FIFA World Cup 2026: দল ম্যাচ জিতল না, ম্যাচের পরেও মন জিতলেন জাপান সমর্থকরা! | Japan supporters won hearts after cleaning the stadium
ডালাস: আজ ভোররাতে বিশ্বকাপের ম্যাচে খেলা ছিল জাপান বনাম নেদারল্যান্ডস-এর। এই ম্যাচটি ২-২ ড্র হয়েছে ঠিকই কিন্তু যে বিষয় নিয়ে সবথেকে বেশি চর্চা হচ্ছে, তা হল ম্যাচের পর জাপান সমর্থকদের মাঠ পরিষ্কার। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে প্রথম বার দেখা গিয়েছিল এই ছবি, খেলা শেষে স্টেডিয়াম পরিষ্কার করছেন জাপানের সমর্থকেরা। সেই এক দৃশ্য দেখা গেল আমেরিকাতেও।
ম্যাচ শেষে দেখা গিয়েছে, স্টেডিয়ামে খেলা চলাকালীন গ্যালারিতে যা যা ময়লা পড়েছিল, সব উঠিয়ে পরিষ্কার করে বড় প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরতে দেখা যায় জাপান সমর্থকদের। ম্যাচ চলাকালীন স্টেডিয়ামে পড়ে থাকা জলের বোতল, প্লাস্টিক, চিপসের প্যাকেট – সব উঠিয়ে স্টেডিয়ামের বাইরে থাকা ডাস্টবিনে ফেলে তারপর মাঠ ছাড়েন জাপান সমর্থকরা। জাপানের সমর্থকদের এই কাজের ভিডিয়ো আরও এক বার সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। প্রত্যেকে তাঁদের মানসিকতার প্রশংসা করেছেন। কাতার বিশ্বকাপে নিজেদের ম্যাচ শেষে এই কাজ করতেন জাপানের সমর্থকেরা। এমনকি, অন্য কোনও দলের খেলা দেখতে মাঠে গেলে তার পরেও স্টেডিয়াম পরিষ্কার করতেন তাঁরা। বিশ্বকাপ ছাড়া অলিম্পিকেও এই একই দৃশ্য দেখা গিয়েছে জাপান সমর্থকদের মধ্যে।
তবে এই বিষয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, আদৌ কি এগুলো লোক দেখানো? নাকি সত্যিই এই পরিস্কার থাকার মাইন্ডসেট নিয়েই জন্মান জাপানিরা? অতীতে অলিম্পিক হোক বা বিশ্বকাপ – সব জায়গাতে কেন পরিষ্কার করতে উদগ্রীব হয়ে যান জাপানিরা?
ইউনাইটেড নেশনের ডেটা বলছে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা র্যাঙ্কিং-এ ২ নম্বরে জাপান। তাদের নম্বর ৭৩.৩। জাপানে জল বা কোল্ড ড্রিংকসের প্লাস্টিক বোতল রিসাইকেল করার হার প্রায় ৮৬.৯%। যেখানে আমেরিকা বা ইউরোপে এই হার মাত্র ২০ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে থাকে। Soft Drinks -এর অ্যালুমিনিয়াম ক্যান ৯৩.৯% এবং স্টিল ক্যান ৯২.৭% পর্যন্ত রিসাইকেল করা হয়। কার্ডবোর্ড বা কার্টন রিসাইকেলের হার প্রায় ৯৬.২% এবং কাগজ জাতীয় পণ্যের ক্ষেত্রে এই হার ৮৫.১%।
যেখানে আমাদের দেশে কোথাও গেলে সেই জায়গা পরিষ্কার করে আসা দূর, সেটিকে যত পারি আমরা নোংরা করি। সম্প্রতি একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, পাহাড়ে ট্রেক করতে গিয়ে ট্রেকাররা প্রচুর প্লাস্টিকের চিপসের প্যাকেট পেয়েছেন, যা প্রমান করে আমাদের মাইন্ডসেট। আর রাস্তায় পানের, গুটখার পিক ফেলা, যত্রতত্র প্রস্রাব করা, প্লেনেও গুটখার ছাপ ছেড়ে রাখা, কোনও কিছুই বাদ দেওয়া হয় না। আর সেখানে জাপান? তাদের একটি জনপ্রিয় প্রবাদ আছে, তাতসু তোরি এতো ও দোরোসাজু” অর্থাৎ, “উড়ে যাওয়ার সময় একটি পাখিও তার বসার জায়গাটি নোংরা করে যায় না।”
জাপানি সংস্কৃতিতে শেখানো হয় যে, আপনি যখন কোনো পাবলিক প্লেস (যেমন স্টেডিয়াম, পার্ক বা সিনেমা হল) ব্যবহার করবেন, তখন স্থানটি ছাড়ার আগে তা পরিষ্কার করে যাওয়া আপনার নৈতিক দায়িত্ব। জাপানের স্কুলগুলোতে কোনো ঝাড়ুদার থাকে না; ছোটবেলা থেকে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই নিজেদের ক্লাসরুম এবং টয়লেট পরিষ্কার করতে শেখে। গ্যালারি পরিষ্কার করার এই মানসিকতা মূলত সেই শৈশবের শিক্ষারই প্রমান। দেখা যাক, আমরা এই ঘটনা দেখে কোনও শিক্ষা নিই কি না।