টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন কলকাতা! যানজটে ভোগান্তি মানুষের
কলকাতা: দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হতেই বৃষ্টির দাপটে নাজেহাল অবস্থা কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যের। শুক্রবার সকাল থেকেই শহরের আকাশ মেঘলা ছিল, এরপর শুরু হয় টানা বৃষ্টিপাত।…
কলকাতা: দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হতেই বৃষ্টির দাপটে নাজেহাল অবস্থা কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যের। শুক্রবার সকাল থেকেই শহরের আকাশ মেঘলা ছিল, এরপর শুরু হয় টানা বৃষ্টিপাত। প্রবল বৃষ্টির জেরে কলকাতার একাধিক এলাকায় জল জমে জনজীবন কার্যত ব্যাহত। জলমগ্ন সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভের বিস্তীর্ণ এলাকা। এদিকে আলিপুর আবহাওয়া দফতর দক্ষিণবঙ্গের ১০টি জেলায় হলুদ সতর্কতা (Yellow Alert) জারি করেছে। (kolkata rain waterlogging)
টানা বৃষ্টির ফলে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংযোগকারী প্রধান সড়কে ব্যাপক জল জমেছে। ফলে বিমানবন্দরগামী যাত্রীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, জলমগ্ন এলাকাগুলি থেকে দ্রুত জল সরানোর কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, আমহার্স্ট স্ট্রিট চত্বর এবং সল্টলেকের মতো জলমগ্ন এলাকাগুলিতে পুরসভার পাম্পিং স্টেশন ও বিশেষ গাড়ি ব্যবহার করে জল নিষ্কাশন করা হচ্ছে। শুক্রবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৪.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি এখনও পুরোপুরি কাটেনি।
দক্ষিণবঙ্গে বাড়ছে বৃষ্টির পরিমাণ
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়বে। ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি এবং পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানে আগামী কয়েকদিন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প প্রবেশ করায় বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
উত্তরবঙ্গে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে রবিবার পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) জানিয়েছে, ২৪ জুন পর্যন্ত দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং উত্তর দিনাজপুর জেলায় বৃষ্টির দাপট অব্যাহত থাকবে।
বিশেষ করে আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ির কিছু এলাকায় ২০ সেন্টিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। মালদহ এবং দুই দিনাজপুর জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রাজ্যজুড়েই আবহাওয়ার এই বড় পরিবর্তনে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলেছে হাওয়া অফিস। প্রয়োজন ছাড়া জলমগ্ন এলাকায় যাতায়াত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।