Abhishek- Karishma: অভিষেককে বিশেষ চুক্তিপত্রে সই করাতে চেয়েছিলেন করিশ্মা, যার কারণেই ভাঙল বিয়ে, কী এমন ছিল সেই চুক্তিপত্রে? | abhishek bachchan karisma kapoor prenuptial agreement wedding breakup
বলিউডের ইতিহাসের অন্যতম চর্চিত এবং রহস্যময় অধ্যায় হল অভিষেক বচ্চন ও করিশ্মা কাপুরের ভেঙে যাওয়া প্রেম। বলিউডের দুই তারকা পরিবারের সম্মতি, আংটি বদল এবং মহাসমারোহে বাগদান সম্পন্ন হওয়ার পরেও কেন ছাদনাতলা পর্যন্ত পৌঁছল না এই সম্পর্ক, তা নিয়ে আজও কৌতূহলের শেষ নেই টিনসেল টাউনে। দীর্ঘ দুই দশক ধরে এই বিচ্ছেদের জন্য করিশ্মার মা ববিতা কাপুরের আপত্তির কথাই বাতাসে ভাসত। কিন্তু এবার সেই বহু পুরনো জল্পনায় যোগ হল সম্পূর্ণ এক নতুন তথ্য। এক প্রবীণ চিত্র সাংবাদিকের দাবি অনুযায়ী, কাপুর ও বচ্চন পরিবারের এই মিলন না হওয়ার পেছনে নাকি লুকিয়ে ছিল একটি ‘প্রিনাপচুয়াল এগ্রিমেন্ট’ বা বিবাহপূর্ব আইনি চুক্তি!
সম্প্রতি ‘হিন্দি রাশ’-কে দেওয়া একটি খোলামেলা সাক্ষাৎকারে এই বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছেন প্রবীণ বিনোদন সাংবাদিক জ্যোতি ভেঙ্কটেশ। তিনি জানান, অভিষেক ও করিশ্মার বাগদান সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পরও রহস্যজনকভাবে বারবার পিছিয়ে যাচ্ছিল বিয়ের তারিখ। টালবাহানা চলতেই থাকে এবং শেষ পর্যন্ত সেই সানাই আর বাজেনি।
জ্যোতি ভেঙ্কটেশের বক্তব্য অনুযায়ী, এই হাই-প্রোফাইল বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পেছনে ববিতা কাপুরের অসম্মতি যেমন একটা বড় কারণ ছিল, তেমনই জলঘোলা হয়েছিল একটি আইনি চুক্তিকে কেন্দ্র করে। পাশ্চাত্য দুনিয়ায় বিয়ের আগে এই ধরণের চুক্তি করার চল রয়েছে, যেখানে মূলত সম্পত্তি এবং আর্থিক লেনদেনের অধিকার সুনির্দিষ্ট করা থাকে। কাপুর পরিবারের পক্ষ থেকে নাকি বচ্চনদের সামনে এমনই এক বিবাহপূর্ব চুক্তির প্রস্তাব রাখা হয়েছিল, যা মেনে নিতে পারেনি অমিতাভ বচ্চনের পরিবার। আর এই মতবিরোধের জেরেই শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায় দুই পরিবারের রূপকথার বিয়ে।
কী ছিল সেই চুক্তিতে?
শোনা যায়, সম্পত্তির ভাগ এবং আলাদা একটা বাংলো করিশ্মাকে দেওয়া কথা লেখা ছিল চুক্তিতে। শুধু তাই নয়, বিয়ের পর করিশ্মা কখনই বচ্চন পদবি ব্য়বহার করবে না, তাও চুক্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছিল। গুঞ্জনে রয়েছে, জয়া বচ্চন এই চুক্তিতে রাজি হননি। আর সেই কারণেই বিয়েতে ভাঙন!
অথচ একটা সময় বচ্চন এবং কাপুর পরিবারের ঘনিষ্ঠতা ছিল বলিপাড়ার অন্যতম দৃষ্টান্ত। অমিতাভ বচ্চনের মেজো মেয়ে শ্বেতা বচ্চনের বিয়ে হয়েছিল রাজ কাপুরের নাতি নিখিল নন্দার সঙ্গে। সেই পারিবারিক রসায়নকে আরও মজবুত করতেই ২০০২ সালের অক্টোবর মাসে মহাসমারোহে আংটি বদল হয়েছিল অভিষেক ও করিশ্মার। স্বয়ং বিগ বি-র ৬০তম জন্মদিনের রাজকীয় মঞ্চে দাঁড়িয়ে করিশ্মাকে নিজেদের হবু পুত্রবধূ হিসেবে আলাপ করিয়ে দিয়েছিল বচ্চন পরিবার।
কিন্তু সেই আনন্দের রেশ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০০৩ সালের জানুয়ারি মাসেই, অর্থাৎ মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে সবাইকে চমকে দিয়ে ভেঙে যায় সেই বাগদান। এই আকস্মিক বিচ্ছেদের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই, ওই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে দিল্লির নামী শিল্পপতি সঞ্জয় কাপুরকে বিয়ে করে নতুন জীবন শুরু করেন করিশ্মা। যদিও সেই দাম্পত্য সুখের হয়নি, দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর ২০১৬ সালে তাঁদের পাকাপাকি বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। অন্যদিকে, ২০০৭ সালে বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বর্য রাইয়ের সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়েন অভিষেক বচ্চন। বর্তমানে তাঁদের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। তবে দুই পরিবার আজ যে যার মতো গুছিয়ে নিলেও, জ্যোতি ভেঙ্কটেশের এই নতুন দাবি বলিউডের এক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিচ্ছেদ-বিতর্ককে নতুন করে উস্কে দিল।