হলদিয়ায় ডেটা সেন্টার গড়ার উদ্যোগ
এই সময়, হলদিয়া: কাজের সুবিধার্থে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস নতুন ডেটা সেন্টার গড়তে উদ্যোগী হয়েছে। এর জন্য তারা হলদিয়া ডেভলপমেন্ট অথরিটির (এইচডিএ) কাছে ১০০ একর জমি চেয়েছে। জমি দেওয়ার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে এইচডিএ। হলদিয়া ডেভলপমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান তথা পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার শুক্রবার এ কথা জানিয়েছেন।
হলদিয়ায় ১৯৮৫তে নির্মাণ কাজ শুরু হয় হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের। উৎপাদন শুরু হয় ২০০০-এ। ইতিমধ্যে প্লাস্টিক উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশ্বের বাজারে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের নাম সুবিদিত। বহুমুখী প্লাস্টিক উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই শিল্প সংস্থা চলতি বছরে ৫০০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগে দেশের মধ্যে বৃহত্তম ফেনল কারখানা তৈরি করেছে।
হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের পাশেই এই কারখানা গড়ে উঠছে। বছরে ৩৪৫ কিলো টন ফেনল এবং ১৮৫ কিলো টন অ্যাসিটোন উৎপাদিত হবে এই কারখানায়। পাশাপাশি কিউমিন উৎপাদিত হবে এখানে। প্লাস্টিক শিল্পের পাশাপাশি পেইন্টস এবং কসমেটিকস উৎপাদনের ক্ষেত্রে নতুন এই কারখানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে।
বছরে সাত লক্ষ টন পলিইথিলিন উৎপাদন হয় হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসে। এইচএম এইচডিপিই ফিল্ম, এইচডিপিই পাইপ, এইচডিপিই রো মোল্ডিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল কেমিক্যালস, ফুড কেমিক্যালস, এলপিজি পিউরিফায়ার, ইত্যাদি উৎপাদন আন্তর্জাতিক বাজারে এইচপিএলের জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে। বিশ্বের বাজারে তাদের উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। সেই সুবাদে ২০২২-২০২৩ অর্থবর্ষে ৯৯৯ কোটি টাকা রেভিনিউ সংগ্রহ করেছেন এইচপিএল কর্তৃপক্ষ।
এ বার সেই কেমিক্যাল সেক্টরে ফেনল এবং অ্যাসিটোন, কিউমিন উৎপাদন নতুন সংযোজন। উন্নত গুণমান বজায় রাখার কারণে বর্তমানে ফেনল প্লান্টটি উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। এখানে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার বলেন, ‘এইচপিএল কর্তৃপক্ষ ডেটা সেন্টার করার জন্য ১০০ একর জমি চেয়েছেন। কারখানার পাশাপাশি জমি পেলে কাজের সুবিধে হবে বলে ওঁরা জানিয়েছেন। যদি তেমন জমি পাওয়া যায় ভালো। না হলে আমরা অন্যত্র জমির ব্যবস্থা করবো, যেখানে ওঁরা কাজ করতে পারবেন। সব কিছুই আমরা খতিয়ে দেখছি।’