৭২ থেকে ৪৯ কেজি! ওজন কমাতে ৮ অভ্যাস ত্যাগ করেছিলেন এই ফিটনেস ট্রেনার - 24 Ghanta Bangla News
Home

৭২ থেকে ৪৯ কেজি! ওজন কমাতে ৮ অভ্যাস ত্যাগ করেছিলেন এই ফিটনেস ট্রেনার

Spread the love

নয়াদিল্লি: ওজন কমানোর উপায় নিয়ে চারদিকে নানা পরামর্শের ছড়াছড়ি। কেউ নতুন ডায়েট (Fitness Tips) অনুসরণ করতে বলেন, কেউ আবার বিশেষ ধরনের ব্যায়ামের পরামর্শ দেন। তবে ফিটনেস ট্রেনার শিখা সুরানার মতে, তাঁর ৭২ কেজি থেকে ৪৯ কেজিতে পৌঁছানোর যাত্রার মূল রহস্য ছিল নতুন কিছু যোগ করা নয়, বরং কিছু ভুল অভ্যাসকে বিদায় জানানো।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ২৩ কেজি ওজন কমানোর অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন শিখা। তিনি জানিয়েছেন, এই পরিবর্তনের পিছনে ছিল না কোনও ক্র্যাশ ডায়েট, ডিটক্স চা বা অনাহারে থাকার মতো চরম পদক্ষেপ। বরং দৈনন্দিন জীবনের কিছু ক্ষতিকর অভ্যাস ত্যাগ করেই তিনি এই সাফল্য অর্জন করেছেন।

ইনস্টাগ্রামে শিখা লেখেন, “৭২ কেজি থেকে ৪৯ কেজি। কোনও ক্র্যাশ ডায়েট নয়, কোনও ডিটক্স টি নয়, অনাহারও নয়। শুধু কিছু ভুল অভ্যাস ছেড়ে দিয়েছিলাম।”

ওজন কমাতে যে ৮ অভ্যাস ছেড়েছিলেন শিখা

১. সকালের খাবার বাদ দেওয়া

আগে নিয়মিত ব্রেকফাস্ট এড়িয়ে যেতেন শিখা। ফলে দিনের শেষে অতিরিক্ত ক্ষুধা পেত এবং রাতের খাবারে অনেক বেশি খেয়ে ফেলতেন। পরে ঘুম থেকে ওঠার এক ঘণ্টার মধ্যেই সকালের খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলেন।

২. পানীয় থেকে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ

ফলের রস, বেশি চিনি দেওয়া চা এবং কোল্ড কফি তাঁর দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার অংশ ছিল। পরে তিনি এগুলির পরিবর্তে জল, ব্ল্যাক কফি এবং কম চিনি বা সাধারণ চা বেছে নেন।

৩. স্বাস্থ্যকর খাবারও অতিরিক্ত খাওয়া

মাখানা, শুকনো ফল, পিনাট বাটারের মতো স্বাস্থ্যকর খাবার খেতেন ঠিকই, কিন্তু পরিমাণের দিকে নজর দিতেন না। পরে বুঝতে পারেন, স্বাস্থ্যকর খাবারেও ক্যালোরি থাকে এবং অতিরিক্ত খেলে ওজন বাড়তে পারে।

৪. শুধু কার্ডিও, ওজন প্রশিক্ষণ নয়

দীর্ঘ সময় ট্রেডমিলে দৌড়ানোই ছিল তাঁর প্রধান ব্যায়াম। পরে ওয়েট ট্রেনিং শুরু করার পর শরীরের গঠনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখতে পান।

৫. কম ঘুম ও বেশি মানসিক চাপ

রাত জাগা এবং পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ার ফলে মানসিক চাপ ও খাবারের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যেত। এরপর তিনি প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমকে জীবনের অপরিহার্য অংশ করে তোলেন।

৬. বাইরে খাওয়ার উপর নির্ভরতা

রেস্তোরাঁর খাবারে কত ক্যালোরি বা কী উপাদান রয়েছে তা বোঝা কঠিন। তাই তিনি অধিকাংশ সময় বাড়ির রান্না করা খাবার খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

৭. ‘সব অথবা কিছুই নয়’ মানসিকতা

একদিন পিৎজা বা প্রিয় খাবার খেয়ে ফেললেই পুরো ডায়েট নষ্ট হয়ে গেছে বলে ভাবতেন। পরে তিনি বুঝতে পারেন, ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই আসল বিষয়, নিখুঁত হওয়া নয়।

৮. অনুপ্রেরণার অপেক্ষায় থাকা

‘আগামী সোমবার থেকে শুরু করব’ বা ‘সঠিক সময় এলে করব’— এই মানসিকতা ছেড়ে দেন তিনি। অনুপ্রেরণার বদলে শৃঙ্খলা ও নিয়মিত চর্চার উপর গুরুত্ব দিতে শুরু করেন।

কী শিখিয়েছে এই যাত্রা?

শিখার মতে, দীর্ঘমেয়াদি ওজন কমানোর জন্য কোনও শর্টকাট নেই। বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট সিদ্ধান্ত এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তাঁর অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, টেকসই ওজন কমানোর চাবিকাঠি লুকিয়ে থাকে দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ অভ্যাসগুলির মধ্যেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের সমন্বয়ই সুস্থ ওজন বজায় রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *