ডেঙ্গি নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা ও প্রতিরোধের উপায়। Ei Samay
ডেঙ্গি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো মশার কামড় এড়ানো। শিশুদের ফুলহাতা জামা ও লম্বা প্যান্ট পরানো, শিশুদের জন্য নিরাপদ মশা প্রতিরোধক ব্যবহার, জানালায় জালি লাগানো, মশারি ব্যবহার এবং বাড়ির আশপাশে জল জমতে না দেওয়ার মতো সাধারণ অভ্যাসই বড় সুরক্ষা দিতে পারে। কারণ ডেঙ্গির নির্দিষ্ট অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ এখনও নেই।
বর্ষাকালে জ্বরকে কখনও হালকা ভাবে নেওয়া উচিত নয়। ডেঙ্গির শুরুতে সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতোই উপসর্গ দেখা দিতে পারে। উচ্চ জ্বর, শরীর ব্যথা, চোখের পিছনে ব্যথা, দুর্বলতা, র্যাশ, বমি বা পেটব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। দ্রুত রোগ নির্ণয় করলে জটিলতার ঝুঁকি কমে।
পেঁপে পাতার রস, ছাগলের দুধ বা বিভিন্ন ভেষজ উপায় ডেঙ্গি সারিয়ে তোলে— এমন দাবির পক্ষে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এসবের উপর নির্ভর করে চিকিৎসা দেরি করলে পরিস্থিতি গুরুতর হতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, প্রচুর তরল পানীয় এবং চিকিৎসকের নিয়মিত পর্যবেক্ষণই ডেঙ্গি থেকে সেরে ওঠার মূল চাবিকাঠি।
মনে রাখবেন, অনেক সময় ডেঙ্গির সবচেয়ে বিপজ্জনক পর্যায় শুরু হয় জ্বর কমার পর। সাধারণত অসুস্থতার তৃতীয় থেকে পঞ্চম দিনে বমি, তীব্র পেটব্যথা, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, অতিরিক্ত দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, ত্বকে লাল দাগ বা অস্বাভাবিক তন্দ্রাভাব দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। এই সতর্ক সঙ্কেতগুলি সময় মতো চিহ্নিত করা রোগীর জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।