঠানো হয়েছে এবং কংগ্রেস পার্টির পক্ষ থেকে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু সলমান খুরশিদসহ অন্যরা সেখানে যোগ দিয়েছেন।

আরও দেখুনঃ মধ্যপ্রদেশে গোটা গ্রাম চাই মুসলিমদের! হিন্দু দেবালয়কে কবরস্থান বলে ওয়াকফে ঢোকানোর দাবি

থারুরের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতিতে চলে যাওয়া ব্যক্তির প্রতি সম্মান দেখানো অত্যন্ত জরুরি।তিনি আরও যোগ করেন, “মাদার টেরেসার অন্ত্যেষ্টিতে কিংবা রাজীব গান্ধীর হত্যার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা ভারতে এসেছিলেন। এটি একটি স্বাভাবিক প্রথা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে গিয়ে শোকপ্রকাশ করা এবং মৃত আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো খুবই সাধারণ বিষয়। আমি মনে করি, এ নিয়ে বড় রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি করা উচিত নয়।”

খামেনির মৃত্যু হয়েছে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায়। এরপর ভারত সরকারের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে তাৎক্ষণিক উচ্চপর্যায়ের শোকবার্তা না আসায় বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। পরে বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি ইরানি দূতাবাসে গিয়ে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন। কিন্তু থারুরের মতে, প্রথম দিনেই এই শোকপ্রকাশ আরও উঁচু মাত্রায় হওয়া উচিত ছিল।

আরও দেখুনঃ ‘রামমন্দিরের টাকায় দল ভাঙার খেলা চলছে’, বিজেপি’কে তুলোধোনা সৌগতর

ইরানের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অন্ত্যেষ্টি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সরকারের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে কংগ্রেস পার্টির হয়ে সলমান খুরশিদ অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। খুরশিদ বলেছেন, তিনি দলের প্রতিনিধিত্ব করতে বিশেষ ফ্লাইটে করে ইরান যাচ্ছেন এবং অন্ত্যেষ্টির সব অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গে নিজে যেতে না পারায় খুরশিদকে মনোনীত করেছেন।

থারুরের এই বক্তব্যকে কেউ কেউ কূটনৈতিক শিষ্টাচারের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। আবার অনেকে মনে করছেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শোকপ্রকাশের মাত্রা নির্ভর করে দেশের স্বার্থ, নিরাপত্তা ও কৌশলের ওপর। খামেনি ইরানের দীর্ঘদিনের নেতা ছিলেন। তাঁর মৃত্যু ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আঞ্চলিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের মতো দেশের ভূমিকা কী হওয়া উচিত, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

ভারত ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, জ্বালানি ও সাংস্কৃতিক বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে মনে করেন, কূটনৈতিকভাবে শ্রদ্ধা জানানোর মাধ্যমে সম্পর্ক আরও মজবুত করা যায়। আবার কেউ কেউ বলছেন, খামেনির শাসনকালে ইরানের কিছু নীতির কারণে ভারত সতর্ক অবস্থান নিয়েছিল।

থারুরের মন্তব্যের পর বিজেপি শিবির থেকে প্রতিক্রিয়া এসেছে। অনেকে বলছেন, কংগ্রেস সবসময় ইসলামি দেশগুলোর প্রতি ‘নরম’ অবস্থান নেয়। অন্যদিকে কংগ্রেসের সমর্থকরা বলছেন, থারুর কূটনীতির মৌলিক নিয়মের কথা বলেছেন। মাদার টেরেসা কিংবা রাজীব গান্ধীর উদাহরণ টেনে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, মৃত্যুর পর রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে মানবিকতা ও সম্মান দেখানো উচিত।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *