বাড়ি থেকে পালিয়েও ইচ্ছে অধরা রইল দুই ভাইয়ের
শুভাশিস সৈয়দ, লালগোলা
‘বাড়ি থেকে পালিয়ে’-এর কথা মনে আছে? শিবরাম চক্রবর্তীর বিখ্যাত এই কিশোর উপন্যাসের মূল চরিত্র ছিল ১৩ বছরের কাঞ্চন। বাবার শাসন ও একঘেয়ে জীবনে হাঁপিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে কলকাতা চলে গিয়েছিল। সেই কাঞ্চনের সঙ্গে কোথাও যেন মিল রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলার ১১ বছরের রাহানের (নাম পরিবর্তিত)।
বাড়ির শাসন ও গ্রাম্যজীবন থেকে বাঁচতে রাহানও বাড়ি ছেড়ে ট্রেনে চড়ে বসে। উদ্দেশ্য ছিল কলকাতার চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখবে, দিঘার সমুদ্রে স্নান করবে। কাঞ্চন বাড়ি ছেড়েছিল একা। আর পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রটি সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল সাত বছরের খুড়তুতো ভাইকে। সম্বল বলতে স্কুলের টিফিনের খরচ থেকে জমিয়ে রাখা মাত্র ৩,৫০০ টাকা। শিয়ালদহ স্টেশনের রেল পুলিশ আটক করে দুই ভাইকে। পরে পরিবারের লোকজন লালগোলা থেকে গিয়ে তাদের নিয়ে আসে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সকালে স্কুল যাওয়ার নাম করে বাড়ি ছেড়েছিল রাহান। সঙ্গে ছিল খুড়তুতো ভাইকে। লালগোলার কৃষ্ণপুর স্টেশন থেকে লালগোলা-রানাঘাট মেমু ট্রেনে চড়ে তারা পৌঁছয় কৃষ্ণনগর স্টেশনে। সেখানে ট্রেন বদলে শিয়ালদহ স্টেশনে নামতেই রেল পুলিশ তাদের পাকড়াও করে রাখে। রাহানের কাকা জানান, সে দিন তাঁর ছেলের স্কুল ছুটি ছিল। কিন্তু রাহানের স্কুল ছিল। ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে রাহানের স্কুলে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন সে-ও অনুপস্থিত। লালগোলা থানায় লিখিত অভিযোগ জানান তাঁরা।
সেই সঙ্গে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায় দু’জনে স্টেশনের দিকে যাচ্ছে। এর পরে লালগোলা থানার ওসি অমিত ভকত দুই ভাইয়ের ছবি পাঠিয়ে শিয়ালদহ পর্যন্ত প্রতিটি স্টেশনের রেল পুলিশকে সতর্ক করেন। শিয়ালদহ স্টেশনে নামতেই ছবি দেখে দুই নাবালককে শনাক্ত করে রেল পুলিশ। লালগোলা থানার এক অফিসার জানান, রেল পুলিশের কাছ থেকে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজনকে পাঠানো হয় শিয়ালদহ স্টেশনে। তাঁরা গিয়ে দু’জনকে মঙ্গলবার রাতে বাড়িতে নিয়ে এসেছেন।
বুধবার সকালে তাদের থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয়। পুলিশের দাবি, তারা জানিয়েছে বছর খানেক আগে পরিবারের সঙ্গে দিঘায় ঘুরতে গিয়েছিল রাহান। তখন ওর সমুদ্র ভালো লেগেছিল। এ বার ভাইকে চিড়িয়াখানা দেখানোর পাশাপাশি দু’জনে সমুদ্রে স্নান করার পরিকল্পনা করেছিল। তাই বাড়ি থেকে পালিয়েছিল। কাঁদো কাঁদো গলায় রাহান জানায়, পুলিশ কাকুদের জন্য তাদের ইচ্ছেপূরণ হলো না।