Sourav Ganguly vs Avishek Dalmiya: এবার সরাসরি সংঘাত! সৌরভ চিঠি দিতেই ‘লড়াই’ একেবারে প্রকাশ্যে | Sourav Ganguly vs Avishek Dalmiya duel in Bengal Cricket
মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলেন সৌরভImage Credit: TV9 Bangla
কলকাতা: এতদিন ধরে চাপা ছিল। এবারে মনে হচ্ছে লড়াইটা প্রকাশ্যেই এসে গিয়েছে। এক দশক আগে জগমোহন ডালমিয়া মারা যাওয়ার পর নবান্ন থেকে সিএবি-র (CAB) সভাপতি আর সচিব ঠিক করে দিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। যা নিয়ে ময়দানে অনেকে সমালোচনাও করেন। দু’জনে একসঙ্গে কাজ শুরু করলেও, প্রশাসনিক স্তরে আর দু’জনে এক জায়গায় নেই। এমনটাই শোনা যায় ময়দানে। এবারে একদম আড়াআড়ি ভাগ হয়ে গেল দুই শিবির। অন্তত ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে চিঠির যুদ্ধে তেমনই ইঙ্গিত মিলেছে।
একজন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। অন্যজন অভিষেক ডালমিয়া। গত বছর সিএবি-তে নির্বাচন না হলেও, একপ্রকার আড়াআড়ি ভাগ হয়ে যায় দুই শিবির। এতদিন ধরে লড়াইটা আড়ালে আবডালে চলতে থাকলেও, এখন অনেকটাই যেন উন্মুক্ত। অন্তত বুধবার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সিএবি-র চিঠিতে তেমনই আভাস।
প্রথমে অভিষেকের চিঠি
দিন চারেক আগে নব মহাকরণে গিয়ে রাজ্যের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ-কে একটি চিঠি দেন সিএবির প্রাক্তন সভাপতি অভিষেক ডালমিয়া। ময়দানে বিগত কয়েক বছরে ঘটে চলা দুর্নীতির অভিযোগের কথা সেই চিঠিতে উল্লেখ করেন অভিষেক। সিএবি বা ক্রিকেটে দুর্নীতির কথা আলাদা ভাবে উল্লেখ না করলেও, তা বুঝে নিতে অসুবিধা হয়নি ক্রীড়ামহলের। এমনকী খেলোয়াড়, খেলোয়াড়দের অভিভাবক, কোচ, সাপোর্ট স্টাফদের জন্য একটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করার আবেদন জানান অভিষেক। ময়দানে দুর্নীতি রুখতে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়ার কথাও আবেদন করেন। চিঠিটি সমাজমাধ্যমেও প্রকাশ্যে আনেন তিনি।
গতকাল, মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, তিনি অভিষেক ডালমিয়ার চিঠি পড়েছেন। কয়েকদিনের মধ্যেই তাঁর সঙ্গে সামনাসামনি আলোচনায় বসবেন।
এবার সৌরভের চিঠি
ক্রীড়ামন্ত্রীর মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নব মহাকরণে গেলেন সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সঙ্গী সিএবির কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস। রবিবার সন্ধ্যায় বেঙ্গল টি-২০ লিগের ফাইনালে ক্রীড়ামন্ত্রীকে ইডেনে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানান সৌরভ। এরইসঙ্গে দেন সিএবি-র তরফ থেকে একটি আলাদা চিঠি। আর এখানেই ‘কহানি মে টুইস্ট’।
সৌরভের নেতৃত্বাধীন সিএবি-র দেওয়া এই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ফেসবুকে অভিষেক ডালমিয়ার পোস্টের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি তাঁরা জানতে পারেন। সিএবিতে ইতিমধ্যেই একজন এথিক্স অফিসার নিযুক্ত আছেন। তিনি কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য। যে কোনও ধরনের আপত্তিকর বিষয়ের প্রশ্ন উঠলেই সিএবি সর্বদা সজাগ থাকে। অর্থাৎ আগেভাগেই সিএবি-র ভাবমূর্তিতে স্বচ্ছতা বজায় রেখে চলার বার্তা সেই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সহ বাকি চার শীর্ষ পদাধিকারী কর্তাদেরও সই রয়েছে ওই চিঠিতে।
অভিষেকের চিঠিতে সিএবির কথা আলাদাভাবে উল্লেখ না থাকলেও, সিএবির চিঠিতে আগেভাগেই অভিষেকের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা বিবৃতি জারি করা হয়। ২০২২ সাল পর্যন্ত বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন অভিষেক ডালমিয়া। প্রথমে সচিব, পরবর্তীতে সভাপতি। শেষ কয়েক বছরে ক্রমেই সিএবির বর্তমান শাসক শিবিরের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বেড়েছে। ময়দানও দুই শিবিরে ভাগ হতে শুরু করেছে বেশ কয়েক বছর ধরে। সিএবির অধীনস্থ বিভিন্ন ক্লাব, ইউনিভার্সিটি, জেলা ক্রিকেট সংস্থাতেও দুই শিবির নিজেদের মতো ভোটব্যাঙ্ক বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়েছে।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরেই ময়দানে বিভিন্ন সংস্থাগুলোয় ভোটাভুটি বন্ধ। ইলেকশনের বদলে শেষ মুহূর্তে সিলেকশন হতেই দেখা যায়। ব্যতিক্রম বেঙ্গল অলিম্পিক সংস্থাসহ আরও অল্প কিছু সংস্থা। এখন দেখার বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থায় এই পত্র-যুদ্ধের রেশ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়!