নির্মাণে আপস, আপত্তি করায় বাদ বিশেষজ্ঞ, তিরে ‘বেহরা ব্রাদার্স’ - 24 Ghanta Bangla News
Home

নির্মাণে আপস, আপত্তি করায় বাদ বিশেষজ্ঞ, তিরে ‘বেহরা ব্রাদার্স’

Spread the love

তাপস প্রামাণিক

বন্দরের জমি যাঁরা লিজ় নিচ্ছেন, তাঁরা আবার অন‍্য কোনও সংস্থাকে তা ভাড়া দিয়ে দিচ্ছেন। ফলে তাঁরা যখন সেখানে গোডাউন বা অন‍্য কিছু নির্মাণ করছেন, সেটা কম খরচে কাজ চালানোর মতো করে করছেন। তারাতলায় গোডাউনের ছাদ ভেঙে ভয়াবহ মৃত্যুর পরে এমন অভিযোগই উঠে এসেছে কলকাতা পুরসভার অন্দর থেকে।

পুরসভার একটি সূত্র জানাচ্ছে, এই বেআইনি নির্মাণ নিয়ে তৃণমূল সরকারের আমলে আপত্তি জানিয়েছিলেন আইটিপিআই-এর (ইনস্টিটিউট অফ টাউন প্ল্যানার্স অফ ইন্ডিয়া) প্রতিনিধিরা। তা অবশ্য ধোপে টেকেনি। আইন মেনেই পুরসভার এমবিসি (মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিং কমিটি)–তে ছিলেন আইটিপিআই–এর প্রতিনিধিরা। অভিযোগ, বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনে বেআইনি কাজকে সমর্থন না জানানোয় বছর দুয়েক আগে তাঁদের সরিয়ে পছন্দের লোককে কমিটিতে রাখে পুরসভা। এ নিয়ে আইটিপিআই থেকে পুরসভাকে চিঠিও দেওয়া হয়েছিল।

অতীতে যখন কলকাতা বন্দরে জাহাজ ভিড়ত, তখন পণ্য রাখার জন্য তারাতলা, গার্ডেনরিচ, স্ট্র্যান্ড রোডে গোডাউন ও খালি জায়গা ছিল। আয় বাড়াতে এই সব গোডাউন এবং খালি জমি এখন ভাড়া দেন কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ। তারাতলায় এমনই এক খালি জমি ভাড়া নিয়ে সেখানে গোডাউন বানাচ্ছিল ‘বেহরা ব্রাদার্স’। সূত্রের খবর, টেন্ডার ডেকে লিজ় দেওয়া হচ্ছে ওই সব গোডাউন ও খালি জমি। কলকাতা ও আশপাশ মিলিয়ে এ রকম প্রায় ১০০ একর জমি বিভিন্ন সংস্থা লিজ়–এ পেয়েছে। সবথেকে বেশি জমি রয়েছে তারাতলা ও ব্রেসব্রিজ এলাকাতেই।

পুরসভার তালিকাভুক্ত এলবিএস (লাইসেন্সড বিল্ডিং সার্ভেয়ার) অথবা আর্কিটেক্টরাই বাড়ির নকশা তৈরি করেন। ফলে নকশায় কোনও ত্রুটি থাকলে দায় বর্তায় তাঁদের উপরেই। প্ল্যান জমা পড়ার পরে ড্রেনেজ, দমকল, সিইএসসি, পুলিশ-সহ একাধিক দপ্তরের ক্লিয়ারেন্স লাগে। সে পর্ব মিটলে বিল্ডিং বিভাগ সিদ্ধান্ত নেয়, কোন কেস এমবিসি–তে পাঠানো হবে। এমবিসিতে প্ল্যান অনুমোদিত হওয়ার পরে কিছু ক্ষেত্রে মেয়র পারিষদের অনুমোদন নেওয়া হয়। প্রথমে সই করেন কমিশনার। পরে মেয়রকে দিয়ে সই করানো হয়। এরপর বিল্ডিং বিভাগের ডিজি অনলাইনে প্ল্যান অনুমোদন করেন।

আইটিপিআইয়ের রাজ্য শাখার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা কলকাতা পুরসভার টাউন প্ল্যানিং বিভাগের প্রাক্তন চিফ ইঞ্জিনিয়ার দীপঙ্কর সিংহ বলেন, ‘আইন আইটিপিআইয়ের মনোনীত আর্কিটেক্ট রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু আইটিপিআইয়ের প্রতিনিধিরা বার বার বিল্ডিং প্ল্যানের ত্রুটি চোখে আঙুল তুলে দেখিয়ে দেওয়ায় ওরা নিজেদের পছন্দের লোককে বসিয়েছে।’

পুরসভা সূত্রের খবর, তারাতলায় ভেঙে পড়া গোডাউনের বিল্ডিং প্ল্যান এমবিসিতে পাস হওয়ার পরে মেয়র পারিষদ বৈঠকে অনুমোদিত হয়। সেই মতো গোডাউনের বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন করেছিল বিল্ডিং বিভাগ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় জানিয়েছেন, গোডাউনের নকশায় গন্ডগোল ছিল। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, নকশায় ত্রুটি থাকলে তার দায় কি এড়াতে পারেন বিল্ডিং বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক এবংএমবিসির সদস্যরা?

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *