দু’জন একই বাড়িতে থাকেন কিন্তু প্রেমের সম্পর্ক নেই! ‘রিয়্যাল গুড ফ্ল্যাটমেট সিনড্রোম’-এ ভুগছে তরুণ প্রজন্ম
মেট্রো শহরগুলোতে বাড়িভাড়া এখন আকাশছোঁয়া। জেন জ়ি আর মিলেনিয়ালদের উপার্জনের একটা বড় অংশ চলে যাচ্ছে ফ্ল্যাটের ভাড়ায়। এই চড়া বাজারের কোপ এ বার এসে পড়েছে প্রেমের সম্পর্কেও। সম্প্রতি এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ব্রেকআপের পরেও বহু যুগল একই ফ্ল্যাটে একসঙ্গে থাকছেন। কারণ, একা থাকার খরচ চালানো তাঁদের পক্ষে অসম্ভব। প্রেমের সম্পর্ক শেষ, কিন্তু নতুন ফ্ল্যাটের সিকিউরিটি ডিপোজ়িটের টাকা নেই। এই চড়া রিয়্যাল এস্টেটের বাজারই আজ প্রাক্তনকে বানিয়ে দিচ্ছে ‘রিয়্যাল গুড ফ্ল্যাটমেট’।
কী এই ‘রিয়্যাল গুড ফ্ল্যাটমেট’ সিন্ড্রোম?
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এটি এমন এক পরিস্থিতি যেখানে একটি সম্পর্কের ইতি ঘটেছে। দু’জনেই জানেন তাঁদের আর কোনও ভবিষ্যৎ নেই। কিন্তু আর্থিক কারণে তাঁরা কেউ ফ্ল্যাট ছেড়ে চলে যেতে পারছেন না। ফলে লিভ-ইন পার্টনার থেকে তাঁরা রাতারাতি স্রেফ ‘ফ্ল্যাটমেট’ বা রুমমেট হয়ে যান। একই রান্নাঘর শেয়ার হচ্ছে, একই ফ্রিজ় থেকে জল খাওয়া হচ্ছে, অথচ দু’জনের মাঝে এক অদৃশ্য দেওয়াল।
এই সম্পর্কেও কি শান্তি থাকা সম্ভব?
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, যে মানুষটার সঙ্গে প্রেম ভেঙেছে, তাঁর সঙ্গে এক ছাদের তলায় শান্তিতে থাকা কি আদৌ সম্ভব? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা অসম্ভব নয়, তবে এর জন্য দরকার মারাত্মক মানসিক পরিপক্কতা। প্রেমের টান বা শারীরিক আকর্ষণ যখন চলে যায়, তখন সেই শূন্যস্থানে যদি পারস্পরিক শ্রদ্ধা আর কাজের বোঝাপড়া থাকে, তবেই এই ট্রেন্ড টিকতে পারে। অর্থাৎ, কে কখন বাথরুম ব্যবহার করবে, বাজারের খরচ কী ভাবে ভাগ হবে, এই নিয়মগুলো যদি স্পষ্ট থাকে, তবে প্রাক্তনও খুব সহজেই ফ্ল্যাটমেট হয়ে উঠতে পারেন। যদি দু’জনেই নিজেদের আবেগ সামলে প্রফেশনাল রুমমেটের মতো আচরণ করতে পারেন, তবে লিজ়ের মেয়াদ ফুরানো পর্যন্ত দিনগুলো কেটে যেতে পারে আরামে।
যখন ঘরে ঢোকে ‘নতুন কেউ’
এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় রিস্ক বা জটিলতা তৈরি হয় তখন, যখন প্রাক্তনের জীবনে নতুন কোনও মানুষের প্রবেশ ঘটে। আপনি হয়তো লিভিং রুমে বসে টিভি দেখছেন, আর আপনার প্রাক্তন তাঁর নতুন পার্টনারকে নিয়ে পাশের ঘরে ঢুকছেন। এই দৃশ্য সহ্য করা সহজ নয়। এখান থেকেই শুরু হয় মানসিক টানাপড়েন, অবহেলা আর ক্ষোভ।