সহজ বিচারব্যবস্থা: সংস্কার-যাত্রায় এক রূপান্তরমূলক অভিযাত্রা - 24 Ghanta Bangla News
Home

সহজ বিচারব্যবস্থা: সংস্কার-যাত্রায় এক রূপান্তরমূলক অভিযাত্রা

Spread the love

অর্জুনরাম মেঘওয়াল

বিচার ব্যবস্থা সবসময়ই মানব সভ্যতার একটি অপরিহার্য ও অবিচ্ছেদ্য স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। প্রাচীন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সমৃদ্ধ বৈচিত্র এবং এর দীর্ঘস্থায়ী প্রতীকগুলি সম্মিলিতভাবে সেই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে প্রতিফলিত করে যা মানবজাতির যাত্রাপথকে রূপ দিয়েছে। বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ভৌগোলিক সীমানা ছাড়িয়ে অবাধে চিন্তার আদান-প্রদানকে যে আরও সহজতর করেছে সে নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

আমাদের জাতীয় সাফল্য নিয়ে আমরা অত্যন্ত গর্ব বোধ করি। তবুও, গত ১২ বছরের যাত্রাপথের দিকে তাকালে শাসনব্যবস্থার ক্ষেত্রে এক স্পষ্ট ও ইতিবাচক রূপান্তর পরিলক্ষিত হয়। এটি এমন এক পরিবর্তন যা নাগরিকদের জীবনের নানা দিককে স্পর্শ করেছে। ২০১৪ গণতান্ত্রিক যাত্রাপথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সে সময়ে উদীয়মান ভারতের পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর লক্ষ্যে নীতিগত পদক্ষেপের পরিধি ও ব্যাপ্তি বাড়ানো হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর গতিশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্বে শাসনব্যবস্থার সামগ্রিক কাঠামো ‘ক্ষমতায়নের শক্তি’-র পরিচয় দিয়েছে, যা ‘রিফর্ম এক্সপ্রেস’ বা সংস্কার-প্রক্রিয়ার চালিকাশক্তির মাধ্যমে এগিয়ে চলেছে। এই যাত্রাপথকে সংক্ষেপে এভাবে বর্ণনা করা যায়।

একই ভাবে, ভারতের বিচার বিভাগীয় সংস্কারের যাত্রাটি বিশাল পরিসর, উদ্ভাবন এবং গভীর সামাজিক ও সভ্যতা-কেন্দ্রিক অঙ্গীকারের এক অনন্য আখ্যান। এটি এমন এক সামগ্রিক ও বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন, যার মধ্যে রয়েছে আইনি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল উদ্ভাবন।

আমাদের কাছে ‘ইজ় অফ জাস্টিস’ (সহজ বিচার প্রাপ্তি) কেবল একটি শব্দবন্ধ নয় বরং একটি সংস্কার-মন্ত্র। এর আওতায় রয়েছে মামলাকারীদের জন্য ‘সহজ অংশগ্রহণ’, আইনজীবী ও বিচারকদের জন্য ‘সহজ কর্মপরিবেশ’ এবং নাগরিকদের জন্য ‘সহজ বোঝাপড়া’ বা আইনি বিষয়গুলো সহজে অনুধাবন করার সুযোগ।

মামলাকারীদের দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে, ‘ডিজ়াইনিং ইনোভেটিভ সলিউশনস ফর হোলিস্টিক অ্যাক্সেস টু জাস্টিস’ (দিশা) প্রকল্পের অধীনে ‘টেলি-ল’, ‘ন্যায় বন্ধু’ এবং ‘প্রো-বোনো’-র মতো নাগরিক-কেন্দ্রিক পরিষেবার সম্প্রসারণ বিচার ব্যবস্থাকে অত্যন্ত সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করে তুলেছে। ‘কমন সার্ভিস সেন্টার’-এর বিশাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাস্তবায়িত ‘টেলি-ল’ কর্মসূচির আওতায় গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের ১ কোটি ১২ লক্ষেরও বেশি মানুষ বিনামূল্যে মামলা-পূর্ব আইনি পরামর্শের সুবিধা পেয়েছেন। ‘ই-ফাইলিং’ এবং ‘ই-সেবা কেন্দ্র’-র মতো পরিষেবার মাধ্যমে বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থার সঙ্গে মামলাকারীদের নিয়মিত যোগাযোগ সহজতর হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে জনগণের অংশীদারিত্বের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা ভারতের এই অনন্য মডেলটি বিশ্বজুড়ে একটি আদর্শ মানদণ্ড হিসেবে উঠে আসছে।

লেখক: ভারত সরকারের আইন ও বিচার (দায়িত্বপ্রাপ্ত) প্রতিমন্ত্রী এবং সংসদীয় বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী)

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *