বিদ্বেষের শিকার, বুদাপেস্টে সর্বস্বান্ত ভারতের কিশোর দাবাড়ু
এই সময়: বিদেশে খেলতে গিয়ে সব খুইয়ে সর্বস্বান্ত এক ভারতীয় টিনএজার দাবাড়ু। বিজয়ওয়াড়ার ১৬ বছরের মহম্মদ ইমরান ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার হয়েছেন অনেক আগেই। গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়ার প্রথম নর্মও পেয়ে গিয়েছেন। দ্বিতীয় নর্ম পাওয়ার লক্ষ্যেই বুদাপেস্ট যাওয়ার পথে তিনি সর্বস্বান্ত হন। ‘চেসবেস ইন্ডিয়া’ নামের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে ইমরানের করুণ কাহিনি।
ইমরান একাই বিদেশে গিয়ে দাবা টুর্নামেন্টে খেলেন। তাঁর কোনও কোচ নেই। তিনি পড়াশোনা করেন টেক্সাসের রিও গ্রান্দে ভ্যালি ইউনিভার্সিটিতে। সেখান থেকেই তিনি বুদাপেস্ট যাচ্ছিলেন টুর্নামেন্ট খেলতে। আট ঘণ্টার জার্নি করে তিনি যে ফ্লিক্সবাসে করে বুদাপেস্ট যাচ্ছিলেন, সেই বাস স্লোভাকিয়ার ব্রাতিশ্লাভা বাস স্ট্যান্ডে ১০ মিনিটের জন্য থেমেছিল। ইমরান বাস থেকে নেমে খাবার কিনতে গিয়েছিলেন। ৫ মিনিটের মধ্যেই বাসের কাছে ফিরে এসে তিনি দেখেন বাসের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। বারবার অনুরোধেও ড্রাইভার বাসের দরজা খোলেননি। উল্টে তাঁর দিকে ক্রুর চোখে চেয়ে মজা করে হাত নাড়িয়ে বাস চালিয়ে চলে যান। বাসের মধ্যেই থেকে যায় ইমরানের জিনিসপত্রের ব্যাগ। যাতে রাখা ছিল তাঁর পোশাক, খেলার জিনিস ও প্রায় ৬ লক্ষ টাকার ইলেক্ট্রনিক্স সরঞ্জাম।
সবচেয়ে বড় কথা তাঁর পাসপোর্ট, সেনজ়েন ভিসা ও আমেরিকার স্টুডেন্ট ভিসাও ছিল সেই ব্যাগে। বাস চলে যাওয়ার পরে ইমরান স্ট্যান্ডের বাকি বাসচালকদের কাছে সাহায্য চান। কিন্তু কেউই তাঁকে সাহায্য করেননি। ফ্লিক্সবাস অফিসেও কোনও সহযোগিতা পাননি।
এই অবস্থায় অন্য বাস ধরে ইমরান বুদাপেস্ট পৌঁছন রাতে। সেখানে যে হোটেলে তাঁর ওঠার কথা, সেখানে তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি পাসপোর্ট ও ভিসার কাগজ না থাকায়। এর মধ্যে তাঁর তুমুল জ্বর এসে যায়। এক বাংলাদেশি বন্ধু তাঁকে সাহায্য করেন। তাঁর অ্যাপার্টমেন্টে রাত কাটানোর ব্যবস্থা করেন। পরের দিন বুদাপেস্টে থাকা আমেরিকার দূতাবাসে গিয়ে কোনও ভিসার কাগজ জোগাড় করতে পারেননি তিনি। এই অবস্থায় তাঁকে দেশে ফিরে আসতে হচ্ছে। এর ফলে আমেরিকার ওই কলেজে তাঁর অ্যাথলেটিক স্কলারশিপ পাওয়াটা হাতছাড়া হয়ে যাবে। কারণ, চলতি বছরের ২৩ অগস্টের মধ্যে নতুন ভিসা করে তাঁর পক্ষে আর ওই ইউনিভার্সিটিতে যোগ দেওয়া সম্ভব হবে না।