২১ জুলাই: কার সভা? দরবার করছে দু’পক্ষই - 24 Ghanta Bangla News
Home

২১ জুলাই: কার সভা? দরবার করছে দু’পক্ষই

Spread the love

এই সময়: কালীঘাট তৃণমূল নাকি বিদ্রোহী ব্লক? কারা আসল জোড়াফুলের দাবিদার, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে দু’পক্ষই। তারই মধ্যে ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ২১ জুলাই–র সভা নিয়ে দুই শিবিরে জোরদার লড়াই শুরু হলো। গত তিন দশকের ট্র্যাডিশন মেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে শহিদ দিবস পালনের অনুমতি চেয়ে লালবাজারে চিঠি দিয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী তৃণমূল শিবিরও শনিবার বৈঠক করে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনেই ২১ জুলাই সভা করার অনুমতি চেয়ে পুলিশকে চিঠি জমা করেছে। কলকাতা পুলিশ অবশ্য কোন পক্ষকে অনুমতি দেবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।

বিজেপি জমানায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে আদৌ কোনও পক্ষকে সভা করার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলাও চলছে। কিন্তু কালীঘাটকে চ্যালেঞ্জ করে বিদ্রোহী শিবিরও সমান্তরাল ভাবে সভা করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ১৯৯৩–র ওই গুলি চালানোর ঘটনা নিয়ে এবার তিনটি সমান্তরাল সভা হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

মহাজাতি সদনের বদলে প্রদেশ কংগ্রেস এ বার শহিদ মিনারে ২১ জুলাই–র সভা করবে বলে জানিয়ে দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত বৃহস্পতিবার উত্তর কলকাতায় দলীয় কর্মিসভায় ভার্চুয়াল ভাষণে ধর্মতলাতেই শহিদ দিবস পালনের কথা ঘোষণা করেছেন। যদি সেদিন পাঁচ জন লোকও হয়, তা হলেও তিনি ধর্মতলায় সভা করবেন বলে ঘোষণা করেছেন। কালীঘাটে তৃণমূল নেত্রীর বাসভবনের সামনে দাঁড়িয়ে শনিবার তৃণমূলের সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, ‘অনুমতি না দিলেও আমরা রাস্তায় নেমে ২১ জুলাই–র কর্মসূচি করব। যদি মঞ্চ বাঁধতে না দেয় তা হলে গাড়ির উপরে দাঁড়িয়ে মাইক হাতে নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মিটিং করবেন। ২১ জুলাই–এর সভা হবেই। দরকার হলে আমরা সবাই অ্যারেস্ট হব।’

বিজেপির জমানায় কী ভাবে ২১ জুলাই–র সভা হবে তা নিয়ে কালীঘাটে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের আখরুজ্জামান, জাভেদ খান, সন্দীপন সাহার উপস্থিতিতে কলকাতা পুরসভার একদল প্রাক্তন জোড়াফুল কাউন্সিলারকে নিয়ে শনিবার বৈঠক হয়। সংবাদমাধ্যমে আখরুজ্জমান বলেন, ‘আমরাই তৃণমূল। ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ২১ জুলাই সভা করার অনুমতি চাইব। আগে ওই মঞ্চে শুধু নায়ক নায়িকাদের ভিড় দেখা গিয়েছে। আমরা সঠিক ভাবে ২১ জুলাই পালন করব।’

লালবাজার যদি ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ২১ জুলাই–র সভা করার অনুমতি না দেয়? এই প্রশ্নে আখরুজ্জমান বলেন, ‘আমরা তখন এ বিষয়ে আলোচনা করব।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যুব কংগ্রেসে থাকার সময়ে ২১ জুলাই–র ঘটনা ঘটলেও ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে বার্ষিক এই রাজনৈতিক কর্মসূচি একান্তই তৃণমূল নেত্রীর নিজস্ব কর্মসূচি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ। যেখানে মমতার ভাষণ শুনতেই তৃণমূল কর্মীরা বছরের পর বছর আসছেন। বিদ্রোহী শিবির যে ২১ জুলাই পালন করতে চাইছে সেখানে কি তাঁরা মমতাকে আমন্ত্রণ করবেন? এই প্রশ্নে আখরুজ্জমানের বক্তব্য, ‘আমাদেরও আবেগের দিন ২১ জুলাই। ওই সভায় সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি।’

মমতা কংগ্রেসে যতদিন ছিলেন তাঁর নেতৃত্বেই যুব কংগ্রেসের ব্যানারে ২১ জুলাই–র সভা হতো। ১৯৯৮–এ নতুন দল গঠিত হওয়ার পরে তৃণমূল এবং কংগ্রেস পৃথক ভাবে ২১ জুলাই শহিদ দিবস পালন করা শুরু করে। তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে ২১ জুলাই নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হলেও গেরুয়া শিবির মনে করছে জোড়াফুল পার্টিটাই উঠে গিয়েছে। রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী তথা বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ এ দিন কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকে ভুলে গিয়েছে। রাজ্যে এখন নতুন সরকার এসেছে।’

২১ জুলাই নিয়ে টানাপড়েনের পাশাপাশি ঋতব্রত শিবিরের বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া তৃণমূলের প্রতীক ব্যবহার সহ একাধিক অভিযোগ তুলে বিভিন্ন থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এরমধ্যে তৃণমূলের সাংসদ দোলা সেন নিউটাউন থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ প্রসঙ্গে আখরুজ্জমানের বক্তব্য, ‘আইনি পথে এর উত্তর দেওয়া হবে।’

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *