Health Tips: দিনে কটা ডিম খাওয়া নিরাপদ জানেন? | How many eggs can you eat a day safely bengali health tips - 24 Ghanta Bangla News
Home

Health Tips: দিনে কটা ডিম খাওয়া নিরাপদ জানেন? | How many eggs can you eat a day safely bengali health tips

Spread the love

প্রাতরাশে সেদ্ধ ডিম হোক কিংবা রাতে গরম ভাতের সঙ্গে ডিমের ডালনা—বাঙালির খাদ্যতালিকায় ডিমের জনপ্রিয়তা চিরন্তন। কম খরচে মেদহীন প্রোটিনের অন্যতম সেরা উৎস হল এই ‘সুপারফুড’। কিন্তু ডিম খাওয়া নিয়ে বিতর্কেরও শেষ নেই। কেউ বলেন রোজ ডিম খাওয়া হার্টের জন্য ক্ষতিকর, আবার কারও মতে কুসুম বাদ দিয়ে শুধু সাদা অংশ খাওয়া উচিত। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মনে প্রায়শই প্রশ্ন জাগে— সুস্বাস্থ্যের জন্য দিনে ঠিক ক’টি ডিম খাওয়া উচিত?

এই বিষয়ে সম্প্রতি American Heart Association-এর পুষ্টিবিজ্ঞান এবং চিকিৎসকদের একাংশ এক যুগান্তকারী তথ্য সামনে এনেছেন, যা ডিম নিয়ে বহুদিনের চেনা ধারণাকে বদলে দিয়েছে।

ডিম নিয়ে কেন এত সংশয়?

একটা সময় মনে করা হতো ডিমের কুসুমে প্রচুর পরিমাণে কোলেস্টেরল থাকে, যা রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ডিমের মধ্যে যে কোলেস্টেরল থাকে (Dietary Cholesterol), তা সরাসরি মানুষের রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (LDL) বাড়ায় না। বরং শরীরে স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং ট্রান্স ফ্যাটের আধিক্যই কোলেস্টেরল বাড়ার প্রধান কারণ। ডিমের কুসুমে উল্টে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভালো কোলেস্টেরল (HDL) থাকে, যা হার্টের সুরক্ষায় সাহায্য করে।

দিনে ক’টি ডিম নিরাপদ?
পুষ্টিবিদদের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কোনও দ্বিধা ছাড়াই দিনে ১ থেকে ২টি সম্পূর্ণ ডিম (কুসুমসহ) খেতে পারেন। যাঁরা নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম করেন, জিমে যান বা খেলোয়াড়, তাঁদের প্রোটিনের চাহিদা বেশি থাকে। তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দিনে ৩-৪টি ডিমও খেতে পারেন, তবে সেক্ষেত্রে কুসুমের সংখ্যা সীমিত রেখে ডিমের সাদা অংশের ওপর জোর দেওয়া উচিত।

তবে যাঁদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগের মতো ক্রনিক সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে সপ্তাহে ৩ থেকে ৪টির বেশি কুসুম না খাওয়াই শ্রেয়। তাঁরা ডিমের সাদা অংশ অনায়াসে রোজ খেতে পারেন।

ডিমের পুষ্টিগুণ: কেন খাবেন?
ডিমকে পুষ্টির ‘পাওয়ারহাউস’ বলা চলে। একটি সম্পূর্ণ ডিমে রয়েছে, উচ্চমানের প্রোটিন। যা পেশি গঠনে ও ক্ষয়পূরণে সাহায্য করে। রয়েছে কোলিন। যা মস্তিষ্কের কার্যকারিতা সচল রাখতে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়াতে অত্যন্ত জরুরি। রয়েছে লুটেইন ও জিক্সাথিন। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দুটি চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে এবং বয়সের কারণে চোখ নষ্ট হওয়া রোধ করে। ডিমে ভিটামিন ডি, বি-১২, সেলেনিয়াম এবং জিঙ্ক থাকে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

পুষ্টিবিদদের মতে, ডিম কীভাবে রান্না করা হচ্ছে, তার ওপরও এর গুণাগুণ নির্ভর করে। অতিরিক্ত তেল-মসলা দিয়ে ডিমের কারি বা চিজ-মাখন দিয়ে ওমলেট বানিয়ে খেলে ডিমের আসল পুষ্টিগুণ নষ্ট হতে পারে এবং ক্যালরির পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই ডিমের সবটুকু উপকার পেতে জল-সেদ্ধ (Boiled Egg) বা সামান্য তেলে পোচ (Poached Egg) করে খাওয়াই স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে সেরা বিকল্প।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *