দলবিরোধী কাজের জন্য শো-কজ় দুই পদ্ম-নেতাকে - 24 Ghanta Bangla News
Home

দলবিরোধী কাজের জন্য শো-কজ় দুই পদ্ম-নেতাকে

Spread the love

এই সময়, বর্ধমান ও পুরুলিয়া: এ বার বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হওয়ার পরেই রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, দলীয় নীতির বাইরে গিয়ে কোনও ধরনের অনৈতিক কাজ করা যাবে না। কিন্তু তার পরেও সার্বিক পরিস্থিতিতে খুব একটা পরিবর্তন দেখা যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে রাজ্য বিজেপির উচ্চ–নেতৃত্ব যে রীতিমতো কড়া অবস্থানেই রয়েছেন, তা বোঝা গেল।

মঙ্গলবার নির্বাচন পরবর্তী অশান্তির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে বিজেপির বর্ধমান উত্তরের প্রার্থী সঞ্জয় দাসের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করলেন রাজ্য নেতৃত্ব। সঞ্জয়কে রাজ্য বিজেপির শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির ‘প্রমুখ’ প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, দলবিরোধী কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্য তাঁকে সাময়িক ভাবে সাসপেন্ড করা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে তাঁকে বিষয়টি লিখিত ভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে।

একই ছবি দেখা গিয়েছে পুরুলিয়ায়। নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে দলবিরোধী কাজের অভিযোগে পুরুলিয়া-২ ব্লকের ছড়রা গ্রামের বাসিন্দা মনোজ রজককে শো–কজ়ের চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাঁকেও সাত দিনের মধ্যে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে লিখিত ভাবে জবাবদিহি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বর্ধমান উত্তরের বিজেপি নেতা সঞ্জয়কে যে চিঠি দেওয়া হয়েছে, সেখানে লেখা রয়েছে, ‘আপনার বিরুদ্ধে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দলের নির্দেশ অমান্য করে কিছু সমাজবিরোধী ব্যক্তিকে দলে যোগদান করিয়েছেন। এতে মতবিরোধ ও তাদের দ্বারা অসামাজিক কার্যকলাপ সংগঠিত হয়েছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং দলীয় সংবিধান বিরোধী। পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি’র শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সুপারিশে ও রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, সাংসদ (রাজ্যসভা) মহাশয়ের নির্দেশানুসারে এই আচরণ ও দলবিরোধী কার্যকলাপের জন্য আপনাকে আগামী সাত দিনের মধ্যে তার কারণ চিঠি দিয়ে জানাতে হবে। আগামী নির্দেশ না–পাওয়া পর্যন্ত আপনাকে দল থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।’

এই বিষয়ে সঞ্জয়ের বক্তব্য, ‘আমি এ সব চিঠির কথা জানি না। হোয়াটস্যাপ, ফেসবুকে আপনাদের মতো আমিও দেখছি। দল আমাকে এ সব কিছু পাঠায়নি। কোনও মন্তব্যও করব না।’ যদিও বিজেপির বর্ধমান-দুর্গাপুর সাংগঠনিক জেলার জেলা সভাপতি অভিজিৎ তা বলেন, ‘দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি চিঠি পাঠিয়েছে। তারা আমাকেও কপি দিয়েছে। আমি এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করছি না।’

একই ভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে জামালপুর–১ মণ্ডলের সভাপতি প্রধানচন্দ্র পালকে। তিনি বলেন, ‘দল চিঠি দিয়েছে, উত্তর দলের কাছেই দেবো। বহু অপমান, হুমকি, মার খেয়ে দল করেছি। বর্তমান বিধায়ক তা জানেন। যাঁরা মিথ্যা অভিযোগ করেছেন, তাঁরা কত দিন আগে দলে ঢুকেছেন, সেটাও জানি।দল যা সিদ্ধান্ত নেবে, মাথা পেতে মেনে নেব।’ পুরুলিয়া কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘বিষয়টি সবে শুনেছি। খোঁজ নিচ্ছি।’

পুরুলিয়া–২ ব্লকের ছড়রা গ্রামের মনোজকেও একই মর্মে চিঠি দেওয়া হয়েছে। যদিও মনোজের মন্তব্য, ‘আমি এখনও চিঠি পাইনি। জানি না, কী অভিযোগ আনা হয়েছে। চিঠি পেলে দলীয় নির্দেশ পালন করব।’ সম্প্রতি সম্রাট সিং নামে রঘুনাথপুর বিধানসভা এলাকার যুব মোর্চার এক নেতাকেও একই অভিযোগে শো–কজ়ের চিঠি দেওয়া হয়েছিল। সম্রাট বলেন, ‘শো–কজ়ের জবাব দিয়েছি। বিষয়টি মিটেও গিয়েছে। সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল।’

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *