‘খাওয়ানো’ বা নেটওয়ার্কিং, গবেষণার হদ্দমুদ্দ
আসলে, পড়াশোনার মান যে হেতু ক্রমাগত কমে এসেছে এবং পড়াশোনা লোক-ঠকানো ব্যবসায় পরিণত হয়ে চলেছে, তাই এখনকার শিশুদের অভিভাবকেরা অনেকেই তার শিকার। একদা ভালো শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে অর্থনীতির যা কিছু পাখি-পড়া করে শিখিয়ে দেওয়া হতো, এখন সে সব তত্ত্ব যখন জার্নালের রেফারি এবং সম্পাদকেরা ভুলে যান, তখন টেক্সট বইয়ের পাতা ফটোকপি করে পাঠাতে হয়, কারণ তাঁরা কেউই টেক্সট বই পড়েননি।
ইংল্যান্ডের একটি বিশিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে কমবয়সি এক অধ্যাপক বিভাগীয় প্রধান হওয়ার পর বেশ কিছু শিক্ষকের ‘পাইয়ে দেওয়া’র মনোবৃত্তির কারণে পঠন-পাঠনের গুণমান তলানিতে টেনে নামানোর সমস্যাটি কর্তৃপক্ষের নজরে আনার পর, সেই বিভাগীয় প্রধানকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছিল। এই পশ্চিমবঙ্গে তৎকালীন কিছু ভালো শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষকদের আনুকূল্যে সেই অধ্যাপকের পড়াশোনার ‘ভালো-মন্দ’-এর অনুভূতি গজিয়ে উঠেছিল। পরে এ কথাও তাঁকে শুনতে হয়েছিল যে, তাঁর কাজ আর গবেষণা নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ধনবান ছাত্রছাত্রী ও গবেষণার রসদের সংস্থান করা। বিশ্বময় সরকার বাহাদুররা শিক্ষাকে সবুজ কদলী দেখিয়ে শিক্ষাখাতে খরচার পরিমাণ কমাতে কমাতে এমন অবস্থা করেছেন যে, যারা পয়সা দিয়ে পড়বে, তারাই ঠিক করে দেয় যে কী গবেষণা হবে।