স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি থেকে চাকরির সুযোগ, বাজেটে ক্রীড়াক্ষেত্রে বড় চমক
স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি, খেলো ইন্ডিয়া প্রকল্প, নতুন স্টেডিয়াম ও পদকজয়ীদের চাকরির প্রতিশ্রুতি। রাজ্য বাজেটের একাধিক ঘোষণায় খুশি ক্রীড়ামহল।
বিট্টু দত্ত, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট (West Bengal Budget 2026) পেশ করেছে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এটি তাদের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ছিল। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত দুপুরে বাজেট পেশ করেন। শিল্প, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি ক্রীড়াক্ষেত্রের উন্নয়নেও এই বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাজেট পেশের আগে অর্থমন্ত্রী জানান, রাজ্যের আর্থিক অবস্থার সঙ্গে মানুষের প্রত্যাশার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, এমন একটি আধুনিক ও প্রগতিশীল বাংলা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য, যেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং শিল্পের বিকাশ ঘটবে। সেই বৃহত্তর উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ক্রীড়া ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ঘোষণা করা হয়েছে।
নতুন বাজেটে রাজ্যের ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকারের অন্যতম বড় ঘোষণা হল ‘খেলো ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির সূচনা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে জেলার পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকাতেও খেলাধুলার প্রসার ঘটানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আরও বেশি আকৃষ্ট করতে এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের চিহ্নিত করতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শুধু খেলাধুলা নয়, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ক্ষেত্রেও নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাজ্যে থ্রি-ডি অ্যানিমেশন কোর্স চালু করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে নতুন প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ক্রীড়া শিক্ষাকে আরও সংগঠিত ও পেশাদার পর্যায়ে নিয়ে যেতে একটি স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি গড়ে তোলার পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ক্রীড়া বিষয়ক প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ থাকবে। ফলে বাংলার খেলোয়াড়দের রাজ্যের মধ্যেই উন্নত মানের ক্রীড়া শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ পাওয়ার পথ আরও সহজ হবে।
উত্তরবঙ্গের ক্রীড়া উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক মানের একটি ইন্ডোর ও আউটডোর স্টেডিয়াম নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়াও রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে মিনি ইন্ডোর স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে জেলা ও মহকুমা স্তরে খেলাধুলার সুযোগ অনেকটাই বাড়বে।
খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠনগুলিকে উৎসাহিত করতেও একাধিক ঘোষণা করা হয়েছে। কোনও ক্লাব জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশ নিলে তাদের এক কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বা জাতীয় স্তরে সাফল্য অর্জনকারী পদকজয়ী ক্রীড়াবিদদের সরকারি চাকরির সুযোগ দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। ক্রীড়া পুরস্কার ও সম্মাননার জন্য আলাদা করে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
রাজ্যের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ আগেই জানিয়েছিলেন, প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে তাদের বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ ও আধুনিক পরিকাঠামো দেওয়াই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নতুন বাজেটের ঘোষণাগুলি সেই লক্ষ্য পূরণের দিকেই বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকাঠামো উন্নয়ন, আর্থিক সহায়তা এবং খেলো ইন্ডিয়া কর্মসূচির মাধ্যমে আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়া ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে যেতে পারে।