‘নেপালে পালালেও রেহাই নেই’, হুঁশিয়ারি অগ্নিমিত্রার
এই সময়, দুর্গাপুর: গত চার বছরে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে দুর্গাপুর পুরসভায়। এমনটাই দাবি করেছেন স্থানীয় দুই বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই ও চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বার সেই দুর্নীতির তদন্ত করার আশ্বাস দিলেন রাজ্যের পুর ও নগরন্নোয়ন দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
রবিবার দুর্গাপুরে প্রাক বাজেট বাণিজ্য সংক্রান্ত একটি আলোচনা সভায় অংশ নিতে এসেছিলেন অগ্নিমিত্রা। আলোচনা সভা শেষে দুর্গাপুর পুরসভার প্রসঙ্গ উঠতেই তিনি সাফ বলেন, ‘কাউকে রেয়াত করা হবে না। পুরসভায় দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
অগ্নিমিত্রা আরও বলেন, ‘যাঁরা দুর্নীতি করেছেন তৈরি থাকুন। তদন্ত শুরু হলে পালানোর পথ পাবেন না। দেশের যে প্রান্তে থাকুন, বার করে নিয়ে আসা হবে। নেপালে পালালে সেখান থেকেও ধরে নিয়ে আসব। দুর্নীতির সঙ্গে কোনও আপোস নয়।’
এর মধ্যে দুর্গাপুর পূর্ব কেন্দ্রের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় পুরসভা ও এডিডিএ–র কিছু দুর্নীতি সংক্রান্ত তথ্য জেলাশাসককে জানিয়েছেন। চন্দ্রশেখর বলেন, ‘পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বসতি আছে। নাম হঠাৎ কলোনি। এখানে সরকারি জমি প্লট করে মোটা টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। কারা এর নেপথ্যে রয়েছে, কারা মদত দিয়েছে তার বিস্তারিত রিপোর্ট জেলাশাসকের কাছে দেওয়া হয়েছে।’ এ ছাড়া দুর্গাপুর পুরসভার বিল্ডিং প্ল্যানিং, কেয়ারটেকার সমেত আরও যে সব বিভাগে দুর্নীতি হয়েছে সেই তথ্য জেলাশাসককে জানিয়েছেন বিধায়ক।
দুর্গাপুর পুরসভায় বিল্ডিং প্ল্যানিং বিভাগে দুর্নীতির জন্য এক কর্মীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁকে বীরভানপুর শ্মশানে স্থানান্তর করা হয়েছে। কেয়ারটেকার বিভাগে এক স্থায়ী কর্মী ও এক অস্থায়ী কর্মীকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অবৈধ ভাবে একাধিক বহুতল আবাসনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বিল্ডিং প্ল্যানিং বিভাগ থেকে। পুরসভার গাড়ির তেল চুরি করে প্রতি মাসে মোটা টাকা রোজগার করেছেন কেয়ারটেকার বিভাগের দুই কর্মী।
দুর্গাপুর পুরসভার প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র দিলীপ অগস্তি বলেন, ‘সাতটা টোল থেকে বছরে ন’কোটি টাকা আদায় হয় পুরসভার। শুধু সঠিক ভাবে পরিচালনা না–করার জন্য সেটা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বেশ কয়েকটি বিভাগে অনিয়ম হয়েছে। ফাইল পরীক্ষা করে দেখলে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।’