আয়ারল্যান্ডের কাছে বিশ্রি হার, তবু শ্রেয়সের দাবি, ‘অধিনায়ক হিসেবে ভালো শুরু…’
শ্রেয়স আইয়ারের (Shreyas Iyer) অধিনায়কত্বের নতুন অধ্যায় শুরু হলো, কিন্তু সেই শুরুটা মোটেও সুখের হলো না। বেলফাস্টে (Belfast) আয়ারল্যান্ডের (Ireland) বিরুদ্ধে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বড় ধাক্কা খেল ভারত (India)। ১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ১৪৮ রানেই থেমে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ফলে ৩৪ রানের ঐতিহাসিক জয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসে আয়ারল্যান্ড। ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপের ব্যর্থতার মাঝে একমাত্র লড়াই করেন অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma)। তাঁর ২০ বলে ঝোড়ো ৪৯ রান কিছুটা আশা জাগালেও অন্য প্রান্তে সঙ্গ না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত হার এড়ানো যায়নি।
শুরুতে দাপট থাকলেও পরে নিয়ন্ত্রণ হারায় ভারত
টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন শ্রেয়স আইয়ার। শুরুতে ভারতের বোলাররা দারুণ ছন্দে ছিল এবং আয়ারল্যান্ডকে চাপে ফেলে দেয়। আয়ারল্যান্ড ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৮২ রান। অধিনায়ক লরকান টাকার (Lorcan Tucker) করেন হাফ সেঞ্চুরি, আর গ্যারেথ ডেলানি (Gareth Delany) খেলেন ৪৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। ভারতের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন হার্ষিত রানা (Harshit Rana), যিনি ৪ ওভারে ৩ উইকেট নেন।
ব্যাটিং ব্যর্থতা ও শ্রেয়স আইয়ারের প্রতিক্রিয়া
১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতের শুরুটা ভালো হলেও দ্রুতই বিপর্যয় নামে। সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson) দ্রুত আউট হয়ে যান। এর পর মিডল অর্ডারে কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। শ্রেয়স আইয়ার নিজেও ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন এবং মাত্র ৩ রান করে আউট হয়ে যান। ম্যাচ শেষে শ্রেয়স আইয়ার বলেন, কোনও কিছুই হালকা ভাবে নেওয়া যাবে না এবং প্রতিটি মুহূর্তে সম্পূর্ণ মনোযোগ ধরে রাখতে হবে।
তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটে কোনও কিছুই ধরে নেওয়া যায় না। শুধু মাঠে নামলেই ম্যাচ জিতে যাব, এমন ভাবার সুযোগ নেই। জিততে হলে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্তে মনোযোগ ধরে রাখতে হয়। প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার সুযোগ এলে সেটাকে কাজে লাগাতেই হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘খেলার প্রতিটি পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিতে হয়। কোনও কিছুই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।’
তিনি বলেন, ‘শুরুতে আমাদের বোলাররা দারুণ বোলিং করেছিল। ওরা যথেষ্ট ধারালো পারফরম্যান্স করেছে। আমাদের ইনিংসের সময় খুব দ্রুত কয়েকটি উইকেটও তুলে নিয়েছিল। ফলে আমরা অসাধারণ শুরুটা করেও, পরে পরিকল্পনা ঠিক ভাবে বাস্তবায়ন করতে পারিনি। আমরা প্রতিপক্ষকে সোজা ব্যাটে মাঠের মাঝখান দিয়ে শট খেলার সুযোগ দিয়েছি, যেখানে বাউন্ডারি লাইন তুলনামূলক ছোট ছিল। তবে ওদের কয়েক জন বোলারও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অসাধারণ বোলিং করেছে।’
অধিনায়ক হিসেবে শেখার অভিজ্ঞতা
হারের পরও শ্রেয়স আইয়ার এই ম্যাচকে নিজের অধিনায়কত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শেখার অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের শুরুটা যে ভাবে হয়েছিল, তাতে আমার মনে হয়েছিল ১৪০ রানও খুব ভালো লক্ষ্য হতো। তবু এই ম্যাচ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। এই পরিবেশে খেলার সুযোগ পেলাম, উইকেট সম্পর্কে ভালো ধারণা হলো। সেই দিক থেকে দেখলে অধিনায়ক হিসেবে এটি আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক অভিজ্ঞতা। ভালো শুরু। এটি আমার জন্য একটি বড় শিক্ষা এবং অধিনায়ক হিসেবে আমি অনেক কিছু শিখছি।’