‘বাড়ি নিয়ে চলো…’ ফোন আসার পরের দিনেই শ্বশুরবাড়িতে রহস্যজনক মৃত্যু সদ্যবিবাহিতা মহিলার
বিয়ের মাত্র চার মাসের মাথায় রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে এক মহিলার। শ্বশুরবাড়ি থেকেই উদ্ধার হয়েছে ওই মহিলার দেহ। মৃত্যুর মাত্র এক দিন আগেই ভাইকে ফোন করেছিলেন তিনি। সেখানে তাঁর ভালো লাগছে না বলে নিয়ে আসার জন্য অনুরোধও করেন ওই মহিলা। রবিবার উদ্ধার হয় তাঁর দেহ।
তাঁর বাপের বাড়ির লোকজনের অভিযোগ, আরও যৌতুকের জন্য তাঁকে হেনস্থা করা হতো। শ্বশুরবাড়ির লোকজনই তাঁকে হত্যা করেছে বলেও অভিযোগ তাঁদের। উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসির এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতের নাম স্বপ্না সাহু (৩২)। ঝাঁসির কোতোয়ালি থানা এলাকার নাই বস্তির বাসিন্দা ছিলেন তিনি। চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি তাঁর সঙ্গে বিয়ে হয় অভিষেক সাহুর। বিসাতি বাজারে ইমিটেশন বা কৃত্রিম গয়নার একটি দোকান চালান অভিষেক।
স্বপ্নার ভাই সত্যেন্দ্র সাহুর দাবি, বিয়ের সময়ে প্রায় দেড় কেজি রুপো এবং ৫০ গ্রাম ওজনের সোনার গয়না ছাড়াও অন্যান্য গৃহস্থালি সামগ্রী দেওয়া হয়েছি। তবে তাতেও সন্তুষ্ট ছিল না অভিষেকের পরিবার। এর পরেও তাঁরা এয়ার কন্ডিশনার ( air conditioner) ও সোনার চেন-সহ আরও যৌতুকের দাবি জানাতে থাকে। ওই দাবির একাংশ মেটানোর জন্য সম্প্রতি একটি নতুন কুলার কিনে দেওয়া হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন সত্যেন্দ্র।
দিন কয়েক আগেই বাপের বাড়িতে এসেছিলেন স্বপ্না। গত ১৮ তারিখে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে তিনি মোটেই সুখী ছিলেন না বলেও অভিযোগ স্বপ্নার বাপের বাড়ির লোকজনের। স্বামী তাঁকে সময় দেন না বলেও অভিযোগ করতেন তিনি। সত্যেন্দ্র জানান,শনিবার রাতে স্বপ্না তাঁকে ফোন করে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানান। শ্বশুরবাড়িতে তিনি আর স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন না বলে জানিয়েই ওই কাতর আবেদন করেন স্বপ্না বলেও দাবি তাঁর। সেখানে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান ছিল। ওই অনুষ্ঠান মিটে যাওয়ার পরেই স্বপ্না ফিরিয়ে আনা হবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আর রবিবার সকালেই আসে দুঃসংবাদ। সত্যেন্দ্র জানান, রবিবার সকালেই ভগ্নিপতির কাছ থেকে একটি ফোন পান তিনি। স্বপ্না ‘কথা বলছে না’ বলে তাঁকে জানানো হয়। পরিবারের সদস্যরা সেখানে পৌঁছে তাঁকে বিছানায় অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরেই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই নিয়ে কোতয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ অভিযোগ দায়ের করেছে স্বপ্নার বাপের বাড়ির লোকজন। পণের দাবিতে তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
এই অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। তদন্তের ভিত্তিতে উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানিয়েছেন আধিকারিকরা।