নজরে পুরভোটের প্রার্থী–বাছাই, শমীকের নিশানায় ‘চার ঘণ্টার বিজেপি’
এই সময়: বিজেপির নিজস্ব রাজনৈতিক সংস্কৃতি অনুসরণ করেই আগামী পুরভোটে টিকিট বিলি হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি আগেই জানিয়েছিলেন, বিজেপির তৃণমূলীকরণ কোনও ভাবেই হবে না। বুধবার পুরভোটে টিকিট বিলির প্রসঙ্গে দলের এই অবস্থানের কথা আরও একবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন শমীক।
গত ৪ মে বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূল শাসিত একের পর এক পুরসভার চেয়ারম্যান, কাউন্সিলাররা পদত্যাগ করতে শুরু করেছেন। এমনকী কলকাতা পুরসভার মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। সব কিছু ঠিকঠাক চললে চলতি বছরের শেষে কলকাতা–সহ রাজ্যের অনেক জায়গায় পুরভোট হতে পারে।
এই আবহে বিজেপির অন্দরে তৎপরতা বেড়েছে। রাজ্য বিজেপি দপ্তরে বিভিন্ন জেলা থেকে অভিযোগ জমা পড়েছে, ‘হঠাৎ–বিজেপি’র একাংশ এখন থেকে নিজেদের সম্ভাব্য বিজেপি প্রার্থী হিসেবে দাবি করে এলাকা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। আর তা নিয়ে বিজেপির নিচুতলার কর্মী–সমর্থকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতেও শুরু করেছে। এ বিষয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করতে বুধবার একটি ভিডিয়ো বার্তা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন শমীক। তিনি বলেন, ‘কিছু লোক ধরে নিয়েছেন, তাঁরা কাউন্সিলার হবেন। কিছু লোক আবার ধরে নিয়েছেন, তাঁরা চেয়ারম্যান হবেন। সে গুড়ে বালি নয়, বোল্ডার। তাঁরা বুঝতে পারছেন না, এটা বিজেপি। তৃণমূল নয়।’
কলকাতা পুরসভায় ৮ জুন প্রশাসক বসেছেন। ডিলিমিটেশনের পরে আগামী ছ’মাসের মধ্যে কলকাতা পুরসভায় ভোট হবে বলে সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা না হলেও কলকাতার কোন ওয়ার্ডে কে বিজেপির টিকিট পাবেন, তা নিয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। শুধু কলকাতা নয়, দুই ২৪ পরগনা এবং হাওড়ার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলেও একই চর্চা শুরু হয়েছে। বিজেপি রাজ্য নেতৃত্ব বিষয়টি ভালো ভাবে নিচ্ছেন না। দলের এক রাজ্য পদাধিকারীর কথায়, ‘পুরভোটে কে টিকিট পাবেন, কে পাবেন না, সবই দলের সিদ্ধান্ত। অনেকে ৪ মের পরে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন। তাঁরা ভাবছেন, তৃণমূলে যে ভাবে টিকিট বিলি হয়, সে ভাবে বিজেপিতেও হবে। বিষয়টা এত সহজ নয়।’
বুধবার কলকাতায় মহাজাতি সদনে বিজেপির চিকিৎসক সেলের একটি অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে শমীক বলেন, ‘বাংলায় রাজনৈতিক পরিবর্তন হয়েছে। পরিবর্তনের চার ঘণ্টার মধ্যে কিছু মানুষ বিজেপি হয়ে গিয়েছেন। তাঁরা শুধু গালে গেরুয়া আবীর মাখছেন না, গোটা গায়ে মাখছেন। হাতে ঝান্ডা নিয়েছেন। চার ঘণ্টার বিজেপি! কিন্তু জোর গলায় বলছেন, আমি তো বহুদিন ধরে আরএসএসের স্বয়ং সেবক।’ তাঁর সংযোজন, ‘আমি আর অমিতাভ চক্রবর্তী (রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক) তো এই কাজই করছি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমরা চার ঘণ্টার বিজেপিদের চিহ্নিত করছি।’