চিকিৎসককে এলাকা ছাড়ার ‘ফতোয়া’! ফুঁসল জয়ন্তীবাসী
এই সময়, আলিপুরদুয়ার: শক্তি সামন্তর ‘আনন্দ আশ্রম’ সিনেমায় প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে ডাক্তারি করতেন ছবির হিরো দীপক (উত্তম কুমার)। এমনকী, নিজের ছেলেকে গ্রামে গিয়ে ডাক্তারি করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছিলেন তিনি। বাস্তবে তেমনই একজন চিকিৎসক চিন্ময় বর্মন।
বীরভূমের সাইঁথিয়ার বাসিন্দা হয়েও শুধুমাত্র দুঃস্থ মানুষকে পরিষেবা দিতে সড়কপথে প্রায় ৫৭৫ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে আলিপুরদুয়ারের জয়ন্তীর প্রত্যন্ত এলাকায় শিবির করতে আসেন। সেই ডাক্তারকেই এ বার হেনস্থার শিকার হতে হলো। ঘটনার অভিঘাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠল এলাকা। ওই চিকিৎসককে হেনস্থার প্রতিবাদে সরব হলেন জয়ন্তীর বাসিন্দারা।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার। ওই দিন রোগী দেখতে অনেক রাত হয়ে যায় বছর ষাটের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক চিন্ময়ের। তখনই ‘বক্সা ব্যাঘ্র’ প্রকল্পের তরফে তাঁকে জয়ন্তী ছেড়ে চলে যাওয়ার ‘ফতোয়া’ জারি করা হয় বলে অভিযোগ। এতে রীতিমতো ক্ষুব্ধ হন চিন্ময়। এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে গোটা জয়ন্তী। রাত গড়িয়ে সকাল হতেই চিকিৎসককে এমন ‘ফতোয়া’ দেওয়ার প্রতিবাদে স্থানীয় রেঞ্জ অফিসারকে দীর্ঘক্ষণ ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অয়ন নাইডু বলেন, ‘যে মানুষটি বিনা পারিশ্রমিকে আমাদের চিকিৎসা পরিষেবা এবং ওষুধ দিচ্ছেন, তাঁর সঙ্গে এই ধরনের ব্যবহার আমরা মেনে নেব না। তাই আমরা প্রতিবাদ করেছি।’
স্থানীয় সূত্রে খবর, জয়ন্তী, চুনিয়া ও বক্সা পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল অত্যন্ত শোচনীয়। এই অবস্থায় ২০১৭ থেকে প্রতিমাসে শেষ সপ্তাহে জয়ন্তীতে এসে স্বাস্থ্য শিবির করে চলেছেন চিন্ময় এবং তাঁর টিম। বন দপ্তরের যুক্তি ছিল, প্রজনন এবং বর্ষার কারণে যে হেতু তিন মাস জঙ্গল বন্ধ থাকবে, তাই বহিরাগত কাউকে জয়ন্তীতে রাত্রিবাস করতে দেওয়া হবে না। এই নির্দেশিকার কথা বলে চিন্ময়কে জয়ন্তী ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ক্ষুব্ধ চিকিৎসক বলেন, ‘আমি তো এখানে পর্যটক হিসেবে আসি না। আসি চিকিৎসা করতে। তা হলে আমার সঙ্গে এই ধরনের আচরণ কেন?’
তাঁর প্রশ্ন, ‘জঙ্গল বন্ধ বলে মানুষের চিকিৎসা থেমে যাবে, পৃথিবীতে কোথাও এমন নজির আছে?’ তাঁর যুক্তি, ‘আগেও তো জঙ্গল বন্ধ হয়েছে। তখন তো এ ভাবে চলে যেতে বলা হয়নি। তা হলে এ বার এমন ফতোয়া কেন?’ যদিও পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে পরে চিন্ময়কে ফোন করে ক্ষমা চান বনাধিকারিক।
এ দিকে, বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ। তিনি বলেন, ‘কোনও ভাবেই মানুষের চিকিৎসা বন্ধ করা যায় না। ওই চিকিৎসককে হেনস্থা করা একেবারেই ঠিক কাজ হয়নি।’