‘হাত কেটে নেব’, সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে ফের ভারতকে হুমকি পাকিস্তানের
পহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন পর্যটকের মৃত্যুর পরেই সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করে দেয় নয়াদিল্লি। তখন থেকেই জলসঙ্কটে ভুগছে পাকিস্তান। এর মধ্যেই সোমবার সাংবাদিক সম্মেলনে সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে ভারতকে হুমকি দিলেন পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মুসাদিক মালিক। তিনি বলেন, ‘জল আটকাতে এলে সেই হাত কেটে দেব।’ এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি নয়াদিল্লি।
আগামী মঙ্গলবার সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করছে পাকিস্তান। সেখানে বিভিন্ন দেশের আইনজ্ঞ, জলসম্পদ বিশেষজ্ঞ এবং বিদেশি প্রতিনিধিদের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তির আইনি ও কারিগরি দিক নিয়ে আলোচনা হবে। তার আগে এ দিন পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লা তারারের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করেন জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মুসাদিক মালিক। সেখানেই ভারতকে হুমকি দেন তিনি। হুঁশিয়ারি দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও।
সাংবাদিক সম্মেলনের শুরুতেই নরেন্দ্র মোদীকে কটাক্ষ করে মুসাদিক বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী এমন ভাব করছেন যেন কলটা তাঁর হাতেই রয়েছে। তিনি বলেছেন, পাকিস্তানে এক ফোঁটা জল যেতে দেবেন না।’ এর পরেই তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘আমাদের প্রাপ্য জল আটকাতে এলে সেই হাত কেটে দেওয়া হবে।’ মুসাদিকের এই ভিডিয়ো ভাইরাল (সত্যতা যাচাই করেনি এই সময় অনলাইন) হয়েছে সমাজমাধ্যমে।
সিন্ধু জলচুক্তি এখনও বহাল রয়েছে বলে দাবি করেছেন আতাউল্লা। তাঁর দাবি, কোনও দেশ একতরফাভাবে চুক্তি স্থগিত, বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারে না। আন্তর্জাতিক আইনও পাকিস্তানের পক্ষেই রয়েছে বলে দাবি তাঁর। আতাউল্লার কথায়, ‘সিন্ধু জলচুক্তি এখনও বহাল রয়েছে। ভারতের অবস্থানকে কোনও দেশই সমর্থন করেনি।’
১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় সিন্ধু জলচুক্তিতে স্বাক্ষর করে ভারত ও পাকিস্তান। ঠিক হয়, রাভি, বিয়াস ও শতদ্রু নদীর জল ভারত ব্যবহার করবে। আর সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাব নদীর অধিকাংশ জল যাবে পাকিস্তানে। এই জলের প্রায় ৮০ শতাংশ তারা ব্যবহার করে কৃষিকাজে। কিন্তু পহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুর পরে কঠোর অবস্থান নেয় নয়াদিল্লি। চুক্তি ‘স্থগিত’ রাখার ঘোষণা করা হয়। এর পরেই ভারতকে যুদ্ধের হুমকি দিয়েছিলেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। কিন্তু লাভ হয়নি। বরং সময় যত এগিয়েছে ততই জলসঙ্কট তীব্রতর হচ্ছে পাকিস্তানে।