প্রতীক-যুদ্ধে ‘আপাতত’ না, বিদ্রোহী আরও এক
এই সময়: গুটি গুটি পায়ে সংখ্যা বাড়াচ্ছে বিধানসভায় বিদ্রোহী তৃণমূল শিবির। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়ক শিবিরের শক্তি বেড়ে ৬৫ হলো। সোমবার ঋতব্রত নিজেই এ কথা জানালেও নতুন কোন বিধায়ক বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখালেন, তা অবশ্য প্রকাশ্যে জানাতে চাননি। লোকসভায় জোড়াফুলের বিদ্রোহী সাংসদরা এনসিপিআইয়ের সঙ্গে মিশে গেলেও বিদ্রোহী বিধায়করা এমন কোনও পদক্ষেপ করছেন না বলে সোমবার ফের জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা।
এই প্রেক্ষাপটে বিধানসভার আসন্ন অধিবেশনের আগে, আজ, মঙ্গলবার সর্বদলীয় বৈঠক হতে চলেছে। সেই বৈঠকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত এবং বিরোধী সচেতক হিসেবে আখরুজ্জমান যোগ দিতে চলেছেন। তৃণমূলের লোকসভার বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদ রবিবার দিল্লিতে এনসিপিআইয়ে যোগ দিয়েছেন। এখন বিদ্রোহী বিধায়করা কী করবেন— সেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিধানসভার গেটে দাঁড়িয়ে এ দিন ঋতব্রত বলেন, ‘টেলিভিশনে আমরা দেখেছি, ২০ জন সাংসদ এনসিপিআইয়ে মার্জ করেছেন। এটা ওঁদের যৌথ সিদ্ধান্ত। আমাদের মধ্যে এ নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।’ কিন্তু বিদ্রোহী বিধায়করা কি আগামী দিনে ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে জোড়াফুল প্রতীক এবং ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’–এর নামের অধিকার চেয়ে নির্বাচন কমিশনে যাবেন? ঋতব্রতর কৌশলী উত্তর, ‘এ নিয়ে কী হবে তা আগামী সময় বলবে। কাল–পরশু কী হবে, তা এখন বলা যায় না। আপাতত এমন পরিকল্পনা নেই। আবার বলছি আপাতত।’
ঋতব্রতর নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী বিধায়ক শিবির এখন নিজেদের শক্তি বাড়িয়ে নেওয়ার পথে রয়েছে। বিধানসভায় সোমবার ফিরহাদ হাকিম বিরোধী দলনেতার কক্ষে এসে ঋতব্রতর সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টা কথা বলেন। এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা–সহ আরও কয়েকজন বিধায়ক সেখানে ছিলেন। এই বৈঠক নিয়ে বিশদে কিছু বলতে চাননি ঋতব্রত। বিরোধী দলনেতার সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, ‘ফিরহাদ হাকিম আমাদের বৈঠকে ছিলেন, উনি ব্যক্তিগত ভাবে আমার অভিভাবক।’
বিধানসভায় ঋতব্রতরা যে রেজ়োলিউশন জমা দিয়েছিলেন, সেখানে ৫৮ জন বিধায়ক স্বাক্ষর করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিদ্রোহী শিবিরের সংখ্যা বেড়ে ৬৪ হয়। ঋতব্রত এ দিন বলেছেন, ‘একজন বিধায়ক আজ (সোমবার) সই করেছেন। স্পিকারকে তিনি চিঠি দিয়েছেন। আমাদের সংখ্যা হলো ৬৫।’ বিদ্রোহী বিধায়ক শিবিরের নয়া সদস্য কি ফিরহাদ হাকিম? এই বিষয়টি স্পষ্ট করেননি বিরোধী দলনেতা। ঋতব্রতর কথায়, ‘স্পিকারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। যদি নাম প্রকাশ করা হয়, তা হলে স্বাধিকার ভঙ্গ হবে। এটা আমি করতে পারি না।’
বিদ্রোহী শিবিরের এমএলএ সংখ্যা ৬৫ হওয়ায় কালীঘাটের পাশে কতজন বিধায়ক শেষ পর্যন্ত থাকবেন, তা নিয়েই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আজ বিধানসভায় সর্বদলীয় বৈঠক ও কার্য উপদেষ্টা কমিটির মিটিংয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়–সহ এখনও কালীঘাটের নেতৃত্বের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা বিধায়করা উপস্থিত থাকবেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। আসন্ন অধিবেশনে বিধানসভায় বিদ্রোহী তৃণমূলের ভূমিকা কেমন হবে? ঋতব্রতর বক্তব্য, ‘সরকারের যেটা ভুল, সেখানে চোখে চোখ রেখে লড়াই হবে। বিজেপির সহযোগী শক্তি হিসেবে আমরা কাজ করব না।’
কালীঘাটে সোমবার শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষের মতো এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকা বিধায়করা একপ্রস্ত বৈঠক করেন। বিধানসভায় শোভনদেবরা কী রণকৌশল নেবেন, বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তৃণমূল সূত্রের খবর।