ঋতব্রত বেরোনোর পরই চমক, পাঁচ মিনিটেই হাজির কুণাল, শুরু নতুন নাটকীয় অধ্যায়
সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টার কিছু পর মেট্রোপলিটন তৃণমূলের কার্যালয়ে (TMC office) আচমকাই পৌঁছে যান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা। তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম…
সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টার কিছু পর মেট্রোপলিটন তৃণমূলের কার্যালয়ে (TMC office) আচমকাই পৌঁছে যান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা। তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম এবং জাভেদ খানও। এই হঠাৎ উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তৈরি হয় রাজনৈতিক উত্তেজনা ও কৌতূহল।
কার্যালয়ে(TMC office) ঢুকেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, “আমরাই আসল তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালনা করছি। প্রতীক, দল এবং পার্টি অফিস সবই আমাদের।” তিনি আরও বলেন, মেট্রোপলিটন অঞ্চলের এই কার্যালয় থেকেই রাজ্য জুড়ে দলের বিভিন্ন কর্মসূচি এবং সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হয়। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এই ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
প্রসঙ্গত, তিনতলা বিশিষ্ট এই ভবনটি নিয়ে (TMC office) আগে থেকেই আইনি জটিলতা চলছিল বলে জানা যায়। পালাবদলের পর ভবনের মালিক আদালতের দ্বারস্থ হন এবং বিষয়টি নিয়ে মামলা শুরু হয়। সেই প্রেক্ষিতেই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে কার্যালয়ের দখল ও পরিচালনা ঘিরে। ঋতব্রত আগেই দাবি করেছিলেন, ভবনের মালিকের সঙ্গে তাঁদের (TMC office) আলোচনা হয়েছে এবং আপাতত কার্যালয়ের কাজকর্ম তাঁরাই পরিচালনা করবেন।
সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টার কিছু পরে চারতলা ভবনের দোতলায় গিয়ে দেখা যায়, পাশাপাশি দুটি ব্যানার লাগানো রয়েছে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সম্বলিত ব্যানার, অন্যদিকে আরেকটি ব্যানারে চেয়ারম্যান অরূপ রায়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এই দুই ভিন্ন ব্যানার একই জায়গায় থাকায় আরও জল্পনা ছড়ায় রাজনৈতিক মহলে। দোতলার কাচের ঘরে বসে প্রথমে বৈঠকে বসেন ঋতব্রতপন্থীরা, পরে বাঁ দিকের ঘরে আরও একটি আলোচনা শুরু হয়।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন ওঠে একই অফিসে (TMC office) পাশাপাশি দুই ধরনের ব্যানার কেন? এটি কি কেবলমাত্র সাংগঠনিক উপস্থিতি দেখানোর চেষ্টা, নাকি দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের ইঙ্গিত? এই প্রশ্নের জবাবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যাখ্যা দেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আমাদের প্রধান পরামর্শদাতা। তাঁর আদর্শেই আমরা চলি। মণীষীদের সম্মান জানাতে আমরা তাঁদের ছবিও ব্যবহার করেছি।”
অন্যদিকে, আখরুজ্জামান স্পষ্টভাবে দাবি করেন, “এটি আমাদেরই অফিস। আমরা এখানে বসেছি এবং এখান থেকেই দলের সমস্ত কাজ পরিচালনা করা হবে। মালিক আমাদের চাবি দিয়েছেন, আমরা সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয় যে, ভবনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাঁদের পক্ষের অবস্থান দৃঢ়।
এরপর প্রায় পৌনে সাতটার দিকে পার্টি অফিসে প্রবেশ করেন ফিরহাদ হাকিম। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, (TMC office) “পার্টি অফিসে এসে ভালো লাগছে। আমি তো আগে নিয়মিতই আসতাম, নির্বাচনের কারণে কিছুদিন আসা হয়নি।” তবে বর্তমান পরিস্থিতি এবং আগের অবস্থার মধ্যে পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি মন্তব্য এড়িয়ে যান এবং সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছু বলব না।” ঠিক তার পাঁচ মিনিটের মধ্যে মেট্রোপলিটনে পৌঁছয় কালীঘাট তৃণমূল। তালা খুলে দখলমুক্ত করতে পৌঁছলেন কুণাল ঘোষরা।