ভারতের নতুন ‘ব্রহ্মোস’ শক্তি, ১,৫০০ কিমি পাল্লায় শত্রুপক্ষ সরাসরি নিশানায়
Brahmos: পূর্ব লাদাখ থেকে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত চিনের আগ্রাসন মোকাবিলা এবং পাকিস্তানের প্রক্সি যুদ্ধ নস্যাৎ করার লক্ষ্যে ভারত তার সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রটির উৎপাদনের রূপরেখা…
Brahmos: পূর্ব লাদাখ থেকে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত চিনের আগ্রাসন মোকাবিলা এবং পাকিস্তানের প্রক্সি যুদ্ধ নস্যাৎ করার লক্ষ্যে ভারত তার সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রটির উৎপাদনের রূপরেখা চূড়ান্ত করেছে। বিশ্বের অন্যতম বিধ্বংসী সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল ‘ব্রহ্মোস’-এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেস’ বর্তমানে ১,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার ব্রহ্মস মিসাইলের একটি নতুন সংস্করণ তৈরির কাজ করছে।
সম্প্রতি, কোম্পানিটির সিইও এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড. জয়তীর্থ রাঘবেন্দ্র জোশী অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কৌশলগত এই প্রকল্পটির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেছেন। এই উন্নয়নটি কেবল উভয় রণাঙ্গনে ভারতের কৌশলগত শক্তিকে বহুগুণ বৃদ্ধি করবে না, বরং চিনের ‘অ্যান্টি-অ্যাক্সেস/এরিয়া ডিনায়াল’ (A2/AD) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর করে দেওয়ার সক্ষমতাও এর রয়েছে।
কৌশলগত সমীকরণ: ভারতের নাগালের মধ্যে চিন ও পাকিস্তান
১,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার এই নতুন সংস্করণটি ভারতের ‘ডিপ-স্ট্রাইক’ বা শত্রুর ভূখণ্ডের গভীরে আঘাত হানার সক্ষমতাকে আমূল বদলে দেবে—অর্থাৎ শত্রুর এলাকায় গভীরে প্রবেশ করে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর ক্ষমতাকে। এই নতুন সংস্করণটি ভারতের দুই প্রথাগত প্রতিপক্ষের জন্যই এক চরম হুমকি বা ‘নেমেসিস’ হিসেবে প্রমাণিত হবে।
চিনের তৎপরতার জবাবে একটি পদক্ষেপ:
বর্তমানে চিনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা—যেমন তিব্বতে অবস্থিত বিমানঘাঁটি এবং জিনজিয়াংয়ের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র—’লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল’ (এলএসি) থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থিত। তবে ১,৫০০ কিলোমিটার পাল্লাবিশিষ্ট ভারতীয় বিমানবাহিনীর সুখোই-৩০ এমকেআই (Sukhoi-30 MKI) যুদ্ধবিমানগুলো ভারতীয় আকাশসীমায় অবস্থান করেই চিনের মূল ভূখণ্ডের গভীরে থাকা কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু ও লজিস্টিক কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করতে সক্ষম হবে।
পাকিস্তানের সন্ত্রাসী পরিকল্পনা নস্যাৎ: এই পাল্লার ফলে পাকিস্তানের সমগ্র ভূখণ্ড—গোয়াদার বন্দর থেকে শুরু করে ইসলামাবাদ ও কায়েদ-ই-আজম বিমানঘাঁটি পর্যন্ত—ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ এবং সেনাবাহিনীর ‘মোবাইল অটোনোমাস লঞ্চার’ (MAL)-এর সরাসরি আঘাত হানার আওতায় চলে আসবে।
একে প্রতিহত করা অসম্ভব: ১,৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার সময়ও ব্রহ্মোস তার নিজস্ব গতিবেগ—ম্যাক ২.৮ (শব্দের গতির প্রায় তিন গুণ)—বজায় রাখবে। এমনকি চিনের ‘এইচকিউ-৯’ (HQ-9) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও এত দ্রুত ধেয়ে আসা এই ক্ষেপণাস্ত্রটিকে শনাক্ত বা প্রতিহত করতে ব্যর্থ হবে।