বেলাগাম জঙ্গীপনায় উস্কানি কাদের? বাংলাদেশের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার পাক আগ্নেয়াস্ত্র - 24 Ghanta Bangla News
Home

বেলাগাম জঙ্গীপনায় উস্কানি কাদের? বাংলাদেশের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার পাক আগ্নেয়াস্ত্র

Spread the love

ঢাকা: বেলাগাম জঙ্গিপনা এবং শরীয়তের দোহাই দিয়ে নির্যাতন এখন বাংলাদেশের রোজনামচা (pakistani)। তবে ভাবার বিষয় এই জঙ্গিপনা এবং ধর্মীয় উস্কানিতে মদত দিচ্ছে কারা। দীর্ঘদিন ধরেই…

ঢাকা: বেলাগাম জঙ্গিপনা এবং শরীয়তের দোহাই দিয়ে নির্যাতন এখন বাংলাদেশের রোজনামচা (pakistani)। তবে ভাবার বিষয় এই জঙ্গিপনা এবং ধর্মীয় উস্কানিতে মদত দিচ্ছে কারা। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ আসছে বাংলাদেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় লুকিয়ে রাখা হচ্ছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র। সম্প্রতি তার জ্বলন্ত উদহারণ পাওয়া গিয়েছে আশুলিয়ার একটি মাদ্রাসার ভিতরে। সেখানে সাজানো আগ্নেয়াস্ত্র, তাও আবার দেশীয় নয় খোদ পাকিস্তানি।

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় একটি মাদ্রাসার নির্মাণাধীন ভবনের টয়লেট থেকে ‘মেইড ইন পাকিস্তান’ লেখা একটি রিভলবার ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৪। ঘটনাটি ঘটেছে শ্রীপুর গণকবাড়ী এলাকার তাহফিজুল কুরআনিল কারিম ফাজিল মাদ্রাসায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে র‍্যাব সদস্যরা অস্ত্রটি উদ্ধার করে। এ ঘটনা দেশজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে দিয়েছে।

আরও দেখুনঃ ফের বেলাগাম জঙ্গিপনা! সিলেটে ‘নারায়ে তাকবীর’ স্লোগানে বাউলের মঞ্চ ভাংচুর উগ্রবাদীদের

বেলাগাম জঙ্গিপনা ও অস্ত্রের অনুপ্রবেশের আশঙ্কা যেন দিন দিন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।র‍্যাব জানিয়েছে, মাদ্রাসার নির্মাণাধীন ওয়াশরুমের মেঝেতে ইটের নিচে লুকানো অবস্থায় একটি ছেঁড়া হলুদ শপিং ব্যাগের ভেতর সবুজ পলিথিনে মোড়ানো রিভলবারটি পাওয়া যায়। অস্ত্রটির ব্যারেল, সিলিন্ডার, ট্রিগারসহ বিভিন্ন অংশ অক্ষত। এটি আট চেম্বারবিশিষ্ট এবং ২২ বোরের দুটি কার্তুজও উদ্ধার হয়েছে।

র‍্যাব সদস্যরা অস্ত্রটি আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করেছে। মালিকানা শনাক্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।স্থানীয়রা এ ঘটনায় চরম আতঙ্কিত। একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এমন অস্ত্র উদ্ধার হওয়া কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। মাদ্রাসাটি তাহফিজুল কুরআনিল কারিম নামে পরিচিত যেখানে কুরআনের হিফজ ও ফাজিল শ্রেণির পড়াশোনা হয়। নির্মাণাধীন ভবনটি সম্প্রসারণের কাজ চলছিল।

কিন্তু সেখানে অস্ত্র লুকানোর ঘটনা প্রশ্ন তুলেছে এটি কি কোনো বড় চক্রের অংশ? কারা এই অস্ত্র এনেছে? কাদের উদ্দেশ্যে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল?এ ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রবাদ ও জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগ বেড়েছে। সিলেটের বিশ্বনাথে গানের অনুষ্ঠানে হামলা, বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় অজুহাতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর চাপ এসব ঘটনার মাঝে অস্ত্র উদ্ধারের খবর নতুন করে আতঙ্ক বাড়িয়েছে।

অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দেশে অস্ত্রের অনুপ্রবেশ বেড়েছে কি না। বিশেষ করে পাকিস্তানি অস্ত্রের উপস্থিতি অনেকের কাছে গভীর সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে।বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হাজার হাজার শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করে। কূটনীতিক মহলের দাবি এই ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি জঙ্গি তৎপরতার আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়, তাহলে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা ও সমাজের উপর প্রভাব পড়বে।

সাধারণ মুসল্লি ও অভিভাবকরা চান না যে তাদের সন্তানদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অন্ধকারের ঠিকানা হয়ে উঠুক।এ ঘটনায় প্রশাসনের দায়িত্ব অনেক বড়। র‍্যাবের অভিযান প্রশংসার দাবি রাখে, কিন্তু এর পেছনের চক্র উন্মোচন করা জরুরি। কোনো রাজনৈতিক আশ্রয় বা বিদেশি যোগসাজশ থাকলে তা বের করে আনতে হবে। দেশের নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক ও মূলধারায় আনার উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে কোনো প্রতিষ্ঠান অপব্যবহার না হয়।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *