তৃণমূলনেত্রীর কথায় পিএম না-করার নির্দেশ সুপারের? - 24 Ghanta Bangla News
Home

তৃণমূলনেত্রীর কথায় পিএম না-করার নির্দেশ সুপারের?

Spread the love

এই সময়, ইসলামপুর: তৃণমূল নেত্রীর কথায় ময়নাতদন্ত না-করেই লিখে দেওয়া হয় মৃত্যুর কারণ! এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করলেন উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের এক বাসিন্দা। একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে সম্প্রতি তিনি রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং পুর ও নগরোন্নয় মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কাছে ইমেলে অভিযোগ জানিয়েছেন।

গত বছর ৩১ ডিসেম্বরের ঘটনা। অভিযোগে ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, ইসলামপুর সংলগ্ন বিহারের পাহাড়কাট্টা এলাকার ১৭ বছরের এক কিশোরীকে ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে বিষক্রিয়ার কারণে ভর্তি করা হয়। সেই সময়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক দীপক সিং রোগীকে পরীক্ষা করে দ্রুত উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। অভিযোগ, কিশোরীর পরিবার সেই পরামর্শ মানতে চায়নি। এরপরে তিনি মহকুমা হাসপাতালেরই ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করার কথা বললেও তারা বেঁকে বসে। এর কিছুক্ষণের মধ্যে হাসপাতালে মৃত্যু হয় কিশোরীর।

অভিযোগকারী জানিয়েছেন, কিশোরীর মৃত্যুর পরে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুপারিশ করেন চিকিৎসক। অভিযোগ, এ ক্ষেত্রেও পরিবারের সদস্যরা বিরোধিতা করেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই সময়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে হাসপাতালে পৌঁছয় পুলিশ। কিন্তু তার পরে হঠাৎই সবাই চুপ হয়ে যায়। তাঁর দাবি, উচ্চবাচ্য না-হওয়ার কারণ, ওই সময়ে হাসপাতালের সুপার সুরাজ সিনহা ফোন করে কর্তব্যরত চিকিৎসক দীপককে ময়নাতদন্ত না-করার নির্দেশ দেন। মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘সংক্রমণজনিত অসুস্থতা’ উল্লেখ করে মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

বিষয়টি নিয়ে এখন মুখ খুলেছেন দীপক। বলেন, ‘রোগিণীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে রেফার করেছিলাম। পরে সিসিইউ-তেও ভর্তি করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা বলেন, ও তো মারাই যাবে, সিসিইউ-তে পাঠিয়ে কী হবে!’ তাঁর সংযোজন, ‘কিছুক্ষণ পরে রোগীর মৃত্যু হলে আমি ময়নাতদন্তের কথা লিখি। কিন্তু পরিবারের লোকজন আপত্তি তুলে ঝামেলা শুরু করেন। হাসপাতাল সুপার আমাকে ময়নাতদন্ত না-করার নির্দেশ দেন।’

অভিযোগকারীর দাবি, তৃণমূলের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা জাভেদ আখতারের স্ত্রী এবং উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদের সদস্য ফারহাত বানু ওই কিশোরীর ময়নাতদন্ত করতে নিষেধ করেছিলেন সুপারকে। এমনকী, ফারহাত জেলা পরিষদের লেটারহেডে সুপারের কাছে এই মর্মে একটি চিঠিও দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। ঘটনায় সুপারের সংক্ষিপ্ত মন্তব্য, ‘আমাদের সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলা বারণ আছে।’ এ দিকে, অভিযুক্ত ফারহাতের প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও তাঁর স্বামী, তৃণমূল নেতা জাভেদ বলেছেন, ‘এ ধরনের কোনও ঘটনার কথা মনে নেই।’

হাসপাতালের নথি অনুযায়ী সেই সময়ে ওই কিশোরীর অভিভাবক হিসেবে সই করেছিলেন তার কাকা। তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মেজাজ হারিয়ে বলেন, ‘এত দিন আগের কথা এখন তুলছেন কেন?’ পরে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আপনার বাড়ির ঠিকানা বলুন, দেখা করব।’ ইসলামপুরের বিধায়ক কানাইয়ালাল আগারওয়াল বলেন, ‘কয়েক মাস আগে পর্যন্ত আমি হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান ছিলাম। তখন এই ধরনের কোনও ঘটনা আমার কানে আসেনি। কোনও নেতার কথায় যদি সুপার ময়নাতদন্ত না-করার নির্দেশ দিয়ে থাকেন, তা হলে তা অন্যায়।’

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *