‘গান কত মানুষের কাছে পৌঁছচ্ছে, সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ’
দেবলীনা ঘোষ
অন্য সময় প্রাইম: আপনার গান এখন অনেক নতুন প্রজন্মের রোম্যান্টিক প্লেলিস্টের অংশ। আজকের দিনে সঙ্গীতে প্রেমকে কী ভাবে দেখেন?
লক্ষ্য: আমার কাছে প্রেমের গান মানে এমন গান, যা শুনে আপনার মুখে হাসি ফোটে, কারও উপস্থিতি অনুভব করতে পারেন। হয়তো তিনি পাশে নেই। কিন্তু আপনি তাঁর উপস্থিতি অনুভব করতে পারবেন। একটা সুন্দর কল্পনার জগতে চলে যেতে পারবেন গানটা শুনে। এ ভাবেই আমি এখন রোম্যান্টিক গানকে দেখি।
অন্য সময় প্রাইম: ‘সোহনেয়া’ শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়েছিল। গানটির বিশেষত্ব কী ছিল?
লক্ষ্য: ‘সোহনেয়া’-তে খাঁটি ভালোবাসা আর এক ধরনের সরলতা ছিল, যা মানুষের খুব ভালো লেগেছিল। শ্রেয়া ঘোষালের সঙ্গে কাজ করাও গানটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছিল। দর্শকরা এত ভালোবাসা দিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।
অন্য সময় প্রাইম: ‘মেরা বনেগা তু’, ‘দিল সে দিল তক’ এবং ‘রঞ্ঝনা’, এর মধ্যে কোন গানটি আপনার কেরিয়ার সবচেয়ে বেশি বদলে দিয়েছে?
লক্ষ্য: এটা খুব কঠিন প্রশ্ন। যেমন বাবা-মা তাঁদের সন্তানদের মধ্যে কাউকে বেশি ভালোবাসেন না, তেমন আমিও একটি গানকে অন্যগুলোর থেকে আলাদা করতে পারি না। তবে একটি বেছে নিতে হলে বলব, ‘দিল সে দিল তক’। ওই গানটা আমার কাছে সব সময়ে বিশেষ।
অন্য সময় প্রাইম: আজকের ডিজিটাল যুগে একজন গায়কের জন্য ভাইরাল হওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
লক্ষ্য: আজকের দিনে আপনার কাজ, গান কত মানুষের কাছে পৌঁছচ্ছে, সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সোশ্যাল মিডিয়া আমার জীবনে বড় ভূমিকা নিয়েছে। আমার একটি রিল ভাইরাল হয়েছিল, যার মাধ্যমে বলিউডের অনেকের কাছে পৌঁছতে পেরেছিলাম। তাই গায়কের জীবনের যে পর্যায়েই থাকুন না কেন, ভাইরাল হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আমি অন্তত এমনটাই মনে করি।

অন্য সময় প্রাইম: সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ড কি আপনার গান বাছাইয়ে প্রভাব ফেলে?
লক্ষ্য: সত্যি বলতে, না। গান তৈরি করার সময়ে আমি শুধু ভাবি, আমার শ্রোতারা এটা পছন্দ করবেন কি না। এবং আমি নিজে এটা করতে উপভোগ করছি কি না। দু’টির উত্তর যদি ‘হ্যাঁ’ হয়, তা হলে সেটাই যথেষ্ট। অন্য কিছু নিয়ে ভাবি না।
অন্য সময় প্রাইম: আপনি সঙ্গীতের বাইরের একটি ক্ষেত্র থেকে এসেছেন। সেই যাত্রা আপনাকে কী শিখিয়েছে?
লক্ষ্য: আমি আগে উদ্যোক্তা ছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা আমাকে ছোটবেলাতেই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে শিখিয়েছে। সমস্যার চেয়ে সমাধানের দিকে বেশি মন দিতে শিখেছি। চ্যালেঞ্জ থাকবে, তার সমাধানও থাকে। সেটায় নজর দেওয়া দরকার।

অন্য সময় প্রাইম: বলিউডের কভার গান গাইতে বেশি ভালো লাগে, নাকি নিজের মৌলিক গান তৈরি করতে?
লক্ষ্য: অবশ্যই নিজের মৌলিক গান তৈরি করতে। তবে আমি নতুন ভাবনা ও পরীক্ষার জন্য সব সময় খোলা মন রাখি, যতক্ষণ না শ্রোতারা তা উপভোগ করছেন।
অন্য সময় প্রাইম: আজকের দিনে তরুণ প্লেব্যাক গায়কদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?
লক্ষ্য: প্রাসঙ্গিক থাকা। এখন শুধু গান গাইলেই হয় না, অনেক রকম ভূমিকা পালন করতে হয়। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে মানুষের নজরে থাকা খুব জরুরি। নিজের শিল্পকে আরও ভালো করার পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক থাকাও বড় চ্যালেঞ্জ।
অন্য সময় প্রাইম: স্বাধীন সঙ্গীত কি বলিউড সঙ্গীতের আধিপত্যকে বদলে দিচ্ছে?
লক্ষ্য: ইন্ডিপেনডেন্ট মিউজ়িক দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে এবং প্রাপ্য স্বীকৃতি পাচ্ছে। আমি এটাকে প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখি না। বরং এটি শিল্পীদের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি করছে।
অন্য সময় প্রাইম: কোন আন্তর্জাতিক শিল্পীর সঙ্গে কাজ করতে চান?
লক্ষ্য: আমি অ্যাডেলের সঙ্গে কাজ করতে চাই।
অন্য সময় প্রাইম: বিশ্ব সঙ্গীত দিবসে, আপনার মতে, বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষকে একত্রিত করতে সঙ্গীতের ভূমিকা কী?
লক্ষ্য: সঙ্গীত মানুষের অনুভূতিকে জাগিয়ে তোলে। তা সে দুঃখ হোক, আনন্দ হোক, উত্তেজনা বা ভালোবাসা হোক। ব্যস্ত জীবনের মধ্যে সঙ্গীত শান্তি ও স্বস্তি দেয়। যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষকে একসূত্রে বাঁধার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে সঙ্গীতের। এর থেকে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে! আমি চাই, মানুষ আমাকে ‘ভয়েস অফ লাভ’ হিসেবে মনে রাখুন। আমার গান যেন মনে থেকে যায়।