হরমুজ়ে গুলি এসে বিঁধল জাহাজে, দীর্ঘ পথ পেরিয়ে পারাদ্বীপে পৌঁছল ভারতীয় তেলবাহী ভেসেল
চারদিক থেকে চলছিল গুলি। মাঝে মাঝে ছুটে আসছিল মিসাইল। এমনই গোলাগুলির মধ্যেই প্রাণ হাতে করে হরমুজ় পার হয়েছে ভারতীয় তেলবাহী জাহাজ। পশ্চিম এশিয়ার এমন উত্তেজক পরিস্থিতিতে হরমুজ় পার করা যে কতটা ঝুঁকির তা গত কয়েক মাসে বার বার প্রমাণিত। বিপদ পেরিয়ে অবশেষে বৃহস্পতিবার ভারতের পারাদ্বীপ বন্দরে নোঙর ফেলল ভারতের তেলবাহী জাহাজ এমটি স্যানমার হেরাল্ড (MT Sanmar Herald)।
জানা গিয়েছে, জ্বালানি তেল ভর্তি এই জাহাজটি হরমুজ়ে গোলাগুলিতে ক্ষতিগ্রস্তও হয়। তবে গুলির আঘাতে ক্ষতির মুখে পড়লেও দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে যাত্রা সম্পূর্ণ করে এমটি স্যানমার হেরাল্ড।
জাহাজটি ইরাকের বসরা বন্দর থেকে ভারতে রওনা দিয়েছিল। হরমুজ় প্রণালী অতিক্রম করার সময়ে আচমকা জাহাজের কাছেই গুলির লড়াই শুরু হয়ে যায়। সেই সময়ে গুলির মাঝে পড়ে জাহাজের গায়ে কিছু গুলি এসে বেঁধে। কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদিও জাহাজের কাঠামোগত বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি এবং কোনও তেল লিক বা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেনি বলে বড় বিপদ এড়ায় জাহাজটি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ক্যাপ্টেন সঙ্গে সঙ্গে জাহাজের গতিপথে সামান্য পরিবর্তন করেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা দ্রুত অতিক্রম করেন। তবে গোলাগুলির জেরে থমকে যাননি তিনি। নইলে আরও বড় ক্ষতি হতো।
জানা গিয়েছে, গুলিতে জাহাজের কিছু ক্ষতি হলেও নিরাপদে ছিলেন সমস্ত নাবিক। কোনও ভারতীয় বা বিদেশি ক্রু সদস্য আহত হননি। বন্দরে পৌঁছনোর পরে ভেসেলটির প্রাথমিক নিরাপত্তা ও কারিগরি পরীক্ষা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষতি সীমিত হওয়ায় প্রয়োজনীয় মেরামতির পরে জাহাজটি আবারও তেল বহন ও পরিবহণে সক্ষম হবে।
হরমুজ় প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ করিডর। আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধের জেরে অশান্ত ওই পথ। সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনী এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলি ওই এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে। ভারতও পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে যাতায়াতকারী ভারত ও ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছে।
এমটি স্যানমার হেরাল্ডের নিরাপদে পারাদ্বীপ বন্দরে পৌঁছে যাওয়া ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য স্বস্তির খবর হলেও, ঘটনাটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ এখনও ঝুঁকি মুক্ত নয়।