প্রশাসনিক মানচিত্রে বিরাট রদবদল! রাজ্য বাজেটে ৫ নতুন জেলার প্রস্তাব
কলকাতা: সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে নাগরিক পরিষেবা পৌঁছে দিতে রাজ্যের প্রশাসনিক পরিকাঠামোয় আমূল বদল আনতে চলেছে নতুন সরকার। সোমবার রাজ্য বাজেটে প্রশাসনিক…
কলকাতা: সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে নাগরিক পরিষেবা পৌঁছে দিতে রাজ্যের প্রশাসনিক পরিকাঠামোয় আমূল বদল আনতে চলেছে নতুন সরকার। সোমবার রাজ্য বাজেটে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে বড়সড় ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। একধাক্কায় রাজ্যে ৫টি নতুন জেলা এবং ৯টি নতুন পুরসভা গঠনের প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে এই বাজেটে।
প্রশাসনিক কাজের চাপ কমাতে এবং উন্নয়নের গতি বাড়াতে বেশ কয়েকটি বড় জেলাকে ভেঙে নতুন জেলা গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। প্রস্তাবিত নতুন ৫টি জেলা হল:
- কলকাতা (প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে বর্তমান বিন্যাসের পরিমার্জন)
- বসিরহাট
- সুন্দরবন
- জঙ্গিপুর
- আরামবাগ
৯টি নতুন পুরসভা গঠনের প্রস্তাব
রাজ্যের দ্রুত নগরায়ন এবং গ্রামীণ এলাকাগুলিতে শহরতলির মতো উন্নত পরিষেবা পৌঁছে দিতে ৯টি নতুন পুরসভা গঠনের মেগা ঘোষণাও রয়েছে এ দিনের বাজেটে। এই এলাকাগুলি হল: শিবমন্দির, গাজোল, চাঁচল, বেলদা, বাগনান, জয়গাঁ, কোলাঘাট, কামারপুকুর এবং টুঙ্গিদিঘি।
পুলিশ জেলা ও মহকুমায় রদবদল
কেবল জেলা বা পুরসভাই নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সুবিধার্থে আরও দু’টি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে-
পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে একটি সম্পূর্ণ নতুন ‘পুলিশ জেলা’ (Police District) তৈরি করা হবে। জঙ্গলমহলের প্রশাসনিক সুবিধার্থে ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরে একটি নতুন মহকুমা (Sub-division) গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, জেলা এবং মহকুমাগুলির আয়তন ছোট হলে সাধারণ মানুষের প্রশাসনিক কাজ মেটানো অনেক সহজ হয়। পাশাপাশি পুলিশ জেলা এবং পুরসভা তৈরি হলে এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক পরিষেবা (যেমন- পানীয় জল, রাস্তাঘাট, নিকাশি ব্যবস্থা) অনেক বেশি উন্নত হয়। নতুন সরকারের এই প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের সিদ্ধান্ত রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে এক বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।