Sheikh Hasina on Awami League: আওয়ামী লিগ কি আর বাংলাদেশে ফিরতে পারবে? হাসিনা বললেন, 'আগুনে পুড়ে সোনা আরও খাঁটি হয়...' | Will Awami League be Able to make Comeback in Bangladesh? Sheikh Hasina Says as Gold gets Pure in burning, awami league also Return - 24 Ghanta Bangla News
Home

Sheikh Hasina on Awami League: আওয়ামী লিগ কি আর বাংলাদেশে ফিরতে পারবে? হাসিনা বললেন, ‘আগুনে পুড়ে সোনা আরও খাঁটি হয়…’ | Will Awami League be Able to make Comeback in Bangladesh? Sheikh Hasina Says as Gold gets Pure in burning, awami league also Return

Spread the love

নয়া দিল্লি: যে দেশ গড়ার জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন তাঁর বাবা, আজ সেই দেশই ছাড়তে হয়েছে শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)-কে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে এখন তিনি গণহত্যার দায়ে অপরাধী। তাঁর দল, আওয়ামী লিগকেও (Awami League) নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশে (Bangladesh)। তবে সম্পূর্ণ মুছে দেওয়া যায়নি। এখনও বাংলাদেশের নানা জায়গায় আওয়ামী লিগের কর্মী-সমর্থকরা মিছিল বের করছেন। তাতে ভিড়ও হচ্ছে। তবে কি বাংলাদেশে আবার কামব্যাক করবে হাসিনার দল? কী বললেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী?

এনডিটিভি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লিগের বাংলাদেশে ফিরে আসার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বললেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “আওয়ামী লিগ কোনও কাগজে লেখা প্রতিষ্ঠান নয়। এটা একটা রাজনৈতিক শক্তি যা বাংলার (পড়ুন বাংলাদেশ) মাটি, মানুষ ও ইতিহাসের মধ্যে মিশে আছে। ৭৭ বছরের যাত্রায় আওয়ামী লিগের উপরে অনেকবার আক্রমণ হয়েছে, অনেকবার রক্ত ঝরেছে, অনেকবার পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই এই দল আবার উঠে এসেছে জনগণের ক্ষমতায়।

হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লিগের ফিরে আসা কারোর ব্যর্থতা বা দুর্বলতার উপরে নির্ভর করে না। মানুষের সঙ্গে থেকে আওয়ামী লিগ নিজের পথ তৈরি করেছে। জনগণের সমর্থন সবসময় আমাদের সঙ্গে ছিল। ওই ক্ষমতাবলেই, যখন আমরা সরকারে ছিলাম, মানুষের জীবনযাত্রা উন্নয়নে নিরন্তর কাজ করেছি। বাংলাদেশ বিরোধী শক্তি ষড়যন্ত্র করে এবং সুপরিকল্পনা করে মানুষকে বিভ্রান্ত করে আওয়ামী লিগকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। তবু সব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও মানুষের মন থেকে আওয়ামী লিগকে মুছে দিতে পারেনি।”

মহম্মদ ইউনূসের সরকারকে দুষে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অবৈধ, অসাংবিধানিক অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমানে প্রহসন নির্বাচনে জয়ী বিএনপি সরকারের আমলে মানুষ বাস্তবতা দেখছে।”

হাসিনার অভিযোগ, দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে, সংখ্যালঘুরা হামলার শিকার হচ্ছেন এবং উগ্রবাদ বিস্তার করছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লিগের নেতা-কর্মীরা নজিরবিহীন রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, “দেশের মানুষ তুলনা করতে জানে এবং তারা উপলব্ধি করছে যে আওয়ামী লিগ ক্ষমতায় থাকলে দেশে স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন এবং মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

সাংগঠনিক শক্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের রাজনীতির প্রতিটি অলিগলি সম্পর্কে আওয়ামী লিগের সুস্পষ্ট ধারণা রয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই দলই স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছে এবং দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে। জনগণের সমর্থন ও আকাঙ্ক্ষাকে রাজনৈতিক বাস্তবতায় রূপ দেওয়ার ক্ষমতা আওয়ামী লিগের রক্তে মিশে আছে।”

তিনি আরও বলেন, “আগুনে পুড়ে যেমন সোনা আরও খাঁটি হয়, তেমনি শাসকদের নির্যাতন ও নিপীড়ন আওয়ামী লিগকে প্রতিদিন আরও শক্তিশালী করছে।”

দলের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, “ঐক্যবদ্ধ থেকে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে। প্রতিটি গ্রাম, মহল্লা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে হবে”। পাশাপাশি সংখ্যালঘু, নারী, শিশু, শ্রমজীবী, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে আপসহীন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের রাজনীতি প্রতিশোধের নয়; বরং অধিকার, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও উন্নয়নের রাজনীতি। “আওয়ামী লীগ জনগণের সঙ্গে ছিল, আছে এবং থাকবে। জনগণের শক্তিতেই আওয়ামী লীগ আবার ঘুরে দাঁড়াবে”।

দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং হাজারো মামলা সত্ত্বেও আওয়ামী লিগের রাজনৈতিক পুনরুত্থান কতটা সম্ভব— এই প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লিগের পুনরুদ্ধার কোনও সরকারের দয়া বা অনুগ্রহের ওপর নির্ভর করে না, বরং তা জনগণের সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল।”

তিনি বলেন যে অবৈধ নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে আওয়ামী লিগকে “প্রহসনের নির্বাচন” থেকে দূরে রাখা হয়েছে, দলীয় কার্যালয় বন্ধ করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। কিন্তু জনগণের হৃদয় থেকে বাদ দেওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *