শিল্প-বাণিজ্যে রাজ্যের ছবি বদলের উদ্যোগ
এই সময়: স্বাধীনতার পরে অর্থনীতি তথা বাণিজ্যিক মানচিত্রে যেখানে দেশে সামনের সারিতে ছিল বাংলা, সময় যত এগিয়েছে ততই উন্নয়নের সরণি থেকে দূরে সরেছে পশ্চিমবঙ্গ। শুক্রবার বণিকসভা বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিঅ্যান্ডআই) আয়োজিত ‘দ্য ডন অফ বিকশিত বেঙ্গল’ অনুষ্ঠানে এমনটাই দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সঞ্জীব সান্যাল। তাঁর কথায়, ‘বাঙালিরা ব্যবসা করতে পারে না, এটা ভুল কথা। মনে রাখতে হবে, বাঙালির রক্তেই ব্যবসা রয়েছে। ইতিহাসের পাতা ঘাঁটলে দেখা যাবে, তাম্রলিপ্ত, চন্দ্রকেতুগড়ের মতো বিশ্বসেরা বন্দর বাংলাতেই ছিল। পরে শ্রীরামপুর-সহ একাধিক বন্দরও গড়ে উঠেছিল। শুধু তাই নয়, বাঙালিদের একাধিক পদবী থেকেও স্পষ্ট, তাঁরা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।’
পাশাপাশি, রীতিমতো তথ্য পরিসংখ্যান সহকারে তিনি জানান, ১৯৬০ সালে দেশে মাথাপিছু সার্বিক গড় আয়ের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গবাসীর মাথপিছু গড় আয় ছিল ২৭ শতাংশ বেশি। কিন্তু রাজ্যের সেই সুদিন গত হয়েছে বহুকাল আগেই। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, এখন দেশের গড় মাথাপিছু আয়ের থেকেও ২০ শতাংশ পিছিয়ে গিয়েছে রাজ্যবাসীর মাথাপিছু গড় আয়। যে অন্ধকার থেকে বেরোতে তাঁর নিদান, কলকাতাকে নতুন করে গড়তে হবে। তা হলেই পূর্ব ভারত ফের উন্নতির পথে ফিরবে। এর জন্য কলকাতায় যে জমিগুলি অব্যবহৃত রয়েছে, সেগুলিকে বাণিজ্যিক ভাবে ব্যবহারের কথা ভাবার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
এ দিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এবং শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়–সহ শিল্পমহলের প্রতিনিধিরা। এ দিন অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন একটি আনহ্যাপি বাংলা পেয়েছি, যেখানে সাধারণ মানুষ থেকে শিল্পপতি, সকলেরই কিছু না কিছু অভিযোগ রয়েছে। তবে দ্রুত এই অবস্থার পরিবর্তনে উদ্যোগী হচ্ছে রাজ্য।’ তাঁর আরও দাবি, ‘সিঙ্গুরের পরে পশ্চিমবঙ্গের ছবিতে কালি লেগেছিল। এখন আমরা চাই রাজ্যে শিল্পবান্ধব পরিস্থিতি তৈরি করতে যাতে আগামী চার বছরে পশ্চিমবঙ্গ দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হারের সাক্ষী হতে পারে।’ অন্য দিকে, রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় বলেন, ‘আমরা স্বচ্ছ, জটিলতাহীন, বাণিজ্যবান্ধব পরিবেশ দেওয়ার উপরেই জোর দিচ্ছি। আমাদের উন্নতি হলে পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলিরও উন্নতি হবে।’
বাংলার উন্নয়ন যাত্রায় সামিল হতে চেয়ে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস কর্তৃপক্ষ এ দিন জানিয়েছেন, তাঁরা রাজ্যে ৬,০০০ কোটি টাকা লগ্নি করে নতুন ফেনল প্ল্যান্ট গড়তে চলেছেন। অন্য দিকে, লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তাঁরা রাজ্যে সফটওয়্যার পার্ক তৈরি করতে চলেছেন। যেখানে ২৫,০০০ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে চলেছে। পিয়ারলেসও জানিয়েছে, তারাও রাজ্যে ১,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে চলেছে।