বেদ -গীতা পাঠ, যোগ ধর্মীয় কার্যকলাপের অংশ নয়! বড় নির্দেশ আদালতের - 24 Ghanta Bangla News
Home

বেদ -গীতা পাঠ, যোগ ধর্মীয় কার্যকলাপের অংশ নয়! বড় নির্দেশ আদালতের

Spread the love

চেন্নাই: ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে এক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে মাদ্রাস হাইকোর্ট (Madras)। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ভগবদ্গীতা, বেদান্ত ও যোগ শিক্ষা কোনোভাবেই ধর্মীয়…

চেন্নাই: ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে এক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে মাদ্রাস হাইকোর্ট (Madras)। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ভগবদ্গীতা, বেদান্ত ও যোগ শিক্ষা কোনোভাবেই ধর্মীয় কার্যকলাপের আওতায় পড়ে না। বিদেশি অবদান নিয়ন্ত্রণ আইন (এফসিআরএ) অনুসারে এগুলোকে ধর্মীয় কাজ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

এই রায়কে অনেকে ভারতীয় সভ্যতার মূল স্রোতকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করেছে যে, বেদ, গীতা, উপনিষদ ও যোগ ভারতের সাংস্কৃতিক ও দার্শনিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এগুলো কোনো একটি ধর্মের সীমানায় আবদ্ধ নয়, বরং এগুলো নৈতিকতা, দর্শন, শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতীক।

আরও দেখুনঃ

আদালত বলেছে, এই জ্ঞানভাণ্ডার সমগ্র মানবজাতির জন্য উন্মুক্ত এবং এর চর্চা ধর্মীয় প্রচার নয়, বরং সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত কার্যক্রম।রায়ে আদালত উল্লেখ করেছে যে, এফসিআরএ আইনের উদ্দেশ্য হলো বিদেশি অর্থের অপব্যবহার রোধ করা, কিন্তু সেটাকে ভারতীয় ঐতিহ্যের চর্চাকে দমিয়ে দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। গীতা পাঠ, যোগাসন বা বেদান্ত আলোচনা যদি ধর্মীয় কাজ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তাহলে ভারতের নিজস্ব সভ্যতার শিকড়কেই অস্বীকার করা হয় বলে আদালত মনে করে।

এই রায়ের পটভূমিতে একটি সংস্থার এফসিআরএ লাইসেন্স সংক্রান্ত মামলা ছিল। সংস্থাটি গীতা, যোগ ও বেদান্তের শিক্ষা কার্যক্রম চালাত। কর্তৃপক্ষ এটিকে ধর্মীয় কাজ বলে চিহ্নিত করে লাইসেন্স নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। আদালত সেই অবস্থান খারিজ করে দিয়ে বলেছে, এই ধরনের কার্যক্রমকে ধর্মীয় প্রচার হিসেবে দেখা ভুল। বরং এগুলো ভারতীয় সভ্যতার মূল স্রোতের অংশ, যা হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈনসহ বিভিন্ন ধারার সঙ্গে যুক্ত।

আদালতের এই পর্যবেক্ষণকে বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। তাঁরা বলছেন, এর ফলে স্কুল-কলেজে গীতা পাঠ, যোগ শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো নিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটতে পারে। এতদিন কেউ কেউ এগুলোকে ‘সাম্প্রদায়িক’ বলে আক্রমণ করতেন। আদালতের রায় সেই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে শক্ত দেওয়াল তুলে দিয়েছে।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো স্বাগত জানিয়েছে। তাঁরা বলছেন, এটি ভারতের সাংস্কৃতিক জাগরণের এক বড় পদক্ষেপ। অন্যদিকে কিছু বিরোধী দল ও সেকুলার মহল এই রায় নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছে। তাঁদের মতে, এর ফলে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি ক্ষুণ্ণ হতে পারে। তবে আদালত স্পষ্ট করেছে যে, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধর্মের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *