বিদ্রোহী সাংসদ সংখ্যা বেড়ে ২২! দাবি কাকলির - 24 Ghanta Bangla News
Home

বিদ্রোহী সাংসদ সংখ্যা বেড়ে ২২! দাবি কাকলির

Spread the love

কলকাতা: দিল্লিতে রবিবার সন্ধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের তথাকথিত ‘বিদ্রোহী’ (TMC Rebel)সাংসদদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, বিজেপির শীর্ষ নেতা ভূপেন্দ্র…

কলকাতা: দিল্লিতে রবিবার সন্ধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের তথাকথিত ‘বিদ্রোহী’ (TMC Rebel)সাংসদদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, বিজেপির শীর্ষ নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। বৈঠকে যোগ দিতে ইতিমধ্যেই একে একে দিল্লিতে পৌঁছতে শুরু করেছেন সেই সব তৃণমূল সাংসদ, যাঁরা জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)-এর সমর্থনে থাকার পক্ষে মত দিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

রবিবার সকালে কলকাতা থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন কাকলি ঘোষদস্তিদার, মালা রায় ও সায়নী ঘোষ। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কাকলি জানান, এনডিএ-সমর্থক তৃণমূল সাংসদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তাঁর দাবি, বর্তমানে যে সংখ্যা ২০ বলে ধরা হচ্ছে, তা বেড়ে ২২-এ পৌঁছতে পারে। যদিও সেই অতিরিক্ত দুই সাংসদের নাম তিনি প্রকাশ করেননি।

আরও দেখুনঃ https://kolkata24x7.in/kolkata/cid-appearance-uncertain-what-will-abhishek-and-kunal-do/

রাজনৈতিক মহলের নজর এখন সেই সম্ভাব্য দুই সাংসদের দিকে। লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের মোট ২৮ জন সাংসদ রয়েছেন। তার মধ্যে ২০ জন ইতিমধ্যেই বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। ফলে বাকি রয়েছেন মাত্র আট জন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, সাজদা হোসেন, কীর্তি আজাদ, সৌগত রায়, শত্রুঘ্ন সিনহা এবং প্রতিমা মণ্ডল। কাকলির বক্তব্য যদি সত্যি হয়, তাহলে এই আট জনের মধ্যেই কেউ শিবির বদল করতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।

এরই মধ্যে শনিবার একটি ঘটনাও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দেখা যায়, তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত, তিনি শতাব্দী রায়ের সঙ্গে একই গাড়িতে করে ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে পৌঁছন। পরে তিনিও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে নাম জড়ান বলে খবর। এর ফলে বিদ্রোহী শিবিরের শক্তি আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সূত্রের খবর, রবিবারের বৈঠকের পর এক বিদ্রোহী সাংসদের বাসভবনে নৈশভোজেরও আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি সোমবার লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করতে পারেন এই সাংসদরা। সেখানে তাঁদের ভবিষ্যৎ কৌশল এবং সংসদীয় অবস্থান নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

তবে এই পরিস্থিতিতে একটি বড় সাংবিধানিক প্রশ্নও সামনে এসেছে। একই রাজনৈতিক দল এবং একই নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে কি সংসদে দুটি আলাদা গোষ্ঠী বা ব্লক হিসেবে থাকা সম্ভব? এই প্রশ্নের উত্তরে লোকসভার প্রাক্তন সেক্রেটারি জেনারেল ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ পি.ডি.টি. আচার্য জানিয়েছেন, সংসদীয় নিয়মে একই দলের ভিতরে আলাদা ব্লক তৈরির কোনও স্পষ্ট বিধান নেই। তাঁর মতে, শুধুমাত্র আলাদা বসার দাবি করলেই তা আইনি স্বীকৃতি পাবে না।

আচার্যের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যদি বিদ্রোহী সাংসদরা নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠ বলে দাবি করেন, তাহলে তাঁদের সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হতে হবে। সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিয়ে তাঁরা নিজেদের গোষ্ঠীকেই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি করতে পারেন। সেক্ষেত্রে বিষয়টি রাজনৈতিকের পাশাপাশি আইনি লড়াইয়েও পরিণত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে এই সাংসদরা চাইলে সরাসরি বিজেপিতেও যোগ দিতে পারেন। অতীতে অন্যান্য রাজনৈতিক দলেও এমন নজির রয়েছে। ফলে আগামী কয়েকদিনে দিল্লির বৈঠক এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন সকলের নজর দিল্লির এই বৈঠকের দিকে। বিদ্রোহী শিবিরের শক্তি আদৌ বাড়ছে কি না, নাকি এটি শুধুই রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল তার উত্তর মিলবে খুব শীঘ্রই।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *