Gouri Shankar Ghosh: ‘তোষণের জন্যই তৃণমূল জমানায় OBC সংরক্ষণ বাড়ানো হয়’, আক্রমণ মন্ত্রী গৌরীশঙ্করের | West Bengal Assembly Passes OBC Amendment Bills, Minister Gaurishankar Ghosh Targets Former TMC Government
মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষImage Credit: Tv9 Bangla
কলকাতা: বিধানসভায় ধ্বনিভোটে পাশ হল OBC সংক্রান্ত জোড়া সংশোধনী বিল। আজ বিধানসভায় বিল দু’টি পেশ করেন অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। বিল দু’টি হল পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন (সংশোধনী) বিল, ২০২৬। আরেকটা হল পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণি (তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি ব্যতীত) (সরকারি চাকরি ও পদে সংরক্ষণ) (সংশোধনী) বিল, ২০২৬। বিল নিয়ে আলোচনার সময় পূর্বতন সরকারে তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর।
ওবিসি চিহ্নিতকরণে কমিশন গঠন
এদিন বিল পেশের সময় মন্ত্রী বলেন, ” সময় মাত্র ১৩ মিনিট। কিন্তু ১৪ বছরের যুদ্ধের ইতিহাস। বুদ্ধিজীবী সুলভ মিথ্যাচারের দুর্দান্ত উদাহরণ হতে পারে আইনজগতের ও সংসদের সামনে। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিরও কালো অধ্যায়, যাঁর বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী লড়াই শুরু করেছেন।” ওবিসি চিহ্নিতকরণের ইতিহাস উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ” সুপ্রিম কোর্ট প্রত্যেকটা রাজ্যে অনগ্রসর শ্রেণির চিহ্নিত করার জন্য ট্রাইব্যুনাল বা কমিশন গঠনের নির্দেশ দেন। নির্দেশ অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালে পশ্চিমবঙ্গে গঠিত হয় ওয়েস্ট বেঙ্গল কমিশন ফর ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস। এই কমিশন গঠিত হওয়ার পর ১৯৯৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে মোট ৬৬টি জনগোষ্ঠীকে ওবিসি তালিকাভুক্তর যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। যার মধ্যে ৫৪টি জনগোষ্ঠী হিন্দু ও ১২টি মুসলিম।”
বাম সরকারকে তুলোধনা
বাম সরকারের আমলে ওবিসি সংরক্ষণের তথ্যকে তুলে ধরে গৌরীশঙ্কর বলেন, “২০১১ বিধানসভা নির্বাচন হয়। ঠিক তার আগে, ২০১০ সালে ৮ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ঘোষণা করেন, সরকারি চাকরিতে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের ১০ শতাংশ সংরক্ষণের সুবিধা দেবে। এটা হওয়ার পর আচমকা দেখা যায়, যে কমিশন মাত্র ৬৬টি জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করতে পেরেছিল, সেই কমিশন ৮ মার্চ ২০১০ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১০ পর্যন্ত আরও ৪২টি জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে। কী পদ্ধতিতে হল, তা নিয়ে বিস্ময়ের অবকাশ রয়েছে। সবথেকে বড় প্রশ্ন হল, কোন জাদুবলে ৪২টার মধ্যে ৪১টি মুসলিম, মাত্র একটি হিন্দু জনগোষ্ঠী ওবিসি তালিকাভুক্ত করার যোগ্যতা অর্জন করল?”
তৃণমূলকে আক্রমণ
মন্ত্রী আরও বলেন, “রাজ্য সরকারের ঘোষণার পর, সম্পূর্ণ পদ্ধতিকে উপেক্ষা করে ১০৮টি জনগোষ্ঠীকে ওবিসির মর্যাদা দেয়। ১০৮টি জনগোষ্ঠীকে ভাগ করা হয় ওবিসি এ ও ওবিসি বি-তে। এ ক্যাটাগরিতে রাখা হয় বেশি পিছিয়ে পড়াদের। বি ক্যাটাগরিতে পিছিয়ে পড়া। এ ক্যাটাগরিতে ৫৬টির মধ্যে ৪৯ জনগোষ্ঠী মুসলিম ধর্মাম্বলম্বী। সাতটি মাত্র হিন্দু ধর্মাবলম্বী। বাকি ৫২ জনগোষ্ঠী ওবিসি বি ক্যাটাগরিতে রাখা হয়। পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যাচ্ছে ওবিসি এ ও ওবিসি বি ক্যাটাগরির মূল উদ্দেশ্য ছিল সাম্প্রদায়িক তোষণ, সংখ্যালঘু তোষণ।”
বিগত তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করে গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, “তোষণের জন্যই তৃণমূল জমানায় সংরক্ষণ বাড়ানো হয়। সংখ্যালঘুদের প্রকৃত উন্নয়ন সংক্রান্ত ভাবনা ছিল না বিলে। আগের সরকার বিল নিয়ে কোনও আলোচনা করেনি। সামাজিক সমীক্ষা না করেই বিলে সংশোধনী এনেছিল তৃণমূল সরকার। অনগ্রসর শ্রেণী যাতে বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্যেই বিল আনা হয়েছে।”
বিধানসভায় এই বিলের বিরোধিতা করেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তাঁর মতে, “এই বিল পাশ হলে জাতিগত বৈষম্য বাড়বে। রঙ্গনাথ কমিশনের সুপারিশ মেনে সংরক্ষণ দেওয়া হোক। বিল পাশ হলে উচ্চশিক্ষায় বঞ্চিত হবেন মুসলিমরা। সামাজিক ন্যায়বিচারের কাঠামো ধ্বংস হবে।”