FIFA World Cup 2026, GER vs CUR: হিউস্টনে ফিরল এক যুগ আগের ব্রাজিলের অভিশাপ, কুরাসাওকে গোলের মালা পরাল জার্মানি! | Germnay beats Curacao by 7 1 on their first match in the FIFA World Cup 2026
গোল করার পর সেলিব্রেশন জার্মানির।Image Credit: AP/PTI
জার্মানি – ৭ (হাভার্টজ ২, ফেলিক্স মেচা, শ্লটারব্যাক, মুসিয়ালা, ব্রাউন, উভান্ড) : কুরাসাও – ১ (কমেনশিয়া)
হিউস্টন : গতকালের স্কোর দেখে বারবার মন চলে যাচ্ছিল প্রায় এক যুগ আগের ব্রাজিলে (Brazil)। এমনই এক বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026), এমনই এক জার্মানি দল (Germany)। সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল আয়োজক দেশ ব্রাজিলের। আগের ম্যাচেই সেই ব্রাজিল থেকে চোটের কারণে বিদায় ঘটে গিয়েছে সেই সময়ের উঠতি তারকা নেইমারের (Neymar Jr.)। এমতাবস্থায় জার্মানি ব্রাজিলকে ধ্বংস করে দিয়েছিল ৭-১ গোলে। ঘরের মাঠের দর্শকরা যত না বেশি হতাশ ছিলেন, তার থেকে বেশি ছিলেন স্তম্ভিত। এও কি সম্ভব? জার্মানদের কাছে এভাবে পরাজয়? শুধু পরাজয়ই না, এ যেন অসহায় আত্মসমর্পণ। এই ধাক্কা থেকে যে আজও বেরোতে পারেনি ব্রাজিল, তা মাঝেমধ্যেই বোঝা যায় তাদের সমর্থকদের উষ্মা থেকে। তবে সেই ফল আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরাল জার্মানি। কুরাসাওকে হারাল ৭-১ গোলে। এতো বছর এই হারের গ্লানি একা বয়ে বেড়িয়েছেন ব্রাজিল সমর্থকরা। আজ হয়ত তাঁদের এই ক্ষতে সামান্য হলেও প্রলেপ পড়বে।
কুরাসাওয়ের জনসংখ্যা? দেড় লাখের সামান্য বেশি। কোয়ালিফাইং রাউন্ডে এক স্বপ্নের দৌড় দৌড়ে অবশেষে বিশ্বমঞ্চে প্রথমবার স্থান পেয়েছে তারা। আর প্রথম ম্যাচেই প্রতিপক্ষ জার্মানি। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা যে ছেড়ে কথা বলবেন না, তা বোঝাই গিয়েছিল। কিন্তু কুরাসাওয়ের প্রশংসা করতেই হবে। ক্রমাগত গোল খেতে খেতেও একবারের জন্যও ডিফেন্সিভ খেলতে দেখা যায়নি তাদের। বরং, প্রত্যেক বার গোলের সুযোগ তৈরী করেছে কুরাসাও। ম্যাচের ৬ মিনিটেই এগিয়ে যায় জার্মানি। ফ্লোরিয়ান উইর্ৎজের পাস থেকে দুরন্ত শটে গোল করেন ফেলিক্স মেচা। যদিও ২১ মিনিটেই গোল শোধ করে দেন কমেনশিয়া, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে কুরাসাও দলের প্রথম গোল। এর পর থেকেই যেন তেড়েফুঁড়ে ওঠে জার্মানরা। পাস, তিকিতাকা, আক্রমণ – সব দিকেই যেন জ্বলে ওঠেন কিমিচরা। প্রথমার্ধের বিরতির ঠিক আগে পেনাল্টি থেকে গোল করে ৩-১ এগিয়ে যায় জার্মানি। দ্বিতীয়ার্ধেও কুরাসাওয়ের ডিফেন্সকে দুমড়ে-মুচড়ে দিল জার্মানি। যদিও জার্মানি যে আজকে ১১-১২ গোল করতে পারেনি, তার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব দিতে হবে কুরাসাও দলের রক্ষণভাগকে। প্রথমার্ধেই প্রায় ৪টি গোলমুখী শট প্রতিহত করেন কুরাসাওয়ের ডিফেন্ডাররা।
৭-১ গোলে হারার পরেও কুরাসাও দল প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। যেভাবে তারা জার্মানির মতো দলের বিরুদ্ধে গোল খেয়েও না হারা মনোভাব দেখিয়েছে, এটাই প্রমান করে তাদের তাগিদ কত। যদিও এই জয় জার্মানির কাছেও স্পেশাল কারণ ২০১৮, ২০২২ – শেষ দুই বিশ্বকাপেই গ্রূপ পড়বে বিদায় নিতে হয়েছে ম্যানুয়েল নয়ারদের। তাদের পরবর্তী ম্যাচ আইভরি কোস্টের সঙ্গে। সেই ম্যাচে জিতে রাউন্ড অফ ৩২ এর রাস্তা কি মসৃন করতে পারবে জার্মানি? সেই দিকেই নজর থাকবে প্রত্যেক ফুটবলপ্রেমীর।