ভারতের বিরুদ্ধে চিনের নতুন কৌশল! বাংলাদেশকে জে-১০সিই যুদ্ধবিমান সরবরাহ করবে চিন - 24 Ghanta Bangla News
Home

ভারতের বিরুদ্ধে চিনের নতুন কৌশল! বাংলাদেশকে জে-১০সিই যুদ্ধবিমান সরবরাহ করবে চিন

Spread the love

বাংলাদেশ শীঘ্রই ভারতের প্রধান প্রতিপক্ষ চিনের কাছ থেকে ২০টি ‘জে-১০সিই’ (J-10CE) মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান কিনতে পারে। এই চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ধারণা করা…

বাংলাদেশ শীঘ্রই ভারতের প্রধান প্রতিপক্ষ চিনের কাছ থেকে ২০টি ‘জে-১০সিই’ (J-10CE) মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান কিনতে পারে। এই চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো যুক্ত হলে বাংলাদেশের বায়ু শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। ভারতীয় সামরিক বিশেষজ্ঞরা এই পদক্ষেপটিকে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের সামরিক বলয় তৈরি এবং কৌশলগত প্রতিযোগিতার বৃহত্তর প্রেক্ষাপট থেকে দেখছেন। J-10CE হলো সেই একই যুদ্ধবিমান যা পাকিস্তান ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছিল। পাকিস্তান ও চিনের দাবি, ভারতের রাফাল (Rafale) যুদ্ধবিমানের তুলনায় J-10CE অধিকতর ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে।

চিন-বাংলাদেশ J-10C চুক্তির আওতায় কী কী থাকছে?

এই চুক্তির আনুমানিক মূল্য ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চুক্তির অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধবিমান, লজিস্টিকস বা রসদ সহায়তা, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা। এটি কেবল বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যুদ্ধক্ষমতাই বৃদ্ধি করবে না, বরং ভারতের সংবেদনশীল পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের ঠিক কাছে চিনের প্রতিরক্ষা-শিল্প সংক্রান্ত উপস্থিতিও জোরদার করবে। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর দায়িত্ব গ্রহণকারী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চিনের সাথে এই চুক্তিটি করেছিল। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আঞ্চলিক অনিশ্চয়তার এই সময়ে এটি বাংলাদেশের বাহ্যিক নিরাপত্তা অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

চিনকে ১০ বছরে অর্থ পরিশোধ করবে বাংলাদেশ

বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই কেনাকাটার মূল্য ১০ বছরে কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে এবং ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে বিমানগুলো হস্তান্তর করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশ দেশের আর্থিক পরিস্থিতির ওপর তাৎক্ষণিক ও ভারী কোনো বোঝা না চাপিয়েই তার ট্যাকটিক্যাল এভিয়েশন বহরকে আধুনিক করে তুলতে পারবে। ভারতের সামরিক ও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এই চুক্তিটির ওপর নিবিড় নজর রাখছেন, কারণ জে-১০সিই (J-10CE) হলো ৪.৫ প্রজন্মের একটি যুদ্ধবিমান। এটি অ্যাক্টিভ ইলেকট্রনিকলি স্ক্যানড অ্যারে (AESA) রাডার, আধুনিক ডেটা লিঙ্ক, দৃষ্টিসীমার বাইরে আঘাত হানতে সক্ষম (BVR) ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সুবিধা এবং নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা দ্বারা সুসজ্জিত।

ভারতের জন্য ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ

ভারতের মূল ভূখণ্ডকে ঘিরে চিন-নেতৃত্বাধীন আঞ্চলিক সামরিক কাঠামো শক্তিশালী হওয়া নিয়ে যে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে, বাংলাদেশের চিনা যুদ্ধবিমান ব্যবস্থার (ইকোসিস্টেম) প্রতি আগ্রহ তাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে—যে ব্যবস্থাটি পাকিস্তান ইতিমধ্যেই ব্যবহার করছে। ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি অবস্থানে বাংলাদেশের অবস্থানের কারণে ভারতের কৌশলগত উদ্বেগও বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটি শিলিগুড়ি করিডোর—যা সাধারণত ‘চিকেনস নেক’ (Chicken’s Neck) বা ‘মুরগির ঘাড়’ নামে পরিচিত—তার সন্নিকটে অবস্থিত; এই করিডোরটি একটি সরু ভূখণ্ডের মাধ্যমে ভারতের মূল ভূখণ্ডকে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সাথে সংযুক্ত করেছে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *