Kunal Ghosh: ‘তৃণমূল ভোটে হারায় ভালোই হয়েছে’, সুর বদলালেন কুণাল ঘোষ? | Kunal Ghosh Explains Why Losing Election was good for TMC in Social Media Post
কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়েছেন তাঁর একসময়ের ‘আস্থাভাজন’ নেতারা। মিছিল মিটিংয়ে একসময় যাঁদের পাশে নিয়ে হাঁটতেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, আজ তাঁরাই ‘আসল’ তৃণমূলে নাম লিখিয়েছেন। তবে, টালমাটাল পরিস্থিতিতেও কুণাল ঘোষ, মদন মিত্রের মতো নেতারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু এবার কি সুর বদল করলেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষও? সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্ট করেছেন বিধায়ক। সেখানেই লিখলেন, ‘তৃণমূল ভোটে হারায় ভালোই হয়েছে।’ শুরু থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে, দলের পাশে থাকা কুণালও এবার নিজের অবস্থান পরিবর্তন করলেন?
রাজ্যে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কুণাল ঘোষ কিন্তু প্রথম থেকেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন। একদিকে যেমন দলের পাশে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন, অন্যদিকে, দলের ভুল-ত্রুটিরও সমালোচনা করেছেন। কুণাল বারবার জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকবেন, কিন্তু দলের ভুলত্রুটি সংশোধনের বদলে বিভিন্ন স্তরে যদি ভুল চলতে থাকে, সেটা দেখেও চোখ বুজে থাকতে পারবেন না। দল ছেড়ে যাওয়া বিধায়ক-সাংসদদের নিশানা করে বিশ্বাসঘাতক বলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তাহলে হঠাৎ দল হারায় কেন খুশি কুণাল ঘোষ? আসলে, বিধায়কের দাবি, তৃণমূল আজ হেরেছে বলেই মানুষ চেনা যাচ্ছে। ‘বিশ্বাসঘাতক’দের প্রসঙ্গ তুলে কুণাল লেখেন, ‘যদি তৃণমূল জিতত, এই বিশ্বাসঘাতকরাই স্তাবক হয়ে দিদিকে ঘিরে রাখত।’
কুণালের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট
তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক কুণাল লেখেন, “৪ মে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার পরাজিত হওয়ার পর খারাপ লেগেছিল। নিজের দল হারলে যেমন লাগে। বেলেঘাটায় আমার জয়টাও তেমন আনন্দ দিতে পারেনি। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে যা হয়েছে, ভালো হয়েছে। যদি তৃণমূল জিতত, এই বিশ্বাসঘাতকরাই স্তাবক হয়ে দিদিকে ঘিরে রাখত। যারা সুবিধেবাদী, তারাই বন্ধু সেজে আমাদের সঙ্গে মিশত। কিছু চোরডাকাত, যারা নিজেদের বাঁচাতে সাধু সাজছে, তারা আরও লাগামছাড়া চুরি করত। দলের কারুর কারুর ঔদ্ধত্য ও অহঙ্কার আরও বাড়ত। কিছু দলে ঢোকা ক্রিমিনাল বিরোধীদের উপর বাড়াবাড়িরকম দমনপীড়ন করত। দলের একাংশকেও ছাড়ত না। কিছু অরাজনৈতিক সেলিব্রিটি অকারণে মঞ্চ আলো করে বসে জনপ্রতিনিধির সুবিধে নিত একাংশের। পুলিশ, আমলা, বুদ্ধিজীবী, শিল্পমহল, হাফবুদ্ধিজীবী কিছু মুখোশধারী দলটাকে আরও ব্যবহার করে নিজেদের অঙ্ক সাজাত। এবং প্রকৃত কর্মী, সংগঠক, শুভানুধ্যায়ীরা উপেক্ষিত থাকতেন। বুকভরা অভিমান নিয়ে দমবন্ধ অবস্থায় পিছনের বেঞ্চে বসে দলটা করতেন।”
কুণালের কথায়, দল খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে গেলেও আদতে তা দলকে শক্তিশালী করছে। বলেন, “ভোটের ফল হয়ত দলের ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু আবর্জনা সাফ করে মানুষ চিনতে সাহায্য করেছে। মাথার উপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সর্বত্র দলকে প্রকৃত ভালোবাসা কর্মীরা। তৃণমূল কংগ্রেস লড়াই চালাবে। মেদ ঝরেছে, মেদ ঝরছে, আপাতদৃষ্টিতে খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে গেলেও সময়ের পরীক্ষা দলকে আগামীর জন্য শক্তিশালী করছে।”