ঝলমলে আলোর আড়ালে বৈষম্যের অন্ধকার - 24 Ghanta Bangla News
Home

ঝলমলে আলোর আড়ালে বৈষম্যের অন্ধকার

Spread the love

পর্দায় তাঁদের উপস্থিতি গল্পকে পূর্ণতা দেয়, অথচ বাস্তবে তাঁদের অস্তিত্বই যেন অনেক সময় উপেক্ষিত। বলিউডের চাকচিক্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই কঠিন বাস্তবের কথা সামনে আনলেন দুই পরিচিত চরিত্রাভিনেতা সুনীতা রাজওয়ার এবং যতীন নেগি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁরা জানিয়েছেন, তারকাখচিত ইন্ডাস্ট্রির ভিতরে এখনও রয়ে গিয়েছে এক ধরনের অদৃশ্য ‘কাস্ট সিস্টেম’।

‘বেল বটম’, ‘সিআইডি’, ‘ক্রাইম পেট্রোল’-এর মতো একাধিক প্রজেক্টে কাজ করা যতীনের কথায়, চরিত্রাভিনেতাদের সম্মান অনেকাংশে নির্ভর করে তাঁদের চরিত্রের গুরুত্বের উপর। প্রধান অভিনেতারা যেখানে একাধিক ভ্যানিটি ভ্যান, ব্যক্তিগত কর্মী এবং বিশেষ সুবিধা পান, সেখানে ছোট চরিত্রের অভিনেতাদের অনেক সময়ে সাত-আট জন মিলে একটি ভ্যান ভাগ করে নিতে হয়। এমনকী তাঁদের নামও অনেক সময়ে মনে রাখা হয় না। ২৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অভিনেত্রী সুনীতা রাজওয়ারও একই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন।

Entertainment News
যতীন নেগি

তাঁর মতে, সেটে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা শিল্পীদের ঘিরেই সবকিছু আবর্তিত হয়। ছোট চরিত্রে অভিনয় করলে অনেক সময়ে স্পটবয়দের কাছ থেকেও যথাযথ সম্মান পাওয়া যায় না। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়, খাবারের ক্ষেত্রেও নাকি চলে বিভাজন। যতীনের দাবি, বহু বড় প্রযোজনা সংস্থাতেও ‘এ’, ‘বি’ এবং ‘সি’ ক্যাটাগরির ভিত্তিতে আলাদা খাবারের ব্যবস্থা থাকে। প্রধান অভিনেতা ও গুরুত্বপূর্ণ শিল্পীরা এক ধরনের খাবার পান, আর জুনিয়র শিল্পী বা ছোট চরিত্রের অভিনেতাদের জন্য থাকে অন্য ব্যবস্থা।

অনেক সময়ে তাঁদের সেটের বাইরে দাঁড়িয়ে খাবার খেতে হয়। এমনও ঘটেছে, পোশাক দেখে তাঁকে খাবারের জায়গায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সেই অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে ছিল অত্যন্ত অপমানজনক। তবে সব তারকাই যে এমন মানসিকতার, তা নয়। যতীনের কথায়, বহু বড় তারকাকে তিনি দেখেছেন সহ-শিল্পীদের পাশে দাঁড়াতে। একবার এক অভিনেতা গ্রিন টি চাইলে তা দিতে অস্বীকার করেছিলেন কর্মীরা। সেই সময়ে এক সুপারস্টার নিজে উদ্যোগ নিয়ে ব্যবস্থা করে দেন।

Entertainment News
সুনীতা রাজওয়ার

অর্থপ্রাপ্তির ক্ষেত্রেও বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন শিল্পীরা। প্রধান তারকারা সময়মতো মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক পেলেও চরিত্রাভিনেতাদের ক্ষেত্রে অনেক সময়ে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়। সুনীতা রাজওয়ারের দাবি, আগে ৪৫ দিনের মধ্যে টাকা মিটিয়ে দেওয়া হতো। পরে তা বেড়ে ৬০ দিনে পৌঁছয়, আর এখন অনেক ক্ষেত্রেই টেলিকাস্টের ৯০ দিন পরে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। কখনও আবার প্রকল্পে লোকসানের অজুহাতে টাকা কমিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। বাস্তব জীবনেও তাঁদের জীবনযাপন কিন্তু গ্ল্যামারে মোড়া নয়। সুনীতা আজও মেট্রো ও অটোতে যাতায়াত করেন। অন্য দিকে, মুম্বইয়ে একটি ছোট ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে থাকেন যতীন নেগি। তাঁর মতে, বহু তরুণ অভিনেতা আরও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে দিন কাটান।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *