নকআউটে গিয়ে ‘ভাইকিং রো’-তে মজলেন হাল্যান্ডরা, জানেন এই সেলিব্রেশনের ইতিহাস? - 24 Ghanta Bangla News
Home

নকআউটে গিয়ে ‘ভাইকিং রো’-তে মজলেন হাল্যান্ডরা, জানেন এই সেলিব্রেশনের ইতিহাস?

Spread the love

২৮ বছর পর বিশ্বকাপে নেমে নকআউটে প্রবেশ করেছে নরওয়ে। আর্লিং হাল্যান্ড সহ বাকিদের দাপটে এ বার নরওয়ে বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার। তারা যেমন বিশ্বকাপে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে নজর কাড়ছে, তেমনই মাঠের বাইরেও তারা আলোচনায় তাঁদের উদযাপন ভাইকিং রো দিয়ে চলতি বিশ্বকাপের এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে ভাইরাল ট্রেন্ডগুলোর একটি হয়ে উঠেছে এটি।

সেনেগালের বিপক্ষে ৩-২ গোলে ম্যাচ জিতে নকআউটে প্রবেশ করে নরওয়ে। আর নকআউট নিশ্চিত করার পর তারা মাঠে বসে সেলিব্রেশনে মাতেন সমর্থকদের সঙ্গে। যেখানে মার্টিন ওডেগার্ডের বাজানো ড্রামের সঙ্গে প্রত্যেকে ভাইকিং রো উদযাপন করেন। একই ছবি মাঠের পাশাপাশি দেখা যায় নরওয়ের সংসদেও।

কী এই ‘ভাইকিং রো’?

নরওয়ের এই উদযাপনের নেপথ্যে রয়েছে শত শত বছরের ইতিহাস। ঐতিহাসিকদের মতে, ৭০০ থেকে ১১০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল ভাইকিং যুগ। সে সময় স্ক্যান্ডিনেভিয়ার নরওয়ে, সুইডেন ও ডেনমার্কের যোদ্ধারা বিশাল আকৃতির লংবোটে চড়ে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে সমুদ্রযাত্রা করতেন।

ব্রিটেন, আয়ারল্যান্ডসহ বহু দেশে পৌঁছে তারা বাণিজ্য ও অভিযানে অংশ নিতেন। রুপো, রেশম, মশলা, অলংকার এবং বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে দেশে ফিরতেন তাঁরা।

ফুটবল মাঠে ‘রোয়িং’ বা দাঁড় টানার এই ভঙ্গি মূলত সেই সমুদ্রযাত্রার প্রতীক। এটি শুধু একটি উদযাপন নয়, বরং নরওয়ের জাতীয় পরিচয়, ঐতিহ্য এবং ঐক্যেরও প্রতিফলন।

টাইমস স্কয়ার থেকে বিশ্বমঞ্চ

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই অসলোতে এই উদযাপনের সূচনা হয়েছিল। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে স্টেডিয়ামের গ্যালারি, রাস্তাঘাট এবং নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত টাইমস স্কয়্যারেও। নরওয়ের ট্রন্ডহাইম শহরেও হাজার হাজার সমর্থক একই ভঙ্গিতে উদযাপন করছেন। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা নরওয়েজিয়ানদের মধ্যে এক ধরনের সংযোগ তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার নরওয়ে দলের সদস্যরা ভাইকিং থিময়ের পোশাক পরে ফটোশ্যুট করে।

norway Team photo themed Viking before departure
বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগে ফটোশ্যুটে নরওয়ে দল

মিডফিল্ডার প্যাট্রিক বার্গ জানিয়েছেন, শুরুতে অনেকেই এই উদযাপনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। বলেন, ‘প্রথম দিকে অনেকেই ভাবতেন এটি হয়তো কয়েক দিনের মধ্যেই হারিয়ে যাবে। কিন্তু এখন এটি আমাদের বিশ্বকাপ যাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এখন অসলো থেকে শুরু করে নিউ ইয়র্ক পর্যন্ত মানুষ এটি করছে। এখন পুরো বিশ্ব এই উদযাপনের সঙ্গে পরিচিত। সমর্থকদের সঙ্গে আমরা যে সম্পর্ক তৈরি করছি, সেটি দলের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।’

বর্তমানে গ্রুপ ‘আই’-এ দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে নরওয়ে। গোল পার্থক্যের বিচারে তারা শীর্ষে রয়েছে ও দ্বিতীয় স্থানে আছে ফ্রান্স। শুক্রবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে হালান্ড-ওডেগার্ডরা।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *