জলঢাকা নদীতে ড্রেজ়িংয়ে বাধা তোলাবাজ, ব্যবসায়ীদের, বাড়ছে প্লাবনের আশঙ্কা - 24 Ghanta Bangla News
Home

জলঢাকা নদীতে ড্রেজ়িংয়ে বাধা তোলাবাজ, ব্যবসায়ীদের, বাড়ছে প্লাবনের আশঙ্কা

Spread the love

রনি চৌধুরী, ধূপগুড়ি

গত বছর অক্টোবরে যে বিপর্যয় হয়েছিল, পুনরাবৃত্তি চান না ডুয়ার্সের মানুষ। প্রশাসনও বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়ে নদীর নাব্যতা বাড়াতে এবং গতিপথ স্বাভাবিক রাখতে এ বার ড্রেজ়িং শুরু করেছে। মূলত ডায়না এবং জলঢাকা নদীর ভাঙন রোধে কাজ শুরু হয়েছে। শনিবার থেকে ডায়না নদীতে শুরু হয়েছে ড্রেজ়িং। ময়নাগুড়ির সাপটিবাড়ি এলাকায় জলঢাকা নদীতে এই প্রথম ড্রেজিংয়ের অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন। তবে কাজ শুরু করতে গিয়ে হোঁচট খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে। অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এবং তোলাবাজরা ড্রেজিংয়ে বাধা দিচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক বছর ধরে জলঢাকা এবং ডায়না নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে। এর জেরে বর্ষার সময়ে ভাঙন এবং বন্যার আশঙ্কা বেড়েছে। গত বছর জলঢাকার নয়াবন্দর এলাকায় বেআইনি ভাবে রাতের অন্ধকারে বালি উত্তোলনের কারণে অন্য পাড়ে ধূপগুড়ির বারঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের চিন্তামণি এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়। নদী ভাঙতে ভাঙতে বহু বাড়ির উঠোন পর্যন্ত পৌঁছে যায়। বহু চাষের খেত নদীগর্ভে চলে গিয়েছে।

ডায়না নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খয়েরকাটা, আপার কলাবাড়ি-সহ বিস্তীর্ণ এলাকা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সেচ দপ্তর নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি এবং গতিপথ স্বাভাবিক করতে ড্রেজিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ডায়না নদীতে গত বছর ড্রেজ়িংয়ের কাজ শুরু হয়েছিল। অভিযোগ, অসাধু বালি ব্যবসায়ীদের বাধায় মাঝপথে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। সেই কাজই ফের শুরু করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে একটি বেসরকারি সংস্থাকে ওই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এলাকায় কাজের তথ্য-সহ বোর্ডও বসানো হয়েছে। জলঢাকাতেও একই ভাবে বসানো হয়েছে বোর্ড। কিন্তু কাজ শুরু করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছে ওই সংস্থা। অভিযোগ, কিছু অসাধু বালি ব্যবসায়ী কাজে বাধা দিচ্ছেন। ড্রেজ়িংয়ের বরাত পাওয়া সংস্থার এক কর্মী পাপ্পু তালুকদার বলেন, ‘সেচ দপ্তর বর্ষাকালেও ড্রেজ়িং চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কাজের তথ্য-সহ বোর্ড বসাতে গিয়ে আমাদের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে।’

বারঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধান ফণীন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘ড্রেজ়িং শুরু হলে ভাঙন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। এলাকার মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাবেন। আমরা আগেও অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলন বন্ধ করার দাবি জানিয়েছি। তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ককে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। কিন্তু তখন কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ময়নাগুড়ির বিজেপি বিধায়ক ডালিম রায় বলেন, ‘জলঢাকায় ড্রেজ়িংয়ের কাজে যে বাধা হয়েছে, সেটা আমার জানা ছিল না। কাজের বরাত পাওয়া সংস্থা যদি আমায় সমস্যার কথা জানায়, তা হলে আমি প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে পারব।’

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *