তপ্ত কড়াইয়ে ফুটছে ইউরোপ, তীব্র গরমে গলে যাচ্ছে ট্রামলাইন, তাপপ্রবাহে মৃত ১,৩০০-র বেশি - 24 Ghanta Bangla News
Home

তপ্ত কড়াইয়ে ফুটছে ইউরোপ, তীব্র গরমে গলে যাচ্ছে ট্রামলাইন, তাপপ্রবাহে মৃত ১,৩০০-র বেশি

Spread the love

তীব্র দাবদাহের জেরে ত্রাহি ত্রাহি রব উঠেছে ইউরোপে। কিন্তু তাই বলে এমন দৃশ্যের সাক্ষী থাকতে হবে, তা বোধহয় ভাবতে পারেননি কেউই। তীব্র গরমে মোমের মতো গলে যাচ্ছে ট্রামলাইন। কোথাও আবার নরম হয়ে যাচ্ছে পিচের রাস্তা। আটকে যাচ্ছে জুতো। অসহনীয় দাবদাহে কার্যত দিশেহারা গোটা মহাদেশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র দাবি, ২১ জুন থেকে এখনও পর্যন্ত তাপপ্রবাহের জেরে ১,৩০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

শিশুকে গাড়িতে রেখে কোথাও গিয়েছিলেন মা-বাবা। ফিরে এসে দেখেন, গরমে মৃত্যু হয়েছে তাদের। আবার প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতে জলাশয়ে স্নান করতে নেমে ডুবে মৃত্যু হয়েছে একাধিক কিশোর-কিশোরীর। পরিস্থিতি ক্রমশ হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। শুধু ফ্রান্সেই ১৮ জুনের পর থেকে অন্তত ৭৪ জনের ডুবে মৃত্যুর খবর মিলেছে। প্যারিসে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, মর্গে ঠাঁই নেই। যদিও আপাতত ফ্রান্সে তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে, আবহাওয়া দপ্তরের আশঙ্কা, জুলাই মাসেই ফের আছড়ে পড়তে পারে আরও একটি তাপপ্রবাহ।

গত সপ্তাহে প্রথম তীব্র দাবদাহে পুড়তে শুরু করে পশ্চিম ইউরোপ। ধীরে ধীরে তা ছড়িয়ে পড়ে পূর্বে। এখন আর ইউরোপের কোনও দেশই বাদ নেই। ভেঙে যাচ্ছে তাপমাত্রার পুরোনো সব রেকর্ড। জার্মানিতে পারদ ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গিয়েছে। চেক প্রজাতন্ত্রে পেরিয়েছে ৪০ ডিগ্রির গণ্ডি। সুইৎজ়ারল্যান্ডের বাসেলে রেকর্ড ৩৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুয়েছে পারদ। ব্রিটেনেও জুনে রেকর্ড গড়েছে তাপমাত্রা।

সোমবার স্লোভাকিয়ার টার্না নাদ বডভোউ শহরে তাপমাত্রা পৌঁছেয় ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। হাঙ্গেরির আসজোদে পারদ ছুয়েছে ৪১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ডের একেবারে কাছাকাছি। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারি কর্মীদের যতটা সম্ভব ওয়ার্ক ফ্রম হোমের পরামর্শ দিয়েছে হাঙ্গেরি সরকার।

দাবদাহের আঁচ থেকে রেহাই পায়নি যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনও। অতিরিক্ত বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে জরুরি ভিত্তিতে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস, আগামী কয়েক দিন দেশজুড়ে তাপমাত্রা থাকবে ৩৫ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে একের পর এক ছবি-ভিডিয়ো। কোথাও গলে যাচ্ছে রাস্তা, তাপের চাপে বেঁকে যাচ্ছে ট্রামলাইন। নেদারল্যান্ডস থেকে প্রকাশিত বলে দাবি করা কয়েকটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, গাড়ির প্লাস্টিকের রং ফুলে উঠছে, গলতে শুরু করেছে শপিং ট্রলি, এমনকি জুতোর তলাও। জার্মানির বার্লিনে আবার জলকামান ছোড়া হচ্ছে। বিক্ষোভ দমাতে নয়, সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতেই এই ব্যবস্থা।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *