জামাই যখন স্বয়ং ঈশ্বর, নবদ্বীপের এই মন্দিরের জামাইষষ্ঠী পালনের কথা জানলে চমকে যাবেন
চৈতন্যেদেবের জন্য রীতিমত রাজসিক ভোগের আয়োজন করা হয়। সকালে বাল্য ভোগে রুপোর রেকাবিতে সাজিয়ে দেওয়া হয় অন্তত ৫ রকমের মরশুমি ফল। রুপোর বাটিতে ক্ষীর, রুপোর গ্লাসে জল।
তার পর থাকে চিঁড়ে, মুড়কি, দই, আম, কাঁঠাল ও মিষ্টি। মধ্যাহ্নভোজে নানা তরকারি, ডাল, ভাজা, থোড়, মোচার ঘন্ট, বেগুন পাতুরি, ছানার ডালনা, ধোকার ডালনা, লাউ, চালকুমড়ো এবং পোস্ত দিয়ে রাঁধা রকমারি সব পদ। সবটাই অবশ্য নিরামিষ, এখানে আমিষ হয় না। তাতে কি, এমন রান্না পেলে ফেল মাছ-মাংসও। তার পর দুপুরের ঘুম। শয়ন দিয়ে দেওয়া হয় ঠাকুরকে।
বিকেলে নিমাইয়ের উত্থানভোগে থাকে ছানা আর মিষ্টি। রাতে শয়নের আগে দেওয়া হয় গাওয়া ঘিয়ে ভাজা লুচি আর তার সঙ্গে মালপোয়া ও রাবড়ি। সবার শেষে সুগন্ধি দেওয়া খিলি পান। তবে জামাইষষ্ঠীর স্পেশাল হিসেবে জামাইয়ের জন্য থাকে রুপোর গ্লাসে গাছপাকা আমের রস ক্ষীরের সঙ্গে পাক দিয়ে তৈরি আমক্ষীর।
বাঙালির সংস্কৃতিতে ঈশ্বরকে কখনও কন্যা, কখনও সন্তান, আবার কখনও পরিবারের সদস্য হিসেবে দেখার যে চিরন্তন ধারা রয়েছে, নবদ্বীপের এই জামাইষষ্ঠী তারই এক অনন্য নিদর্শন। এখানে ভক্তি ও পারিবারিক স্নেহ একাকার হয়ে মহাপ্রভুকে তুলে ধরে ‘ঘরের জামাই’-এর মর্যাদায়।